০৮:১৬ পি.এম
ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্সের একটি বিমান বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে অলৌকিকভাবে রক্ষা পেয়েছে। টেক অফ রোলের সময় দুইবার বিমানটির গতি কমে যাওয়ায় এটির নির্ধারিত টেক অফ প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়েছিল। তবে, টেক অফ না করে ফিরে আসার জন্য পর্যাপ্ত রানওয়ে অবশিষ্ট ছিল না। শেষ মুহূর্তে রানওয়ের মাত্র ৯১ মিটার বাকি থাকতে বিমানটি সফলভাবে উড়তে পারে।
গত ১৫ আগস্ট জার্মানির মিউনিখ বিমানবন্দরে এ ঘটনা ঘটে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিমানটি দুই ঘণ্টা আকাশে চক্কর দিয়ে আবার মিউনিখ বিমানবন্দরের দিকে ফিরে আসে।
এ ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছে ভিয়েতনামের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, ১৫ আগস্ট স্থানীয় সময় দুপুর আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটে ২৭১ জন যাত্রী এবং ১৬ জন ক্রু নিয়ে ফ্লাইট ভিএন৩৪ হ্যানয়ের উদ্দেশ্যে মিউনিখ বিমানবন্দর ত্যাগ করছিল। উড্ডয়ন প্রক্রিয়ার মাঝামাঝি সময়ে বিমানটির গতি দুই সেকেন্ডের জন্য থমকে গিয়েছিল এবং পরে এটি আবার গতি ফিরে পায় এবং উড্ডয়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের গতিতে পৌঁছে।
আরও পড়ুন: মুসলিম বনাম মুসলিম যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে মধ্যপ্রাচ্যে! হাসছে মার্কিন-ইসরাইল
কিন্তু এর পরপরই গতি আবারও কমে যায় বলে জানা গেছে। তখন পাইলটরা বুঝতে পারেন যে, উড্ডয়ন বাতিল করার মতো পর্যাপ্ত রানওয়ে আর অবশিষ্ট নেই। ফলে তারা টেক অফ করার সিদ্ধান্ত নেন এবং ইঞ্জিনের ক্ষমতা সর্বোচ্চ স্তরে নিয়ে যান। শেষপর্যন্ত, রানওয়ের একেবারেই শেষ প্রান্তে এসে মাত্র ৯১ মিটার বাকি থাকতে বোয়িং ৭৮৭ বিমানটি সফলভাবে আকাশে উড়ে যায়। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানটি উড্ডয়নের আগে রানওয়ের প্রায় পুরো অংশ ব্যবহার করেছে এবং এর পেছনে ধূলিঝড় তৈরি হয়েছে।
বিমানের রানওয়ে ছাড়ানোর পর বিমানের লেজ রানওয়েতে ঘষা লাগার আশঙ্কা ও টায়ারের চাপ সম্পর্কে সতর্কবার্তা জারি করা হয়। বিমানের ক্রুরা তাৎক্ষণিকভাবে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে বিষয়টি জানান এবং মিউনিখে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। অবতরণের সময় বিমানের ওজন কমানোর জন্য জ্বালানি বা ফুয়েল ডাম্প করতে হয়, ফলে বিমানটি প্রায় দুই ঘণ্টা আকাশে ৯ হাজার ফুট উচ্চতায় চক্কর দেয়। এর পর মিউনিখে এটি নিরাপদে অবতরণ করে।
অবতরণের পর বিমানটিতে টেইল স্ট্রাইক এবং চারটি চাকা ফেটে যাওয়ার মতো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। ফিরে আসার ভিডিও ফুটেজে অবতরণের সময় বিমানটির ল্যান্ডিং গিয়ারের চারপাশে ধোঁয়া দেখা যায়। অবতরণের পরে ভ্রাম্যমাণ সিঁড়ি ব্যবহার করে সকল যাত্রীকে নিরাপদে নামিয়ে টার্মিনালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই নাটকীয় ঘটনা এবং বিমানের ক্ষতি হওয়ার সত্ত্বেও সৌভাগ্যবশত বিমানে থাকা ২৮৭ জন যাত্রী এবং ১৬ জন ক্রু সবাই অক্ষত অবস্থায় রক্ষা পেয়েছেন।
এরপর ১৬ আগস্ট বিকেলের মধ্যে ফ্লাইটের সকল যাত্রীকে ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্স ও অন্যান্য এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে বিকল্প ভ্রমণের ব্যবস্থা করা হয়। যেসব যাত্রীর ভ্রমণের সময়সূচী পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে, তাদের জন্য উপযুক্ত বিকল্প ব্যবস্থার সহায়তা প্রদান করেছে বিমান সংস্থাটি। অন্যদিকে, বিকল্প ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষার সময় যাত্রীদের থাকার ব্যবস্থা, খাবার, পরিবহন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা আায়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ প্রদান করেছে।
আরও পড়ুন: জাপান ১ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু করবে
জার্মানি ও ভিয়েতনামের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখছে কেন উড্ডয়নের সময় বিমানটির গতি দুইবার কমে যায় এবং এর পেছনে কোনো কারিগরি ত্রুটি ছিল কিনা। ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্স জানিয়েছে যে, বিমানটিতে কারিগরি সমস্যা দেখা দিয়েছিল এবং ক্রু সদস্যরা নির্ধারিত নিরাপত্তা বিধি অনুসরণ করেছিলেন। এই ঘটনার তদন্তে বিমান সংস্থাটি বোয়িং এবং বিমানের ইঞ্জিন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন