ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
উগান্ডা

বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ রাজা ওয়ো নাইম্বা ৩৪ বছর বয়সে মারা গেছেন


বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ রাজা ওয়ো নাইম্বা ৩৪ বছর বয়সে মারা গেছেন

তিনি মাত্র তিন বছর বয়সে সিংহাসনে বসেছিলেন। তখন থেকেই তিনি বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ রাজা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। উগান্ডার তোরো রাজ্যের রাজা ওয়ো নাইম্বা কাবাম্বা ইগুরু রুকিদি চতুর্থ ছিলেন তিনি। ১৯৯৫ সালে তাঁর মাথায় রাজমুকুট উঠেছিল। রাজকীয় জীবন শুরু হয়েছিল শৈশবেই। তিনি ৩১ বছর ধরে রাজত্ব করেছেন। কিন্তু তাঁর জীবন থেমে গেছে মাত্র ৩৪ বছর বয়সে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়।

তোরো রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ক্যালভিন আর্মস্ট্রং রোওমিরে আকিকি বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি বার্তায় রাজার মৃত্যুর খবর ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, ‘গভীর দুঃখ ও ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমি তোরোর মহামান্য ওমুকামা, রাজা ওয়ো নাইম্বা কাবাম্বা ইগুরু রুকিদি চতুর্থের মৃত্যুর খবর ঘোষণা করছি।’

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু

প্রধানমন্ত্রী জানান, রাজা স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১০টার দিকে মারা যান। তবে তাঁর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এর আগে উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইয়োওয়েরি মুসেভেনির সরকারের মন্ত্রী বালাম বারুগাহারা জানিয়েছিলেন, রাজা ওয়ো যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

রাজা ওয়ো নাইম্বা ছিলেন তোরো রাজ্যের শাসক। উগান্ডার পশ্চিমাঞ্চলে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর সীমান্তের কাছে অবস্থিত এই রাজ্যটি দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী রাজতন্ত্র।

বর্তমানে উগান্ডা একটি প্রজাতন্ত্র হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে এবং দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতা নির্বাচিত সরকারের হাতে রয়েছে। তবে দেশে কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী রাজতন্ত্র এখনো টিকে আছে। এসব রাজপরিবারের রাজনৈতিক ক্ষমতা মূলত প্রতীকী হলেও সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে তাদের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।

আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা

রাজা ওয়োর বাবা রুকিরাবাসাইজা প্যাট্রিক ডেভিড ম্যাথিউ কাবোয়ো ওলিমি তৃতীয় মারা যাওয়ার পর ১৯৯৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর মাত্র তিন বছর বয়সে তিনি সিংহাসনে বসেন। পরবর্তী সময়ে তিনি বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ ক্ষমতাসীন রাজা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। সূত্র: রয়টার্স।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাউফলে ঘাসে বিষক্রিয়ায় ৩০ মহিষ অসুস্থ, মারা গেছে তিনটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:১২ পি.এম


বাউফলে ঘাসে বিষক্রিয়ায় ৩০ মহিষ অসুস্থ, মারা গেছে তিনটি

পটুয়াখালীর বাউফলের বিচ্ছিন্ন চরে ঘাসে বিষক্রিয়ার ফলে ৩০টি মহিষ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে তিনটি মহিষের মৃত্যু ঘটেছে। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের লালচর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অসুস্থ মহিষগুলোর চিকিৎসা শুরু করেন। তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, খাবারে বিষক্রিয়ার কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

মহিষ মালিক এবং স্থানীয় কৃষকরা জানান, চরাঞ্চলের বেশ কয়েকজন কৃষকের মহিষগুলো গোয়ালঘরে ঢুকে খাবার খাওয়ার পর অসুস্থ হতে শুরু করে। এরপর একে একে কয়েকটি মহিষের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। সন্ধ্যার দিকে তিনটি মহিষ মারা যায়। অসুস্থ মহিষগুলোর মধ্যে কয়েকটির অবস্থা গুরুতর।

মহিষ মালিকদের সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো ঘাস খাওয়ানোর জন্য রাখালেরা শতাধিক মহিষ নিয়ে লালচরে যান। কিন্তু চরের ঘাসে আগে থেকেই দুর্বৃত্তরা বিষ প্রয়োগ করে রেখেছিল। সেই ঘাস খেয়ে ৩০টির বেশি মহিষ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর মধ্যে রফিজ মৃধার একটি, সুমন মাঝির একটি ও রুহুল আমিনের একটি মহিষ মারা গেছে।

উপজেলা উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই কয়েকটি মহিষ মারা গেছে। বাকি মহিষগুলোর চিকিৎসা চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খাবারের বিষক্রিয়ায় মহিষগুলোর মৃত্যু ঘটেছে।

উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা শুভেন্দু সরকার বলেন, ঘাস খেয়ে মহিষগুলো অসুস্থ হতে পারে। এছাড়া কৃত্রিমভাবে বিষক্রিয়ার কারণও হতে পারে। মহিষের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। প্রতিবেদন পেলে বিস্তারিত জানা যাবে।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সিরাজুল ইসলাম জানান, প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রাথমিকভাবে মহিষগুলোর বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ ও কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৫৭ মুসলিম দেশের জোট ওআইসির নতুন মহাসচিব ইসমাইল উলদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:১৩ পি.এম


৫৭ মুসলিম দেশের জোট ওআইসির নতুন মহাসচিব ইসমাইল উলদ

মুসলিম বিশ্বের ৫৭টি দেশের জোট ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) নতুন মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মৌরিতানিয়ার অভিজ্ঞ কূটনীতিক ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ। তাকে বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের জেদ্দায় ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বিশেষ বৈঠকে নির্বাচিত করা হয়।

ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ বর্তমান মহাসচিব চাদের হুসেইন ইব্রাহিম তাহার স্থলাভিষিক্ত হবেন। তাহার মেয়াদ ২০২১ সালের নভেম্বরে শুরু হয়েছিল এবং আগামী নভেম্বর মাসে তা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন মহাসচিবের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর।

দীর্ঘ কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা-

নতুন মহাসচিব হিসেবে ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা তিন দশকেরও বেশি। তিনি ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত মৌরিতানিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে, ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ইয়েমেনে জাতিসংঘের বিশেষ দূত হিসেবেও কাজ করেছেন। জাতিসংঘে দায়িত্ব পালনকালে ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। ফলে, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকট সম্পর্কে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

আফ্রিকান ইউনিয়নের সমর্থন ছিল-

ওআইসির মহাসচিব পদে ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদের প্রার্থিতা পূর্বেই আফ্রিকান ইউনিয়নের সমর্থন লাভ করেছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আফ্রিকান ইউনিয়ন আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৭-২০৩২ মেয়াদের জন্য তার প্রার্থিতাকে সমর্থন করে। ৫৭ সদস্যের ওআইসি মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও এশিয়ার বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী দেশগুলোকে নিয়ে গঠিত। সংগঠনটির সদর দপ্তর সৌদি আরবের জেদ্দায় অবস্থিত।

ফিলিস্তিন ইস্যুও ছিল বৈঠকের আলোচনায়-

নতুন মহাসচিব নির্বাচনের বৈঠকে শুধু নেতৃত্ব পরিবর্তন নয়, ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও জেরুজালেমের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিসহ মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত, ফিলিস্তিন সংকট এবং মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার সময়ে ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদের মতো অভিজ্ঞ কূটনীতিকের নেতৃত্ব ওআইসির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তথ্য সূত্র -

গালফ নিউজ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সলিড ফুয়েল চালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালালো রাশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:১৫ পি.এম


সলিড ফুয়েল চালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালালো রাশিয়া

রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় আরখানগেলস্ক অঞ্চলের প্লেসেৎস্ক কসমোড্রোম থেকে দেশটির সামরিক বাহিনী সফলভাবে ভ্রাম্যমাণ সলিড-ফুয়েল চালিত আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (আইসিবিএম) পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে।

শুক্রবার রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, একটি মোবাইল লঞ্চার ইউনিটকে দুর্গম এলাকায় স্থানান্তরিত করে সেখান থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। প্রায় ৬ হাজার ৭০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে এটি রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলের কামচাটকা উপদ্বীপের কুরা টেস্ট সাইটে পৌঁছায়।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ভিডিওতে বনাঞ্চল থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের দৃশ্য দেখা যায়। সামরিক বাহিনী জানায়, এই পরীক্ষার উদ্দেশ্য ছিল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাটির কৌশলগত, কারিগরি ও উড্ডয়ন সক্ষমতা যাচাই করা।

মন্ত্রণালয়ের দাবি, পরীক্ষার সব নির্ধারিত লক্ষ্য সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্রটি ‘নিখুঁত গতিপথ’ বজায় রেখেছে।

তবে, পরীক্ষায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের সুনির্দিষ্ট নাম জানায়নি রাশিয়া। এর আগে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর মহড়ার অংশ হিসেবে প্লেসেৎস্ক থেকে কুরা পর্যন্ত আরএস-২৪ ইয়ার্স ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করা হয়েছিল বলে জানা যায়।

এদিকে, সর্বশেষ এই পরীক্ষা এমন একটি সময়ে সম্পন্ন হলো, যখন এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে ইউক্রেনীয় ড্রোন রাশিয়ার একমাত্র সামরিক স্পেসপোর্ট প্লেসেৎস্কে হামলা চালিয়েছে বলে যাচাই না হওয়া প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। সূত্র:

মস্কো টাইমস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশে ৬ লাখ চাকরি হারানোর শঙ্কা : বিশ্বব্যাংক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:১৮ পি.এম


বাংলাদেশে ৬ লাখ চাকরি হারানোর শঙ্কা : বিশ্বব্যাংক

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পড়ছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি গ্যাস সংকটের কারণে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং সার উৎপাদনের পরিমাণ কমছে।

 

পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয়ের বৃদ্ধি ঘটছে। এই পরিস্থিতির প্রভাব পণ্যের দাম, কৃষি, মানুষের আয়-রোজগার এবং কর্মসংস্থানেও পড়ছে। যদি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বাংলাদেশে প্রায় ৬ লাখ মানুষ চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিশ্বব্যাংক। একই সঙ্গে, চলতি বছরে দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার কথা ছিল এমন মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।

 

বিশ্বব্যাংকের জুনের মাঝামাঝি সময়ে করা মূল্যায়নে এসব ঝুঁকির বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে। সরকারকে বাজেট সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রস্তাবিত একটি প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই মূল্যায়নটি করা হয়।

বাংলাদেশ এমন একটি অবস্থানে এসে পৌঁছেছে, যখন অর্থনীতি ইতোমধ্যে চাপে রয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল ব্যাংক খাত এবং সরকারের সীমিত আর্থিক সক্ষমতার কারণে নতুন কর্মসংস্থান প্রত্যাশিত হারে তৈরি হচ্ছে না।

 

বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মধ্যে দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা আনুমানিক ১৪ লাখ বেড়ে যাবে। ২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ না হলে প্রায় ১৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে পারতেন। কিন্তু যুদ্ধের প্রভাবে এই সংখ্যা কমে প্রায় ৫ লাখে দাঁড়াতে পারে। অর্থাৎ যুদ্ধের কারণে দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ হারাতে পারেন আরও প্রায় ১২ লাখ মানুষ।

বিশ্বব্যাংকের মতে, এই বছর দেশে দারিদ্র্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব প্রায় ১০ শতাংশ থাকবে।

 

জ্বালানির দাম ধাপে ধাপে সাধারণ মানুষের ওপর চাপানো হলে মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেতে পারে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেলে পরিবহন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, যা শিল্পকারখানার উৎপাদন খরচকেও প্রভাবিত করবে। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়বে খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের দামে।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সম্প্রতি বলেছেন, জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের নিচে নেমেছে। তিনি মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ না হলে মূল্যস্ফীতি আরও কমত।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের সরাসরি প্রভাব দেশের জ্বালানি খাতে পড়ছে। বাংলাদেশের প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহের অর্ধেকের বেশি আসে গ্যাস থেকে। কিন্তু দেশে গ্যাসের উৎপাদন ২০১৬ সালের সর্বোচ্চ উৎপাদনের তুলনায় ১৫ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে, আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ এবং এলএনজির ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে।

যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মধ্যে পেট্রোবাংলার ছয়টি এলএনজি সরবরাহ চুক্তির পাঁচটিকে ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করা হয়েছে। স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম বেড়ে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪ থেকে ২৮ ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের দামের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি। সংকটের মধ্যে সেপ্টেম্বরে সরবরাহের জন্য দুটি এলএনজি চালান কিনতে বাংলাদেশকে প্রতি ইউনিটে ২৪ ডলারের বেশি দিতে হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জ্বালানি খাতে সরকারের ভর্তুকি জিডিপির ২ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। সব মিলিয়ে ভর্তুকির চাপ ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন থেকে ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়াতে পারে। এতে অন্যান্য খাতে সরকারি ব্যয় কমার ঝুঁকি রয়েছে।

জ্বালানি সংকট কৃষিতেও প্রভাব ফেলছে। দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। সার উৎপাদন ও আমদানিতে সমস্যা হলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বেন ছোট কৃষকরা।

বাংলাদেশে প্রতি হেক্টর জমিতে গড়ে ৩৯১ দশমিক ৯ কেজি সার ব্যবহার করা হয়, যা বৈশ্বিক গড়ের দ্বিগুণের বেশি। দেশে সার উৎপাদনের জন্যও গ্যাস প্রয়োজন। ইতোমধ্যে ছয়টি ইউরিয়া সার কারখানার পাঁচটিকে গ্যাস সংকটে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে। এদিকে ইউরিয়ার দামও বেড়ে গেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের আশঙ্কা, সংকট দীর্ঘ হলে সারের দাম দ্বিগুণ হতে পারে।

জ্বালানি ও সরবরাহ সংকটে স্বাস্থ্য খাতের ব্যয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশে প্রায় ১৯ হাজার সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ছয় হাজার ২০০ বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক রয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা হলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে, ফলে জ্বালানি ব্যয় বাড়ছে।

দেশের প্রায় ২৫০টি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে ওষুধ তৈরির কাঁচামাল আনে। এ ছাড়া হাসপাতালের ৯০ শতাংশের বেশি সরঞ্জাম আমদানিনির্ভর। তাই আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় সংকট ও জাহাজভাড়া বৃদ্ধি পেলে স্বাস্থ্য খাতের ব্যয়ও বৃদ্ধি পায়।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব কর্মসংস্থানে পড়তে শুরু করেছে বলে মনে করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশিষ্ট ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, শিল্পকারখানায় নতুন করে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না। কোথাও কাজের সময় কমানো হয়েছে, আবার জ্বালানি সংকটে কিছু কারখানা বন্ধও হয়ে গেছে।

তাঁর মতে, কারখানা বন্ধ হওয়া ও শ্রমিকদের চাকরি হারানোর সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের ৬ লাখ চাকরি হারানোর আশঙ্কা সেই বাস্তবতাকেই আরও স্পষ্ট করেছে।

সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বাংলাদেশের জন্য শুধুমাত্র জ্বালানি সংকট নয়; বরং কর্মসংস্থান, কৃষি, মূল্যস্ফীতি, দারিদ্র্য এবং স্বাস্থ্যসেবায় একযোগে চাপ তৈরি করছে। সংকট দীর্ঘ হলে এর বোঝা সবচেয়ে বেশি বহন করতে হবে নিম্নআয়ের মানুষকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%