প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পরিষদের সব সদস্যের পদত্যাগ দাবি নিয়ে রাজধানীর মতিঝিলে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করেছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। এটি দ্বিতীয় দিনের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ব্যাংকের এই কর্মসূচি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত। উপস্থিত রয়েছে জলকামান ও সাঁজোয়া যান। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯ টায় পূর্ব ঘোষণার ভিত্তিতে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়। এতে কয়েক শত সচেতন গ্রাহক অংশগ্রহণ করেছে। তবে গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে হওয়া এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করা বেশিরভাগ লোকই জামায়াত-শিবিরের অনুসারী।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, একটি রাজনৈতিক দল, জামায়াত-শিবির, ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করছে এবং কোনো ব্যাংকে রাজনৈতিক প্রভাব মেনে নেওয়া হবে না। আন্দোলন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন আনার চেষ্টা সফল হবে না।
আন্দোলনকারীদের নেতা প্রফেসর নুরুন্নবী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা চাই শরিয়াহ ব্যাংকিং ব্যবস্থা আরো বিকশিত হোক, সেই কারণে আমরা ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়েছি। এটি কোনো রাজনৈতিক দলের আন্দোলন নয়, ব্যাংকের স্বার্থে আমাদের সচেতন গ্রাহকদের আন্দোলন।’ অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসলামী ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা ইনকিলাবকে জানান, ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জামায়াত-শিবিরের আধিপত্য ছিল, যা এখনো চলছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে চাকরি থেকে চাকরিচ্যুত হওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশই জামায়াত-শিবিরের লোক। সেই গ্রুপটি ব্যাংকটিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
প্রগতিশীল আওয়ামী লীগ সরকার এস আলম গ্রুপের হাতে ব্যাংকটি দেওয়ার পরেও ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছিল জামায়াতের লোকজন। সম্প্রতি এস আলম ব্যাংক থেকে লুটপাট এবং অর্থ পাচারের ঘটনার সঙ্গে জামায়াতের চক্র জড়িত ছিল। ব্যাংকটিতে এস আলম কর্তৃত্বের সময় যারা ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন, তারা সবাই জামায়াতের। আসলে এস আলম জামায়াতের লোক। জামায়াত লিয়াজোঁ রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন রেহেনাকে খুশি রাখতে সার্বিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছিল। গত বছরগুলোতে ব্যাংকের সিএসআর ফান্ডের টাকা এবং নস্ট্রো হিসাবের টাকা জামায়াতের বিভিন্ন কল্যাণমূলক ট্রাস্ট, হাসপাতাল বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গেছে বলেও জানিয়েছেন সূত্রগুলি। এছাড়া, গত জাতীয় নির্বাচনে বড় অঙ্কের একটি ফান্ড জামায়াতের নির্বাচনী তহবিলে প্রদান করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাই ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে জামায়াতে ব্যয় করা একটি নির্দিষ্ট দলের ফান্ডে কী পরিমাণ টাকা গিয়েছে তা দ্রুত তদন্ত হওয়া উচিত বলেও মতামত দিয়েছেন এসব কর্মকর্তারা।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছে, ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদে সাম্প্রতিক পরিবর্তন ও নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এ কারণে তারা নিয়োগ বাতিল, পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং সাবেক এমডিকে পুনর্বহাল করার দাবিতে কর্মসূচি পালন করছেন।
মানববন্ধন থেকে একজন নেতা আব্দুল হান্নান খন্দকার বলেন, ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে গ্রাহকদের আমানত সংরক্ষণ করে আসছে এবং সুদমুক্তভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। বিগত সরকার এই ব্যাংকটিকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে এস আলম গ্রুপকে দায়িত্ব দেয়। তারা ব্যাংকের অর্থ লুট করে বিদেশে পাচার করে ব্যাংকটিকে ধ্বংসের কিনারে নিয়ে আসে। ৫ আগস্টের পর নতুন পরিস্থিতিতে ইসলামপ্রিয় ও স্বচ্ছ অর্থব্যবস্থায় বিশ্বাসী মানুষরা তাদের যা কিছু আছে নিয়ে পুনরায় ইসলামী ব্যাংকে বিনিয়োগ করছে। ব্যাংকটি যখন আবার আগের অবস্থানে ফিরে আসার চেষ্টা করছে, তখন একটি কুচক্রী মহল আবারও ব্যাংকটিকে ধ্বংসে লিপ্ত।
আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করছে যে খুরশিদ আলমকে ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান করার ফলে ব্যাংকটিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষ এবং আমানতকারীরা বলেছেন, তারা ব্যাংকটিকে আর লুণ্ঠনকারীদের হাতে ছেড়ে দেবেন না। প্রবাসীদের আস্থা রয়েছে এই ব্যাংকে এবং তারা রেমিট্যান্স পাঠিয়ে ব্যাংকটিকে সচল রাখতে সাহায্য করবেন। সকল আমানতকারীকে ইসলামী ব্যাংকে তাদের আমানত রেখে ব্যাংকটিকে সফল করতে ও পূর্বের অবস্থানে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। তার পরে সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশিদ আলমকে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। এরপর থেকে গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন