০৪:৫০ পি.এম
ঢাকা, ৬ অক্টোবর, ২০২৬ : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ মন্তব্য করেছেন যে, মৎস্যখাতের গুরুত্বের কারণে এই খাতে বরাদ্দের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। তবে বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থের অপচয় বন্ধে যথাযথ ব্যবহার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা আবশ্যক।
আজ মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক আয়োজিত ‘মৎস্যখাতে বাজেট ও সরকারের উন্নয়ন ভাবনা’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই বিষয়গুলো তুলে ধরেন। মৎস্য ভবনে এই কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।
মন্ত্রী বলেন, ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ এই পরিচয়ের সাথে মৎস্যখাতের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তবে প্রাকৃতিক জলাশয় সংকুচিত হওয়া ও পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে দেশীয় মাছের প্রাপ্যতা হ্রাস পেয়েছে। তাই উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে অভয়াশ্রমের গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকল্প গ্রহণ ও অর্থ ব্যয় করলেই হবে না, বরং অভয়াশ্রমের কার্যকারিতা মাঠপর্যায়ে যাচাই করা প্রয়োজন।
মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ আরও বলেন, মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তারের সুযোগ তৈরি করা অভয়াশ্রমের মূল উদ্দেশ্য। কোথায় কত টাকা ব্যয় হয়েছে, সেই অর্থে প্রকৃতপক্ষে কী কাজ হয়েছে এবং মাছের উৎপাদনে তার প্রভাব কেমন, এসব বিষয় নিয়মিত পর্যালোচনা করা জরুরি।
মৎস্যজীবীদের তালিকা নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, যদি ভুয়া বা অযোগ্য ব্যক্তির নাম তালিকায় থাকে, তাহলে প্রকৃত মৎস্যজীবীরা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। তাই স্থানীয় পর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ে কর্মকর্তাদেরকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় বিভিন্ন দেশ বাণিজ্যিকভাবে টুনা আহরণ করছে। বাংলাদেশও এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারে। তবে জরিপ পরিচালনা ও অর্থ ব্যয় করার পাশাপাশি জরিপের ফলাফল কীভাবে বাস্তব মৎস্য আহরণে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম
মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ আরও বলেন, গভীর সমুদ্রের মৎস্যসম্পদ কাজে লাগাতে বাংলাদেশকে দক্ষ জনবল, উপযুক্ত জাহাজ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি মৎস্য খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়মিত খামার পরিদর্শন ও কার্যক্রম তদারকি করতে হবে। এর ফলে দেশের মৎস্য খাত আরও উন্নতি লাভ করবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মিঠাপানির মাছের উৎপাদন বাড়ানো, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং খাল-বিল, নদী-নালা ও অন্যান্য জলাশয়কে মৎস্য উৎপাদনের আওতায় আনার বিষয়ে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪
তিনি উল্লেখ করেন, মৎস্য খাতের টেকসই উন্নয়নে দূষণমুক্ত জলাশয় ও নদ-নদী এবং নদীর নাব্যতা রক্ষা করা জরুরি। পাশাপাশি উৎপাদনের সাথে মৎস্যপণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের সভাপতিত্বে কর্মশালায় সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য অধ্যাপক এ এস এম গোলাম হাফিজ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন