০৫:৪০ পি.এম
জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগণের সংখ্যা নিয়ে দেশটির সাম্প্রতিক বিভ্রান্তিকর এবং ত্রুটিপূর্ণ বিবৃতির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ কিয়াও সোয়ে মোরের সঙ্গে বৈঠক করতে মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উপস্থিত হন মিয়ানমার অনুবিভাগের মহাপরিচালক তৌফিক-উর-রহমান। বৈঠকে মহাপরিচালক গত ১৫ আগস্ট মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত রোহিঙ্গা বিষয়ক বিবৃতিটি উল্লেখ করেন এবং বলেন, ওই বিবৃতির অনেক তথ্য ভুল পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। বিশেষ করে, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগণের সংখ্যা নিয়ে মিয়ানমারের দেওয়া তথ্য সঠিক নয়, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই বিষয়টি জানানো হয়। তিনি আবারও জোরালোভাবে উল্লেখ করেন যে, জাতিসংঘ ব্যবস্থায় নিবন্ধিত তথ্যই একমাত্র সঠিক এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পরিসংখ্যান, যা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া প্রকৃত জনসংখ্যাকে প্রতিফলিত করে। বৈঠকে মহাপরিচালক দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ভিত্তিতে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের যাচাইকরণ প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে চাপ দেন। বাংলাদেশ স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, এই যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় আশ্রয়শিবিরে জন্ম নেয়া শিশু এবং ২০১৭ সালের সংকটের পর রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা নতুন সংখ্যানুপাতকেও অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। বাংলাদেশ বর্তমানে এই জনগণের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন রোহিঙ্গার তথ্য অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং যথাসময়ে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। মহাপরিচালক এই অতিরিক্ত তথ্যগুলো যাচাই প্রক্রিয়ায় সঠিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের ভুলভাবে সংজ্ঞায়িত করার যেকোনো প্রচেষ্টাকে বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। রাষ্ট্রদূতকে তৌফিক-উর-রহমান মনে করিয়ে দেন যে, রোহিঙ্গারা কোনোভাবেই ‘বাঙালি’ নন। তাদের একটি নিজস্ব ও সুনির্দিষ্ট জাতিগত পরিচয় রয়েছে, যা অতি সাম্প্রতিককাল পর্যন্ত মিয়ানমার রাষ্ট্র নিজেই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করত। রাষ্ট্রদূত ইউ কিয়াও সো মো বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেন যে, ঢাকার এই গভীর উদ্বেগ এবং পর্যবেক্ষণগুলো তিনি দ্রুত তার দেশের রাজধানীতে পৌঁছে দেবেন। একইসাথে তিনি যাচাইকৃত রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন শুরু করতে তার সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা এই মানবিক সংকটের স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে মহাপরিচালক বৈঠক শেষ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনই এই সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন