বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:২৭ পি.এম
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জেলিযুক্ত চিংড়ি মাছ বিক্রির দায়ে তিন মাছ ব্যবসায়ীকে মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে অভিযান চালিয়ে ৭০ কেজি জেলিযুক্ত চিংড়ি মাছ জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভৈরব পৌর শহরের পলতাকান্দা এলাকার নৈশ মৎস্য আড়তে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এএইচএম আজিমুল হক। অভিযানে সহযোগিতা করেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সারোয়ার হোসেন। এ সময় ভৈরব নৌ থানা পুলিশের সদস্য ও উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, মৎস্য সম্পদ সুরক্ষা ও প্রজনন বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অফিসের সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার বিকেলে পলতাকান্দা এলাকার নৈশ মৎস্য আড়তে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে ডলফিন মৎস্য আড়ত থেকে ২৫ কেজি, অন্তর ফিশ এন্টারপ্রাইজ থেকে ৩৫ কেজি এবং বিসমিল্লাহ ফিশ এন্টারপ্রাইজ থেকে ১০ কেজিসহ মোট ৭০ কেজি জেলিযুক্ত চিংড়ি মাছ জব্দ করা হয়।
পরে মৎস্য ও মৎস্য পণ্য (পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০২০-এর অধীনে ডলফিন মৎস্য আড়তের মালিক মোবারক মিয়াকে ৩০ হাজার টাকা, অন্তর ফিশ এন্টারপ্রাইজের মালিক সুদন বর্মণকে ২০ হাজার টাকা এবং বিসমিল্লাহ ফিশ এন্টারপ্রাইজের মালিক সেলিম মিয়াকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এএইচএম আজিমুল হক বলেন, ভৈরব একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক নদীবন্দর এলাকা। প্রতিদিন বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে নানা প্রজাতির মাছ পলতাকান্দা নৈশ মৎস্য আড়তে আসে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলিযুক্ত চিংড়ি বিক্রির তথ্য পেয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তিনি বলেন, চিংড়িতে জেলি প্রয়োগের মাধ্যমে মাছের ওজন বাড়ানো হয়, যা ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। একই সঙ্গে এ ধরনের মাছ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
তিনি আরও জানান, জব্দ করা জেলিযুক্ত মাছগুলো জনসম্মুখে বিনষ্ট করা হবে। মৎস্য পণ্যের মান ও ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২৩ সেপ্টেম্বর রোজ বুধবার নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের, সভাপতি মোঃ সাখাওয়াত ইসলাম রানার ও সদর এবং ওয়ার্ডের পক্ষ থেকে,
এম আর মোঃ গনি মোস্তফা, প্রশাসনিক বিষয় সম্পাদক কেন্দ্রীয় কমিটির, শুভ জন্মদিনের শুভেচ্ছা ও কেক কেটে পালন করেন বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, আমার মোঃ গনি মোস্তফা, মোঃ সাখাওয়াত ইসলাম রানা,
সদর থানা জাকির হোসেন, জহিরুল ইসলাম, মোহাম্মদ বাবুসহ অন্যান্য বিভিন্ন ওয়ার্ডে নেতৃবৃন্দ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, "মানবিকতার তাগিদেই বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত খুলে দিয়েছিল।" তবে তিনি সতর্ক করেন যে, দীর্ঘদিন ধরে এই সংকটের ভার একা বাংলাদেশের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। সংকটের উৎপত্তি যেহেতু মিয়ানমারে, এর টেকসই সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সংকটের স্থায়ী সমাধান, বিচার ও জবাবদিহি এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আলোচনা হয়।
তারেক রহমান বলেন, "দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা বৈষম্য, নিপীড়ন ও বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছেন।" ২০১৭ সালে সহিংসতার পর সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। বর্তমানে বাংলাদেশ ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবিক দায়িত্ব পালন করছে। কিন্তু মিয়ানমারে সহিংসতা অব্যাহত থাকায় নতুন করে মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশের শিবিরগুলোতে রোহিঙ্গাদের খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রায় ৬ হাজার লার্নিং সেন্টারের মাধ্যমে শিশুদের মিয়ানমারের পাঠ্যক্রমভিত্তিক শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে তারা রাখাইন রাজ্যে পুনঃএকীভূত হতে পারে।
তবে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘমেয়াদি এই পরিস্থিতির কারণে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীসহ বাংলাদেশের ওপর সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চাপ বাড়ছে। তিনি বলেন, "দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা মানবপাচার, মাদকপাচার, অবৈধ অভিবাসন ও অন্যান্য আন্তঃদেশীয় অপরাধের ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে।"
তারেক রহমান বলেন, "মানবিক সহায়তার প্রয়োজন বাড়লেও আন্তর্জাতিক অর্থায়ন কমছে।" ২০২৫ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনায় ৯৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি সহায়তা চাওয়া হলেও ২০২৬ সালের জন্য সেই আবেদন কমে প্রায় ৭১০ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তার মতে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকা উচিত নয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "মানবিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তার বিকল্প হতে পারে না।" তিনি সতর্ক করেন যে, অনির্দিষ্টকাল ধরে শুধু বাংলাদেশকেই এ দায়িত্ব বহন করতে বলা যায় না।
তিনি জানান, রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি এখনো গভীরভাবে উদ্বেগজনক। রোহিঙ্গারা জোরপূর্বক নিয়োগ, নির্বিচারে আটক, চলাচলে বিধিনিষেধ, জোরপূর্বক শ্রমসহ বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তাহীনতার মুখে রয়েছে। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মি- উভয়ের বিরুদ্ধেই গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগের তথ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।
রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ প্রণয়নের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারের বেসামরিক জনগণের ওপর সহিংসতা বন্ধ, পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা নিশ্চিত, বিচার ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা এবং মানবপাচার, মাদকপাচার ও অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, "বাংলাদেশ চায় না রোহিঙ্গারা চিরকাল বাস্তুচ্যুত অবস্থায় থাকুক।" নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত হলে তাদের নিজভূমিতে প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও দৃঢ়ভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে দেশটি সরে আসবে না।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তিনি এই বক্তব্য দেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেন, ইরান আলোচনার জন্য প্রস্তুত, তবে আগ্রাসীদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার জন্যও তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
মাসুদ পেজেশকিয়ান বুধবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ প্রদান করেন।
মেহের নিউজ এজেন্সি জানায়, ভাষণের শুরুতে পেজেশকিয়ান আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং মিনাবের স্কুলশিক্ষার্থীদের ছবি তুলে ধরেন, যারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসনের প্রথম দিনে নিহত হয়।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র লামের্দ এলাকায় ইরানি শিশুদের ওপর ক্লাস্টার বোমা নিক্ষেপ করেছিল। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে সন্ত্রাসবাদের দায়ে অভিযুক্ত করে, অথচ তারাই নিজে জঘন্যতম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘গত ২০০ বছরে ইরান কোনো দেশ আক্রমণ বা দখল করেনি, তবে সর্বদা দৃঢ়তার সঙ্গে নিজেদের রক্ষা করেছে।’
পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার ইরান ত্যাগ করবে না।’
ইরান আত্মরক্ষার জন্য প্রস্তুত আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বোমা বা আগ্রাসনের মাধ্যমে প্রতিরোধকে পরাজিত করা যায় না। তারা ইরানের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল, কিন্তু তারা জেনেছে যে ইরানিরা যুদ্ধকে ভয় পায় না।’
পেজেশকিয়ান বলেন, ‘ইসরাইলের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে, অথচ আইএইএর পরিদর্শকরা ইরানে আসার জন্য তৎপরতা চালাচ্ছে।’
তিনি বলেন, তেহরান আলোচনার জন্য প্রস্তুত থাকলেও কোনো ধরনের জোর-জবরদস্তি বা ধমকের ভাষা মেনে নেবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ