ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জাপানের বায়োটেক পুরস্কার জিতলেন কুবি শিক্ষিকা ড. জান্নাতুল, প্রথম বাংলাদেশি


জাপানের বায়োটেক পুরস্কার জিতলেন কুবি শিক্ষিকা ড. জান্নাতুল, প্রথম বাংলাদেশি

কুবির ফার্মেসি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস জাপানের ‘এশিয়ান ইয়াং বায়োটেকনোলজিস্ট অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ অর্জন করেছেন। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) এই শিক্ষিকা প্রথম বাংলাদেশি গবেষক হিসেবে এ পুরস্কার লাভের গৌরব অর্জন করেছেন।

মঙ্গলবার (২ জুন) তিনি তার এই পুরস্কার পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। জাপানের সোসাইটি ফর বায়োটেকনোলজি (এসবিজে) তাকে বায়োটেকনোলজি গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ পুরস্কারে ভূষিত করে।

নিজের গবেষণা ও অর্জন প্রসঙ্গে ড. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘আমার গবেষণার মূল বিষয় ছিল ন্যানোটেকনোলজির মাধ্যমে উন্নত ড্রাগ ডেলিভারি সিস্টেম উদ্ভাবন। ওষুধ নির্মাণের ক্ষেত্রে আমরা প্রায়শই দ্রাব্যতা ও স্থায়িত্ব সংক্রান্ত নানা সমস্যার মুখোমুখি হই।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক, সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব আলোচনায়

এছাড়া গ্রোথ ফ্যাক্টর, প্রোটিনসহ বিভিন্ন জৈব অণু নিয়ে কাজ করতে গিয়ে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ দেখা দেয়।’

তিনি যোগ করেন, ‘আমার গবেষণার লক্ষ্য ছিল ন্যানোটেকনোলজি ব্যবহার করে এমন একটি ক্যারিয়ার সিস্টেম তৈরি করা, যা এসব জৈব অণুকে কার্যকরভাবে নির্দিষ্ট লক্ষ্যস্থলে পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে। এই প্রযুক্তি বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগের চিকিৎসা, চোখে ওষুধ সরবরাহ করতে, এমনকি ক্যান্সার থেরাপিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মূলত একটি বহুমুখী ও কার্যকর ডেলিভারি সিস্টেম হিসেবে ‘ন্যানোজেল ডিসপারশনথ’ প্রযুক্তির উন্নয়নই ছিল আমার গবেষণার প্রধান বিষয়।

এই গবেষণার জন্য আমরা জাপানে একটি পেটেন্টও অর্জন করেছি, যা পরবর্তীতে গবেষণাটিকে আরো বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে এটিকে একটি আদর্শ ড্রাগ ডেলিভারি সিস্টেম হিসেবে আরও উন্নত করতে সম্ভাবনা রয়েছে।

মর্যদাপূর্ণ অর্জন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি যে পুরস্কারটি পেয়েছি, তা আমার ব্যক্তিগত জীবনের অন্যতম বড়ো অর্জন। পাশাপাশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হিসেবে এই স্বীকৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাপ্তি।’

আরও পড়ুন: মা ইলিশ সংরক্ষণে ১১১ এমপিকে নির্দেশনা দিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

গবেষণা সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ড. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘এই অর্জনের পেছনে দীর্ঘ গবেষণা-যাত্রা রয়েছে।

আমার পিএইচডি গবেষণা এবং পরবর্তীতে জাপানে আমার সুপারভাইজারের গবেষণাগার পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রমের ফলস্বরূপ আমি এই পুরস্কার লাভ করেছি। এ ক্ষেত্রে আমার জাপানি সুপারভাইজার, গবেষণাগারের সহকর্মী এবং ল্যাবমেটদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে শিক্ষা ছুটি প্রদান এবং গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়েছে। আমার বিভাগও সবসময় সহযোগিতা করেছে, শিক্ষার্থীরাও আমাকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। আমি গবেষণার মাধ্যমে যা শিখেছি, তা শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার এবং তাদের গবেষণায় উৎসাহিত করার চেষ্টা করি। আমার পরিবারও এই দীর্ঘ যাত্রায় সবসময় আমাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে।’

ড. জান্নাতুল ফেরদৌস আরো বলেন, ‘ন্যানোজেল প্রযুক্তি আবিষ্কার বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার হতে পারে। এটি একটি আধুনিক ও উন্নত ড্রাগ ডেলিভারি প্রযুক্তি। বর্তমানে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় প্রযুক্তিগত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশীয় গবেষক ও ওষুধ কম্পানিগুলো নিজস্ব পেটেন্ট, নতুন ড্রাগ মলিকিউল এবং উন্নত ক্যারিয়ার সিস্টেম উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ক্যান্সারের মতো জটিল ও দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসায় এ প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম। আমি যে ক্যারিয়ার সিস্টেম নিয়ে জাপানে কাজ করেছি, তার অনুরূপ গবেষণা বাংলাদেশেও পরিচালিত হলে দেশের চিকিৎসা ও ওষুধ গবেষণা খাতে তা নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।’

প্রসঙ্গত, সোসাইটি ফর বায়োটেকনোলজি, জাপান (এসবিজে) ১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে জীববিজ্ঞান, জীবপ্রযুক্তি (বায়োটেকনোলজি) এবং জীবনবিজ্ঞানের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক গবেষণার উন্নয়নে কাজ করছে।

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ী থানায় বিশেষ অভিযানে ৩৩ জন গ্রেফতার

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন ভঙ্গ করে দালালের প্রতারণা, দীর্ঘ ৪৫ বছর পর ফেরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:০২ এম


বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন ভঙ্গ করে দালালের প্রতারণা, দীর্ঘ ৪৫ বছর পর ফেরা

বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন ছিল, কিন্তু সেই স্বপ্নই কেড়ে নিল সবকিছু। দীর্ঘ ৪৫ বছর নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে তিনি পরিবারের কাছে ফিরেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইসাক মিয়া, যার জীবনের দুঃখভরা গল্প এখন সবার চোখে জল আনছে।

ইসাক মিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের মৃত সাদু মিয়ার ছেলে। তিনি সাত ভাইবোনের মধ্যে ছিলেন সবার ছোট। আশির দশকে বিদেশে যাওয়ার উদ্দেশ্যে দুই বিঘা কৃষিজমি ও ৪০ শতাংশ বসতভিটা মাত্র ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে সিলেটে যান।

কিন্তু সেখানে তিনি দালালের খপ্পরে পড়ে সব টাকা হারান। ফলে ভেঙে যায় বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন। এরপর তার আর বাড়ি ফেরা হয়নি। জীবনের প্রায় ৪৫ বছর তিনি পথে পথে ঘুরে কাটান।

বর্তমানে তার বয়স সত্তর। দীর্ঘদিনের কষ্টে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ও মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে যান।

সম্প্রতি কুষ্টিয়ার কুমারখালী রেলস্টেশনে অসুস্থ অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে চিকিৎসা ও খাবারের ব্যবস্থা করেন। পরে তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং এর মাধ্যমে স্বজনরা তার সন্ধান পান।

মঙ্গলবার সকালে স্বজনরা কুমারখালী স্টেশনে এসে ইসাককে শনাক্ত করেন। এরপর উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে দুপুরে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার, থানার পরিদর্শক আমিরুল ইসলাম, ভাগ্নে বাচ্চু মিয়া, সাজাহান মিয়া, ভাতিজা তাহের মিয়া এবং কুমারখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি কে এম শাহিনসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

স্টেশনের বিশ্রামাগারে গিয়ে দেখা যায়, অসুস্থ শরীর নিয়ে কখনও বসছেন, কখনও মেঝেতে শুয়ে পড়ছেন ইসাক। তাকে ঘিরে স্বজনদের আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়।

ভাগ্নে বাচ্চু মিয়া জানান, প্রায় ৪৫ বছর আগে সবাই মিলে জমিজমা বিক্রি করে তাকে বিদেশ পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু এরপর তিনি ফিরে আসেননি।

আরেক ভাগ্নে সাজাহান মিয়া বলেন, তারা অনলাইনে ভিডিও দেখে ইসাককে শনাক্ত করেন। এরপর স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করে কুমারখালীতে আসেন।

ভাতিজা তাহের মিয়া জানান, তিনি বাবার মুখে চাচার গল্প শুনেছেন। কিন্তু এত বছর পর তাকে ফিরে পাবেন, তা তারা কখনো ভাবেননি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, প্রায় ২৬ দিন আগে স্টেশনের পাশে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় ইসাককে। চিকিৎসা দেওয়ার পর ধীরে ধীরে তিনি কথা বলতে শুরু করেন।

ইসাক মিয়া ভাঙা কণ্ঠে বলেন, বিদেশ যাওয়ার জন্য তিনি সব সম্পত্তি বিক্রি করে সিলেটে গেছিলেন। দালাল টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর তিনি পাগলের মতো পথে পথে ঘুরেছেন। এখন স্বজনদের কাছে ফিরতে পেরে ভালো লাগছে।

কুমারখালী প্রতিনিধি মনোয়ার হোসেন জানান, তাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পরই স্বজনরা এগিয়ে আসেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার বলেন, যাচাই-বাছাই শেষে তাকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এটি একটি মানবিক ও আনন্দের ঘটনা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে শত শত মানুষ ঢোকানোর চেষ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:১১ এম


সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে শত শত মানুষ ঢোকানোর চেষ্টা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারের নথিপত্রবিহীন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে যে কোন মুহূর্তে বড় ধরনের সাঁড়াশি অভিযান শুরুর আশঙ্কায়, বর্তমানে শত শত মানুষ বাংলাদেশ সীমান্তে এসে জড়ো হয়েছেন।

হাকিমপুর সীমান্ত চৌকিতে নারী, শিশু ও পরিবারসহ বহু মানুষ অনিশ্চিত অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন। ভারত সরকার তাদের যে কোন সময় গ্রেপ্তার করে ডিটেনশন সেন্টারে (আটক কেন্দ্র) পাঠিয়ে দিতে পারে। নিজেদের সুরক্ষার জন্য, অনেকেই সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছেন। এ কারণে, দেশের সমস্ত সীমান্ত এলাকায় বিজিবিকে সর্তক থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, 'আমরা সীমান্তে সব ধরনের অবৈধ পুশইন ও পুশব্যাকের বিপক্ষে। আমরা এগুলো শুনতে পাচ্ছি। বর্ডারে আমাদের বিজিবি অ্যালার্ট আছে। আমরা যে কোন রকমের ইলিগাল পুশইন বা পুশব্যাকের বিপক্ষে। যদি বাংলাদেশের কোন সিটিজেন কোন কারণে সেই দেশে গিয়ে থাকে, তাদের যদি ন্যাশনাল আইডি ভেরিফিকেশন করা হয়, আমরা এটাকে বলি ন্যাশনাল আইডি ভেরিফিকেশন। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোন তালিকা আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হলে, তারা আইনানুগভাবে রিপ্যাট্রিয়েশন প্রসেসটাও ফলো করবে। আমাদের কাছে সেরকম কোন বিষয় এখনো পেন্ডিং নেই।'

সূত্র অনুযায়ী, যশোরের বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া খুলে ১০-১২ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবির কঠোর নিরাপত্তা ও বাধার কারণে বিএসএফের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এই ঘটনার ফলে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সোমবার (১ জুন) ভোর রাতে সাদিপুর সীমান্তে খড়েরমাঠ এলাকা দিয়ে এই পুশইনের চেষ্টা হয়।

বিজিবির সূত্র জানাচ্ছে, সোমবার ভোর রাতে সীমান্তের লাইট বন্ধ করে দিয়ে কিছু মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। এ সময় টহলরত বিজিবি সদস্যরা পুশইনে কঠোর বাধা সৃষ্টি করেন। বিজিবির অনড় অবস্থানের কারণে ওই নারী, পুরুষ ও শিশুরা রাত থেকে সীমান্তের জিরো লাইনে (ভারতীয় অংশে) আটকা পড়ে রয়েছেন। এই ঘটনার পর থেকেই বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি।

যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান জানান, বেনাপোল সাদিপুর সীমান্তের খড়েরমাঠ এলাকার ২১/৬ নম্বর পিলারের কাছে ভারতীয় বিএসএফ বেশ কিছু নারী-পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুশইনের চেষ্টা করে। বিজিবি সদস্যদের নজরে এলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে সীমান্তের জিরো লাইন এলাকায় শক্ত অবস্থান নেন এবং বিএসএফের ওই অবৈধ চেষ্টা রুখে দেন। বিজিবির এই কর্মকর্তা আরও জানান, জিরো লাইনে আটকে পড়া নাগরিকদের বিষয়ে সুরাহা করতে সোমবার দুপুরে দু-দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে একটি পতাকা বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।

সূত্র জানাচ্ছে, কলকাতা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত ভারতের হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করা সম্ভব—এমন খবর হঠাৎ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তার পরে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে শত শত দিশেহারা মানুষ দল বেঁধে সীমান্ত এলাকায় এসে জড়ো হতে শুরু করেন। ভারত অবস্থানরত হাসিনা বিবি জানান, 'আমাদের দ্রুত ভারত ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছে, অন্যথায় সরকার আমাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেবে। কেবল জীবিকার জন্য আমি এই শহরে এসেছিলাম, এখন বাংলাদেশে ফিরে যেতে চাই। কিন্তু জানি না সীমান্তে বা ওপারে আমার ভাগ্যে আসলে কী অপেক্ষা করছে।' বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্তের বেশ কিছু দুর্গম স্থান এখনো পুরোপুরি উন্মুক্ত রয়েছে। মূলত চরম অর্থনৈতিক সংকট, কর্মসংস্থান এবং সীমান্তের ওপারে পরিবারের সম্পর্কের কারণে বহু মানুষ ভারতে প্রবেশ করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:১৩ এম


ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা

ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পরিষদের সব সদস্যের পদত্যাগ দাবি নিয়ে রাজধানীর মতিঝিলে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করেছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। এটি দ্বিতীয় দিনের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ব্যাংকের এই কর্মসূচি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত। উপস্থিত রয়েছে জলকামান ও সাঁজোয়া যান। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯ টায় পূর্ব ঘোষণার ভিত্তিতে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়। এতে কয়েক শত সচেতন গ্রাহক অংশগ্রহণ করেছে। তবে গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে হওয়া এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করা বেশিরভাগ লোকই জামায়াত-শিবিরের অনুসারী।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, একটি রাজনৈতিক দল, জামায়াত-শিবির, ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করছে এবং কোনো ব্যাংকে রাজনৈতিক প্রভাব মেনে নেওয়া হবে না। আন্দোলন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন আনার চেষ্টা সফল হবে না।

আন্দোলনকারীদের নেতা প্রফেসর নুরুন্নবী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা চাই শরিয়াহ ব্যাংকিং ব্যবস্থা আরো বিকশিত হোক, সেই কারণে আমরা ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়েছি। এটি কোনো রাজনৈতিক দলের আন্দোলন নয়, ব্যাংকের স্বার্থে আমাদের সচেতন গ্রাহকদের আন্দোলন।’ অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসলামী ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা ইনকিলাবকে জানান, ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জামায়াত-শিবিরের আধিপত্য ছিল, যা এখনো চলছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে চাকরি থেকে চাকরিচ্যুত হওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশই জামায়াত-শিবিরের লোক। সেই গ্রুপটি ব্যাংকটিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

প্রগতিশীল আওয়ামী লীগ সরকার এস আলম গ্রুপের হাতে ব্যাংকটি দেওয়ার পরেও ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছিল জামায়াতের লোকজন। সম্প্রতি এস আলম ব্যাংক থেকে লুটপাট এবং অর্থ পাচারের ঘটনার সঙ্গে জামায়াতের চক্র জড়িত ছিল। ব্যাংকটিতে এস আলম কর্তৃত্বের সময় যারা ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন, তারা সবাই জামায়াতের। আসলে এস আলম জামায়াতের লোক। জামায়াত লিয়াজোঁ রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন রেহেনাকে খুশি রাখতে সার্বিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছিল। গত বছরগুলোতে ব্যাংকের সিএসআর ফান্ডের টাকা এবং নস্ট্রো হিসাবের টাকা জামায়াতের বিভিন্ন কল্যাণমূলক ট্রাস্ট, হাসপাতাল বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গেছে বলেও জানিয়েছেন সূত্রগুলি। এছাড়া, গত জাতীয় নির্বাচনে বড় অঙ্কের একটি ফান্ড জামায়াতের নির্বাচনী তহবিলে প্রদান করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাই ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে জামায়াতে ব্যয় করা একটি নির্দিষ্ট দলের ফান্ডে কী পরিমাণ টাকা গিয়েছে তা দ্রুত তদন্ত হওয়া উচিত বলেও মতামত দিয়েছেন এসব কর্মকর্তারা।

আন্দোলনকারীরা জানিয়েছে, ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদে সাম্প্রতিক পরিবর্তন ও নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এ কারণে তারা নিয়োগ বাতিল, পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং সাবেক এমডিকে পুনর্বহাল করার দাবিতে কর্মসূচি পালন করছেন।

মানববন্ধন থেকে একজন নেতা আব্দুল হান্নান খন্দকার বলেন, ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে গ্রাহকদের আমানত সংরক্ষণ করে আসছে এবং সুদমুক্তভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। বিগত সরকার এই ব্যাংকটিকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে এস আলম গ্রুপকে দায়িত্ব দেয়। তারা ব্যাংকের অর্থ লুট করে বিদেশে পাচার করে ব্যাংকটিকে ধ্বংসের কিনারে নিয়ে আসে। ৫ আগস্টের পর নতুন পরিস্থিতিতে ইসলামপ্রিয় ও স্বচ্ছ অর্থব্যবস্থায় বিশ্বাসী মানুষরা তাদের যা কিছু আছে নিয়ে পুনরায় ইসলামী ব্যাংকে বিনিয়োগ করছে। ব্যাংকটি যখন আবার আগের অবস্থানে ফিরে আসার চেষ্টা করছে, তখন একটি কুচক্রী মহল আবারও ব্যাংকটিকে ধ্বংসে লিপ্ত।

আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করছে যে খুরশিদ আলমকে ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান করার ফলে ব্যাংকটিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষ এবং আমানতকারীরা বলেছেন, তারা ব্যাংকটিকে আর লুণ্ঠনকারীদের হাতে ছেড়ে দেবেন না। প্রবাসীদের আস্থা রয়েছে এই ব্যাংকে এবং তারা রেমিট্যান্স পাঠিয়ে ব্যাংকটিকে সচল রাখতে সাহায্য করবেন। সকল আমানতকারীকে ইসলামী ব্যাংকে তাদের আমানত রেখে ব্যাংকটিকে সফল করতে ও পূর্বের অবস্থানে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হবে।

উল্লেখ্য, গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। তার পরে সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশিদ আলমকে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। এরপর থেকে গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বন্ধ ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে উদ্ধার হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তার মরদেহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:৪০ এম


বন্ধ ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে উদ্ধার হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তার মরদেহ

রাজধানীর উত্তর মুগদার আহমদবাগের একটি বাসা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তানভীর হোসাইন শুভ (৪৫) এর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে ঘরের দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তানভীর হোসাইন এর বাবার নাম তবারক হোসেন। তাদের স্থায়ী বাসা সেগুনবাগিচায়, তবে সম্প্রতি স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর তিনি উত্তর মুগদার ওই ফ্ল্যাটে একা থাকতে শুরু করেন।

বাড়ির মালিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঈদের দিন তিনি শেষবারের মতো তানভীরকে জীবিত দেখেছিলেন। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ বা সাড়া-শব্দ পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার রাতে তার ঘর থেকে তীব্র ও অসহ্য দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে বাড়ির অন্যান্য ভাড়াটিয়া ও মালিকের মনে সন্দেহ জাগে। পরে তারা তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশে খবর দেন।

মুগদা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. বোরহান উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে আমরা আহমদবাগের ওই বাসাটির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করি। সেখানে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার অর্ধগলিত মরদেহটি দেখতে পাই। ধারণা করা হচ্ছে, বেশ কয়েক দিন আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।’

এসআই আরও জানান, ঘটনার পর নিহতের সহকর্মী ও আত্মীয়-স্বজনদের খবর দেয়া হয়েছে। তাদের উপস্থিতিতেই পুলিশ প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও মরদেহ উদ্ধারের কাজ সম্পন্ন করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%