০৬:৩২ এম
মরক্কোর জাতীয় মানবাধিকার পরিষদ (সিএনডিএইচ) জানিয়েছে, স্পেন নিয়ন্ত্রিত সেউটা ছিটমহলে গত সপ্তাহের ব্যাপক অনুপ্রবেশের চেষ্টার পটভূমিতে মরক্কোর অংশে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে পৌঁছেছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানায় সংস্থাটি। স্পেনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঘটনায় মোট ৮০ জনের মত্যু হয়েছে বলেও জানিয়েছে পরিষদ।
এর আগে মরক্কোর অংশে নিহতের সংখ্যা ১১ জন বলে জানানো হয়েছিল, কিন্তু নতুন তথ্য অনুযায়ী, সেই সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে পৌঁছেছে।
আরও পড়ুন: বাকৃবিতে উদ্বোধন হলো সার্জারি গ্যালারি
সিএনডিএএইচ সেউটায় অনিয়মিত অভিবাসীদের পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেছে, অভিবাসীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সেখানকার কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে।
সংস্থাটির দাবি, সেউতার কর্তৃপক্ষ রেস্তোরাঁ, ক্যাফে ও বড় দোকান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল, ফলে অভিবাসীরা খাবার ও পানির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
এ ছাড়া, সিএনডিএইচ সেউটার ভেতরে অনিয়মিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী ঘটনার নথিভুক্ত করার কথা জানায়। তাদের অভিযোগ, অভিবাসীদের জন্য প্রদানকৃত সুরক্ষা ও মানবিক সহায়তা ছিল অপর্যাপ্ত।
পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনায় মোট ১৩৬ জন বেসামরিক ব্যক্তি সামান্য আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং আহতদের মধ্যে বেশির ভাগের হাড় ভেঙে যায় অথবা সিটি স্ক্যানের প্রয়োজন হয়।
আরও পড়ুন: আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে অবাধ-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ : স্পিকার
এদিকে, মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনীর ৮৭ সদস্যকে চিকিৎসা পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা প্রদানের খবরও দিয়েছে পরিষদ। কিন্তু স্পেনের নিরাপত্তা বাহিনীর কতজন সদস্য আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষ কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ১০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যার মধ্যে ১১ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক।
স্পেন নিয়ন্ত্রিত মেলিলা ছিটমহলের কাছে উত্তরাঞ্চলীয় শহর বেনি আনসারে একটি পৃথক ঘটনায় ২৩ জনকে নাদোর আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন দুজন বিদেশি নাগরিক। একই ঘটনায় ১১ অপ্রাপ্তবয়স্ককে বিচারিক তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া, ফনিদেক ও বেনি আনসার সীমান্ত এলাকায় ৬১টি ব্যক্তিগত গাড়ি, ১৫টি মোটরসাইকেল এবং মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনীর ১৮টি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিষদ।
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর ইরানে হামলার পরিকল্পনা আটকে দেন ট্রাম্প
২৯ থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সেউটার সীমান্ত বেড়ার কাছে কয়েক হাজার মরক্কোর নাগরিক জড়ো হন। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল ছিটমহলটিতে প্রবেশের সবচেয়ে বড় অনিয়মিত অভিবাসন প্রচেষ্টা। পরে অধিকাংশ অভিবাসী মরক্কোর ফনিদেক শহরে ফিরে যান।
সোমবার সেউটা কর্তৃপক্ষ জানায়, গণঅনুপ্রবেশের পর ৬৯ হাজারের বেশি মানুষ মরক্কোতে ফিরে গেলেও, ছিটমহলটির ভেতরে এখনো ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার অভিবাসী অবস্থান করছেন।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
আরও পড়ুন: ইসরাইলের অস্তিত্বের প্রশ্নে বিভক্ত দুই শিবির, নেতানিয়াহুর জোট ও বিরোধী দলের লড়াই
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন