বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৪২ পি.এম
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পেছানো হয়েছে। তদন্তের আওতায় সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, খলনায়ক আশরাফুল হক ডনসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে এই প্রতিবেদনটি দাখিল করা হবে। আদালত নতুন তারিখ হিসেবে আগামী ৮ ডিসেম্বর নির্ধারণ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্ধারিত দিন ছিল। তবে এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ইন্সপেক্টর জিয়াউল মোর্শেদ প্রতিবেদনটি দাখিল করতে ব্যর্থ হন। এই কারণে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
এটি ১১ বারের মতো তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সময় দেওয়া হলো। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক ওয়াজেদ আলী খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর মধ্যরাতে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলার এজাহার গ্রহণ করে তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
মামলার অন্যান্য আসামির মধ্যে রয়েছেন—সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বাদীর ভাগনে চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ (২৫) ছিলেন বাংলাদেশের একজন স্বনামধন্য চিত্রনায়ক। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় বাদীর বোন নিলুফার জামান চৌধুরী ওরফে নীলা চৌধুরী, বোন জামাই কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহসহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখান থেকে নীলা চৌধুরী ও শাহরানসহ তাদের গ্রামের বাড়ি সিলেট যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বাদীর বোন ও বোন জামাই গ্রিন রোডের বাসায় আলাদা আলাদা ভাবে বসবাস করতেন। সালমানের ইস্কাটনের বাসায় যাওয়ার পর স্ত্রী সামিরা এবং কর্মচারী আবুল জানান, সালমান ঘুমাচ্ছেন। ওই সময় চলচ্চিত্র প্রযোজক সিদ্দিকও সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সালমান ঘুমাচ্ছেন শুনে তার বাবা-মা স্ত্রী সামিরাকে বলেন যে, তারা সিলেটে যাওয়ার পথে সালমানের সঙ্গে দেখা করে যাবেন। এরপর তারা এবং প্রযোজক সিদ্দিক ইস্কাটনের বাসা ত্যাগ করেন।
ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে প্রোডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমান শাহর বাবাকে জানান, সালমানের ‘যেন কী হয়েছে’। খবর পেয়ে তারা দ্রুত বাসায় ছুটে যান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান, সালমান তার শোবার ঘরে পড়ে আছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সে সময় দু-একজন বহিরাগত নারী সালমানের হাতে-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন এবং রুবী নামে একটি মেয়ে সেখানে বসে ছিলেন। তখন সামিরা সালমানের মাকে বাসা থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। পরে সালমানের মা-বাবা তাকে নিয়ে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে যাওয়ার পথে তার গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পা নীলবর্ণ ধারণ করতে দেখেন। অবস্থার গুরুত্ব বুঝে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, বেশ কিছুক্ষণ আগেই সালমান শাহ মারা গেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের শশীধরপুর-স্বরূপপুর সড়কে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে রোকন হোসেন (১৮) নামে এক যুবক তালগাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে ঘটে এই দুর্ঘটনা। নিহত যুবক উপজেলার তারাগুনিয়া মধ্যপাড়া এলাকার শরিফুল ইসলামের পুত্র।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওইদিন সকালে রোকন নিজ বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে শশীধরপুর হয়ে স্বরূপপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। সড়কের একটি বাঁক ঘোরানোর সময় দ্রুতগতির কারণে তিনি মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারান। এ সময় মোটরসাইকেলটি রাস্তার পাশে থাকা একটি তালগাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান জানিয়েছেন, সড়ক দুর্ঘটনায় রোকন নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় প্রাথমিক তদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্যের আসন্ন নির্বাচনে মুসলিম ভোটারদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন মুসলিম ভোটস ম্যাটার (এমভিএম) কৌশল পরিবর্তন করছে। গত বছরের ফেডারেল নির্বাচনে ফিলিস্তিন ইস্যুতে লেবার পার্টির বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও, এবার কট্টর ডানপন্থি দল ওয়ান নেশনের প্রভাব ঠেকাতে দলের প্রার্থীদের এগিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি।
ভিক্টোরিয়ায় আগামী ২৮ নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এমভিএম আশঙ্কা করছে যে, লেবার পার্টির দখলে থাকা কয়েকটি শহরতলির আসনে ওয়ান নেশনের প্রভাব বাড়তে পারে। এ অবস্থায় গ্রিনভেল, নারি ওয়ারেন সাউথ ও টারনেইট আসনে স্বেচ্ছাসেবীদের মাঠে নামানোর পরিকল্পনা করছে তারা।
এমভিএমের জাতীয় মুখপাত্র গাইথ ক্রায়েম জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়েছে। তিনি বলেন, "গত ফেডারেল নির্বাচনে লেবার পার্টির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছিল। তবে এবার একই কৌশল অনুসরণ করলে ওয়ান নেশনই লাভবান হতে পারে।"
ক্রায়েমের বক্তব্য অনুযায়ী, মুসলিম সম্প্রদায় ওয়ান নেশনের প্রভাব বাড়ুক, তা চায় না। তিনি উল্লেখ করেন, "বিশেষ করে, লেবারবিরোধী প্রচারণা জোরদার হলে কোনো কোনো আসনে দলটির ভোট কমে গিয়ে ওয়ান নেশনের জয়ের পথ তৈরি হতে পারে।"
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, নির্বাচনে লিবারেল-কোয়ালিশন সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে সরকার গঠনের জন্য ওয়ান নেশনের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে হতে পারে। এর ফলে দলের নীতিগত দাবির কিছু অংশ মেনে নেওয়ার ঝুঁকি থাকবে। ক্রায়েম উদাহরণ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় বোরকা নিষিদ্ধ করার বিষয়ে ওয়ান নেশন নেতা পলিন হ্যানসনের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করেন।
ক্রায়েম বলেন, "এ ধরনের বক্তব্য সমাজে মুসলিমদের পোশাক ও তাদের অস্ট্রেলীয় পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলার প্রবণতাকে স্বাভাবিক করে তুলতে পারে। দেশের জন্য এমন পরিস্থিতি ইতিবাচক নয়।"
অবস্থান পরিবর্তন করলেও এমভিএম কোনো আসনেই লেবার পার্টিকে নিজেদের ভোট দেওয়ার তালিকার শীর্ষে রাখবে না। সংগঠনটি জানিয়েছে, প্রতিটি আসনে প্রার্থীদের নীতি ও অবস্থান বিবেচনা করে ভোটারদের জন্য আলাদা নির্দেশনামূলক কার্ড তৈরি করা হবে। এসব কার্ডে স্বতন্ত্র ও ছোট দলগুলোর প্রার্থীদেরও অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। তবে যেসব আসনে লিবারেল পার্টির পক্ষে দেওয়া পছন্দের ভোট ওয়ান নেশনের দিকে যেতে পারে, সেখানে লেবার প্রার্থীদের এগিয়ে রাখা হবে।
এমভিএমের লক্ষ্য আসনগুলোর মধ্যে রয়েছে মেলবোর্নের উত্তরের গ্রিনভেল। ২০২২ সালের নির্বাচনের আগে গঠিত এ আসনটি বর্তমানে লেবার পার্টির দখলে রয়েছে। দুই দলের মধ্যে পছন্দের ভোটের হিসাবে লেবারের ব্যবধান ৭ দশমিক ১ শতাংশ। আসনটিতে মধ্যপ্রাচ্যীয় বংশোদ্ভূত মানুষের উল্লেখযোগ্য বসবাস রয়েছে।
ক্রায়েম জানান, গ্রিনভেলে মুসলিম জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি বেশি হওয়ায় সেখানে স্বেচ্ছাসেবীদের প্রচারণায় নামানো হলে লেবারের সমর্থন ধরে রাখা এবং আসনটি ওয়ান নেশনের দখলে যাওয়া ঠেকানো সম্ভব হতে পারে।
এছাড়া মেলবোর্নের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নারি ওয়ারেন সাউথ আসনেও প্রচারণা চালাবে সংগঠনটি। আসনটি লেবার পার্টির দখলে রয়েছে এবং সেখানে দলটির ব্যবধান ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০২১ সালের আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, আসনটির ১৩ দশমিক ১ শতাংশ বাসিন্দা মুসলিম। ভিক্টোরিয়া রাজ্যে এ হার ৪ দশমিক ২ শতাংশ।
পশ্চিম মেলবোর্নের টারনেইট আসনেও স্বেচ্ছাসেবী মোতায়েন করবে এমভিএম। সেখানে মুসলিম বাসিন্দার হার ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ। আসনটিতে লেবার পার্টির ব্যবধান ১২ দশমিক ৩ শতাংশ। মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলোচনায় লেবার পার্টির প্রতি অসন্তোষের বিষয়টি উঠে আসায় আসনটিকে প্রচারণার লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানান ক্রায়েম।
লেবার পার্টির প্রতি মুসলিম সম্প্রদায়ের ক্ষোভ অবশ্য এখনো কাটেনি। বিশেষ করে ফিলিস্তিন ও গাজা পরিস্থিতি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং বিক্ষোভের অধিকার নিয়ে দলটির অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে বলে জানান এমভিএমের মুখপাত্র। তার মতে, ফিলিস্তিন ও গাজা ইস্যু এখনো বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারের প্রতি মুসলিম সম্প্রদায়ের অসন্তোষের প্রধান কারণ।
নির্বাচনে ভিক্টোরিয়ার নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষের সব আসনের জন্য ভোটারদের নির্দেশনামূলক কার্ড তৈরি করবে এমভিএম। গ্রিনভেল, নারি ওয়ারেন সাউথ এবং টারনেইটের ভোটকেন্দ্রগুলোতে স্বেচ্ছাসেবীরা এসব কার্ড বিতরণ করবেন।
সংগঠনটির এবারের নির্বাচনী অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে ইসলামবিদ্বেষ মোকাবিলা, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, আবাসনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলার অধিকার সুরক্ষিত রাখা। ফলে লেবারবিরোধী অবস্থান কিছুটা শিথিল করলেও ফিলিস্তিন ইস্যুতে দলটির প্রতি এমভিএমের অসন্তোষ বহাল থাকছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতে অভ্যন্তরীণ চাহিদার বৃদ্ধির কারণে নতুন ব্যবসার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলস্বরূপ, দেশটির সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি অক্টোবরে গত চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে বিদেশি অর্ডার কমে যাওয়ার কারণে নতুন কর্মী নিয়োগের গতি কিছুটা ধীর হয়েছে। বুধবার প্রকাশিত একটি জরিপে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এইচএসবিসির প্রকাশিত ভারতের সেবা খাতের ক্রয় ব্যবস্থাপক সূচক (পিএমআই) অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে সূচকের মান ছিল ৫৫ দশমিক ২। অক্টোবরে তা বেড়ে ৫৫ দশমিক ৮ হয়েছে। তবে প্রাথমিক হিসাবে সূচকটি ৫৬ দশমিক ২ হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। পিএমআই সূচকের মান ৫০-এর বেশি হলে প্রবৃদ্ধি এবং ৫০-এর নিচে থাকলে সংকোচন হয়েছে বলে ধরা হয়।
জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, নতুন ব্যবসার পরিমাণ জুনের পর অক্টোবরে সবচেয়ে দ্রুত বেড়েছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে দেশের ভেতরে অর্ডারের বৃদ্ধি চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে বিদেশি বাজারে চাহিদা খুব একটা বাড়েনি। নতুন রপ্তানি অর্ডারের প্রবৃদ্ধি গত ৪৫ মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম ছিল। এদিকে, সেবা খাতে নতুন কর্মী নিয়োগের গতিও কমেছে। অক্টোবরে কর্মী নিয়োগের হার ছিল গত জুনের মতোই। গত ১০ মাসের মধ্যে এটিই ছিল সর্বনিম্ন নিয়োগের হার।
অন্যদিকে, পণ্য ও সেবার দাম বাড়ার চাপ কিছুটা কমেছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া দাম গত চার মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম হারে বেড়েছে। এছাড়া, উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির হার গত ছয় বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।
তবে বিদ্যুৎ, শ্রমিক, কাঁচামাল ও পরিবহন খরচ বেড়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে। ব্যবসার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর আস্থাও সেপ্টেম্বরে তুলনায় কমেছে। এই ক্ষেত্রে সূচকটি দীর্ঘমেয়াদি গড়ের নিচে রয়েছে। ফলে বোঝা যায়, ভবিষ্যৎ ব্যবসা নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো আশাবাদী থাকলেও সতর্ক রয়েছে।
এদিকে, উৎপাদন ও সেবা—দুই খাতের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া পিএমআই সূচকও বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে এই সূচকের মান ছিল ৫৫ দশমিক ৯। অক্টোবরে তা বেড়ে ৫৬ দশমিক ২ হয়েছে। গত চার মাসের মধ্যে এটিই ছিল সর্বোচ্চ অবস্থান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতকে পরিচ্ছন্ন ও পর্যটকবান্ধব রাখার লক্ষ্যে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে পরিবেশ অধিদপ্তর, পটুয়াখালীর উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অভিযানে অংশগ্রহণ করেন ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোন, ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক), স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ধূমকেতু, উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন (উপরা), অ্যানিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালী এবং ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠনের শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক।
সৈকতের জিরো পয়েন্ট থেকে পশ্চিম দিকে প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়। পরে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সচেতন করার পাশাপাশি সৈকত পরিচ্ছন্ন রাখার বার্তা ছড়িয়ে দেন আয়োজক ও স্বেচ্ছাসেবকরা। এ সময় জিরো পয়েন্টে পরিচ্ছন্নতা-সচেতনতামূলক স্লোগানসংবলিত সাইনবোর্ড ও ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ইয়াসীন সাদেক, টোয়াকের সেক্রেটারি জেনারেল আসাদুজ্জামান মিরাজ, উপরা’র আহ্বায়ক কেএম বাচ্চু, কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব নেছার উদ্দিন হাওলাদার এবং কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শামিম রেজা।
কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব নেছার উদ্দিন হাওলাদার মন্তব্য করেন, পরিচ্ছন্ন কুয়াকাটা গড়ে তুলতে তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, "শুধু এক দিনের অভিযান নয়, নিয়মিত সৈকত পরিষ্কার রাখা এবং নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। এ কাজে তারা সব সময় সহযোগিতা করতে চান।"
টোয়াকের সেক্রেটারি জেনারেল আসাদুজ্জামান মিরাজ বলেন, "কুয়াকাটার পর্যটনশিল্পের প্রধান আকর্ষণ সমুদ্রসৈকত। সৈকত অপরিচ্ছন্ন থাকলে পর্যটকদের কাছে নেতিবাচক বার্তা যায়। তাই পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে।" তিনি পর্যটকদেরও সচেতন করার আহ্বান জানান।
পৌরসভার প্রশাসক ইয়াসীন সাদেক বলেন, "কুয়াকাটাকে পরিচ্ছন্ন ও পর্যটকবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে পৌরসভার পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে এ কাজে শুধু পৌরসভার উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, পর্যটক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো সম্মিলিতভাবে কাজ করলেই পরিচ্ছন্ন কুয়াকাটা গড়ে তোলা সম্ভব।"
পরিবেশ অধিদপ্তর, পটুয়াখালীর সহকারী পরিচালক লোভানা জামিল বলেন, "কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের সমুদ্রসৈকতে রূপান্তর করতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্ন সৈকত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।" তিনি জানান, সেই লক্ষ্যেই পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি জিরো পয়েন্টে সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড ও ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছে।
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ