প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১৮ আগস্ট, ২০২৬ : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, বর্তমানে দেশের মৎস্য খাত অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে সক্ষমতা অর্জন করেছে। এখন মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
আজ মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক আয়োজিত অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬ সালের জাতীয় মৎস্য পক্ষের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় মৎস্য পক্ষের কেন্দ্রীয় আয়োজন ঢাকার বাইরে কিশোরগঞ্জে করার সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, মৎস্য উৎপাদনে হাওরাঞ্চলের মুখ্য ভূমিকা রয়েছে। দেশের মিঠাপানির মাছের একটি বড় অংশ হাওরাঞ্চল থেকে আসে। এজন্য প্রান্তিক পর্যায়ের মৎস্যচাষি, জেলে এবং মৎস্য খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত মানুষের কাছে কর্মসূচির বার্তা পৌঁছাতে ঢাকার বাইরেই এ আয়োজন করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়নের জন্য নদী খনন, খাল সংস্কারসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তীকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াও মৎস্য খাতের উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নিয়েছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, ‘এবার আমরা খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই বড় আয়োজন করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি ও নির্দেশনার মাধ্যমে ঢাকার বাইরের এ কর্মসূচি আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতির কারণে পুরো আয়োজনটি প্রাণবন্ত ও ব্যতিক্রমী হয়ে উঠেছে।’
জাতীয় মৎস্য পক্ষের আয়োজন সফল করতে মৎস্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘হাতের পাঁচটি আঙুলের মতো আমাদের সবার দায়িত্ব আলাদা হতে পারে, কিন্তু সবাই একসঙ্গে কাজ করলেই একটি মুষ্টিবদ্ধ হাতের মতো শক্তি তৈরি হয়। এবারের আয়োজনও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সফল হয়েছে।’
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের দেওয়া দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। কোনো দায়িত্বে অবহেলা বা কাজে ফাঁকি দেওয়া যাবে না। প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিজের যোগ্যতা ও মেধা দিয়ে রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশকে এগিয়ে নিতে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। রাষ্ট্রের মালিক জনগণ- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই নীতিতে বিশ্বাস রাখেন। তিনি বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়েই রাষ্ট্র পরিচালনা ও দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা ও সরকারি দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনগণের সঙ্গে থেকেই দেশের উন্নয়ন এগিয়ে নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’- এই চেতনাকে ধারণ করেই সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একা কারও পক্ষে কোনো বড় কাজ করা সম্ভব নয়। একটি দক্ষ ও আন্তরিক টিম থাকলে যেকোনো অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়। এজন্য কর্মকর্তাদের জনগণের কল্যাণে আরও আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। মৎস্য খাতের উন্নয়নে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে এ খাতের উন্নয়নে কয়েকটি প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রান্তিক অর্থনীতিতে মৎস্য অধিদপ্তর আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, মৎস্যচাষি ও সাধারণ মানুষ সরকারি সেবা নিতে এসে যেন কোনো ধরনের হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। যার যে দায়িত্ব, তা যথাযথভাবে পালন করতে হবে। জনগণের সেবা প্রদানে কোনো ধরনের কার্পণ্য করা যাবে না। তিনি বলেন, সরকারের অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরকে আরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক বলেন, জাতীয় মৎস্য পক্ষের কেন্দ্রীয় আয়োজন ঢাকার বাইরে সর্বশেষ ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পর এবার কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাঠপর্যায়ের মৎস্যচাষি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার ফলে এবারের আয়োজন মৎস্য খাতের সঙ্গে সম্পৃক্তদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, মৎস্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মৎস্যচাষি, জেলে ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন