০৫:২৮ পি.এম
ঢাকা, ১৫ আগস্ট, ২০২৬ : বিএনপির কেউ অপরাধে জড়িত থাকলেও তাকে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করার ব্যাপারে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব নিশ্চিত করেছেন।
তিনি আরও জানান, মানুষের বা এলাকার ক্ষতি হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ডের দিকে নজর দেয়া হবে এবং তা মেনে নেওয়া হবে না। রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অপরাধীদের সঙ্গে আপস করা হবে না।
আজ রাজধানীর রাজারবাগ-সবুজবাগ এলাকায় শ্রী শ্রী বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির মাঠে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ ও মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে তিনি এসব বিষয়ে আলোচনা করেন।
আরও পড়ুন: ‘ক্ষমতা বাড়লো বা কমলো, তার চেয়ে জরুরি শিক্ষা-স্বাস্থ্যের সংস্কার ও কর্মসংস্থান’
প্রতিমন্ত্রী হাবিব বলেছেন, মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কাউকে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে ছাড় দেওয়া হবে না এবং আইনের আওতায় আনতে হবে। বিএনপির কেউ এসব অপরাধে জড়িত থাকলে তাকে ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই উঠে না। তিনি বলেন, অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধেও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি প্রশাসনের কাছে আসা বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, 'মাদকের বিরুদ্ধে যাকে ধরতে হয়, তার রাজনৈতিক পরিচয় গ্রহণ করবেন না। সে যেই হোক, তাকে গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা সেই ব্যক্তির শাস্তি প্রত্যাশা করছি।'
হাবিবুর রশিদ আরও জানিয়েছেন, শুধুমাত্র প্রশাসনকে দোষারোপ করে হবে না। মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। বিএনপির অঙ্গসংগঠনগুলোকেও এই বিষয়ে একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, দলের মধ্যে গ্রুপিংয়ের কারণে কিছু সদস্য অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িতদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন। তিনি এসব ব্যক্তিদের সতর্ক হতে বলেছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। যদি কোনো নেতা ব্যক্তিগত স্বার্থে অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন, তাদের চিহ্নিত করা হবে। তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতেই হবে, বিকল্প নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
এলাকার উন্নয়ন সম্পর্কে হাবিবুর রশিদ বলেছেন, জনগণ ভোট দিয়ে বর্তমান সরকারকে নির্বাচিত করেছে, তাই মানুষের প্রত্যাশা ও দাবি বেশি। এসব দাবির প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং উন্নয়নকাজ চলছে।
তিনি বলেছেন, ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম দায়িত্ব নেওয়ার পর মানিকনগরের একটি সড়কের টেন্ডার হয়ে কাজ শুরু হয়েছে এবং ধলপুর-মানিকনগর থেকে ধলপুর মুগদা হাসপাতাল ও হাসপাতালের পাশে সড়কের কাজও শুরু হয়েছে। বাসাবো-মাদারটেক সড়কের কাজও চালাচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেছেন, 'এই তিনটি উন্নয়ন প্রকল্পই বর্তমানে চলমান রয়েছে। জনগণের যে দাবিগুলো রয়েছে, প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নয়নকাজ চলছে।'
ডিএসসিসি প্রশাসক আব্দুস সালামের উদ্যমের প্রশংসা করে হাবিবুর রশিদ বললেন, সিটি কর্পোরেশনের বাজেট স্বল্পতা থাকা সত্ত্বেও সালাম ভাই যথেষ্ট চেষ্টা করছেন এলাকার উন্নয়নে।
আরও পড়ুন: শিক্ষামন্ত্রী: স্কুল ও মাদরাসার বোর্ড পরীক্ষা একই প্রশ্নপত্রে
তিনি বলেন, এলাকার জনগণ খুব বেশি কিছু চায় না। তারা শুধুমাত্র ভালোভাবে চলাচল করার জন্য রাস্তায় চলাচলের সুযোগ, রাস্তার আলো এবং সঠিকভাবে বর্জ্য অপসারণের জন্য আবেদন করছেন।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গাফিলতির বিষয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের সতর্ক করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্জ্যের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গাফিলতি হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে যদি কেউ গাফিলতি করে বা অতিরিক্ত টাকা আদায় করে, তবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসককে আইনগত ও সিটি কর্পোরেশন আইনের আওতায় ব্যবস্থা নিতে হবে।
বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের কাছে সরকারের জবাবদিহি রয়েছে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
আরও পড়ুন: এনসিপির কমিটিতে ৩০ বছরের নিচে কাউকে রাখা হবে না
কর্মসূচিতে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম, বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির ও শ্মশান পরিচালনা কমিটির সভাপতি বাবু পবন দাস ও সাধারণ সম্পাদক বাবু গুরু দাসসহ বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন