০২:৩৫ এম
শুক্রবার জুমার দিন এলেই যেন ঈদের আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয় শেরপুর জেলা শহরের ঐতিহ্যবাহী মাইসাহেবা জামে মসজিদ চত্বর এলাকায়। জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই মসজিদ চত্বর ও আশপাশের এলাকা প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়। নামাজের আগে এবং পরে মসজিদের সামনের সড়কে অস্থায়ী দোকানিরা সারিবদ্ধভাবে বসেন। তাদের দোকানে থাকে বিভিন্ন ধরনের বাহারি খাবার- জিলাপি, ছোলা, হালিম, বেলপুলি, মৌসুমি ফল, বিভিন্ন রকমের শরবত, বিভিন্ন প্রজাতির ছোট-বড় মাছ সহ নানান মুখরোচক খাবার। শিশু-কিশোর এবং মুসল্লিরা এসব খাবারের স্বাদ নিতে ভিড় করেন, একইসঙ্গে পরিবারের জন্য বাসায় নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে অনেককে কেনাকাটা করতে দেখা যায়। জুমার নামাজ শেষে কয়েক হাজার মুসল্লি একসঙ্গে বের হলে মুহূর্তেই পুরো এলাকা জমে ওঠে। ছোট-বড় সবার পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে মসজিদের সামনের সড়ক। কেউ প্রিয় খাবারের স্বাদ নিচ্ছেন, আবার কেউ পরিবারের সদস্যদের জন্য পছন্দের খাবার কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় মৌসুমী ব্যবসায়ীরা জানান, শুক্রবার তাদের বিক্রি সপ্তাহের অন্যান্য দিনের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তাই তারা এই দিনের অপেক্ষায় থাকেন। পথচারীর কাছেও শুক্রবারের এই প্রাণচঞ্চল পরিবেশ শেরপুরের বিশেষ ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। শেরপুর সদর উপজেলার বাজিতখিলার কুমরী মুদিপাড়া থেকে জুমার নামাজ পড়তে আসা সাংবাদিক উমর ফারুক সেলিম জানিয়েছেন, তিনি সময় পেলেই চেষ্টা করেন শেরপুরের ঐতিহ্যবাহী মাইসাহেবা মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে। কারণ ঈদের জামাতের মতো এখানে জুমার নামাজ বৃহৎ পরিসরে অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি এখানে নামাজ আদায় করলে তার ভেতরে অন্যরকম একটা অনুভূতি কাজ করে। মসজিদ চত্বর ও পাশের সড়কে মুখরোচক খাবারসহ বিভিন্ন ধরনের পসরা সাজিয়ে নিয়ে বসেন দোকানীরা। জুমার নামাজের পর চারদিকে শিশু-কিশোর ও মুসল্লিদের কোলাহল যেন ঈদের আমেজ মনে করিয়ে দেয়। ধর্মীয় আবহ, মানুষের মিলনমেলা এবং বাহারি খাবারের সমাহার সব মিলিয়ে প্রতি শুক্রবার শেরপুরের ঐতিহ্যবাহী মাইসাহেবা জামে মসজিদ চত্বর যেন উৎসবের শহরে পরিণত হয়, যেখানে আগত মুসল্লি ও সাধারণ মানুষ ঈদের আনন্দের ছোঁয়া অনুভব করেন।
আরও পড়ুন: শিবচরে সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকদের উপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন