ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাকেরগঞ্জে নবনিযুক্ত সহকারী শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত।


বাকেরগঞ্জে নবনিযুক্ত সহকারী শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত।

বরিশালের বাকেরগঞ্জে নবনিযুক্ত সহকারী শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন ও শ্রেণি কার্যক্রম পর্যালোচনা শেষে অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেলা ১টায় বাকেরগঞ্জ জেএসইউ মডেল হাই স্কুল হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন খান। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিলটন চন্দ্র পাল।

সভায় নবনিযুক্ত সহকারী শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, পাঠদান পদ্ধতির উন্নয়ন এবং শ্রেণিকক্ষের শিক্ষা কার্যক্রম আরও কার্যকর করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবিষয়ে আগ্রহ বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক শিক্ষার সার্বিক অগ্রগতিতে শিক্ষকদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

আরও পড়ুন: নারী শিল্পীদের উপস্থিতি নিয়ে আপত্তির কারণে সুনামগঞ্জে বাউল গানের আসর বন্ধ

সভায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা, শিক্ষক এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

নবনিযুক্ত শিক্ষকদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে অবহিত করা এবং শ্রেণি কার্যক্রমের মানোন্নয়নে দিকনির্দেশনা দেওয়ার মাধ্যমে এ ধরনের আয়োজন প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নকলায় দুর্গোৎসবের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৯ পি.এম


নকলায় দুর্গোৎসবের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে

মহালয়ার মাধ্যমে প্রতিটি হিন্দু পল্লীতে শুরু হচ্ছে দুর্গোৎসব। দুর্গোৎসব উপলক্ষে শেরপুরের নকলা উপজেলায় ২০টি মন্ডপে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। প্রতিমাতে তুলির আঁচড় ও মন্ডপ এলাকা সুসজ্জিত করার মাধ্যমে চলছে শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি। মন্ডপে মন্ডপে প্রতিমাতে রং করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। প্রতিমা অধিকতর আকর্ষণীয় করতে দিনভর পরিশ্রম করছেন তারা। শাস্ত্রীয় মতে এবার বিভিন্ন বার্তা নিয়ে দুর্গাদেবী ঘোটকে (ঘোড়া) চড়ে আগমন করছেন এবং নৌকায় চড়ে গমন করবেন।

নকলা উপজেলাটি ১টি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এবার উপজেলায় ২০টি মন্ডপ ঘিরে দুর্গোৎসব বা পূজা উদযাপন করা হবে। উপজেলার ৪নং গৌড়দ্বার ইউনিয়ন ও ৭নং টালকী ইউনিয়নে পূজা মন্ডপ স্থাপন করা হয়নি। পৌরসভায় ২টি, ১নং ডিজিটাল গনপদ্দী ইউনিয়নে ৪টি, ২নং নকলা ইউনিয়নে ২টি, ৩নং উরফা ইউনিয়নে ৩টি, ৫নং বানেশ্বরদী ইউনিয়নে ১টি, ৬নং পাঠাকাটা ইউনিয়নে ৩টি, ৮নং চরঅষ্টধর ইউনিয়নে ২টি ও ৯নং চন্দ্রকোনা ইউনিয়নে ৩টি মন্ডপের কাজ প্রায় শেষের পথে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট নকলা উপজেলা শাখার সদস্য সচিব আশীষ কুমার সাহা জানান, ১৬ অক্টোবর শুক্রবার শ্রীশ্রী দুর্গাদেবীর ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ ও ষষ্ঠী বিহিত পূজা প্রশস্তা। সায়ংকালে শ্রীশ্রী দুর্গাদেবীর বোধন আমন্ত্রণ ও অধিবাস অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১৭ অক্টোবর শনিবার শ্রীশ্রী শারদীয় দুর্গাদেবীর নবপত্রিকা প্রবেশ, স্থাপন, সপ্তম্যাদি কল্পরাম্ভ ও মহাসপ্তমী বিহিত পূজা প্রশস্তা। দেবীর ঘোটকে আগমন। ফল- ছত্রভঙ্গন্তরঙ্গমে। ১৮ অক্টোবর রবিবার শ্রীশ্রী দুর্গাদেবীর শুক্লা সপ্তমী বিহিত অধিক পূজা প্রশস্তা (অর্ধরাত ব্যাপি)। ১৯ অক্টোবর সোমবার শ্রীশ্রী শারদীয় দুর্গাদেবীর মহাষ্টম্যাদি কল্পারম্ভ, কেবল মহাষ্টমী কল্পারম্ভ ও মহাষ্টমী বিহিত পূজা (সন্ধিপূজা) প্রশস্তা অনুষ্ঠিত হবে। ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার শ্রীশ্রী দুর্গাদেবীর মহানবমী কল্পারম্ভ ও মহানবমী বিহিত পূজা প্রশস্তা এবং দেবীর নবরাত্রিক ব্রত সমাপ্ত হবে। ২১ অক্টোবর বুধবার শ্রীশ্রী শারদীয় দুর্গাদেবীর দশমী বিহিত পূজা ও পূজান্তে দর্পণ বিসর্জন প্রশস্তা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি জানান, শাস্ত্রীয় মতে এবার দুর্গা দেবী নৌকায় চড়ে কৈলাশে ফিরে যাবেন। ফল- শস্যবৃদ্ধিস্তথা জলবৃদ্ধি।

উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহবায়ক দেবজিৎ পোদ্দার ঝুমুর আশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘বিচালি ও মাটি দিয়ে দুর্গা দেবীসহ বিভিন্ন প্রতিমা তৈরি করে তার উপরে মনের মাধুরী মিশিয়ে রং করার কাজ চলছে। প্রতিমা তৈরির কারিগররা পরম যত্নে দেবীদুর্গা, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশসহ বিভিন্ন প্রতিমাতে রং করার কাজ করছেন। এবার কারিগররা প্রতিমাকে নতুন আঙ্গিকে তৈরি করার চেষ্টা করেছেন।’ তিনি জানান, পূজা উৎসবকে নির্বিঘ্নে সার্বজনীন উপভোগ্য করে তুলতে উপজেলা প্রশাসন পক্ষ থেকে সব ধর্ম-বর্ণ ও বিভিন্ন পেশা শ্রেণীর লোকজনের সমন্বয়ে প্রস্তুতি সভা করা হয়েছে। এছাড়া মন্দির ও মন্ডপগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। এরই মধ্যে আইন শৃঙ্খরা বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন কাজ শুরু করেদিয়েছেন বলে জানা গেছে।

নকলা কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী কালিমাতা মন্দির পূজা মন্ডপের সভাপতি শ্রী উত্তম কুমার বণিক জানান, দুর্গা প্রতিমা তৈরি করার জন্য অন্যান্য বছরের তুলনায় ভালো মানের কারিগর আনা হয়েছে। এতে খরচ বৃদ্ধি হলেও প্রতিমাকে অধিকতর আকর্ষণীয় করার জন্য নতুন নতুন ডিজাইন যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী কালিমাতা মন্দির পূজা মন্ডপের সাধারণ সম্পাদক শ্রী সুরঞ্জিত কুমার বণিক জানান, পূজা উদযাপনের জন্য পূজা মন্ডপ প্রস্তুতি প্রায় শেষ। প্রতিমা তৈরির মধ্য দিয়েই পূজার সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। প্রতিমা তৈরীর কাজ শেষ, এখন প্রতিমাতে রং করা ও মন্ডপ এলাকায় সাজসজ্জার কাজ চলছে। এবার জাঁকজমকভাবে ও নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপিত হবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোট নকলা উপজেলা শাখার সভাপতি শ্রী নয়ন চন্দ্র শীল বলেন ‘জাঁকজমকভাবে ও নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনের স্বার্থে সংশ্লিষ্টদের কাছে বেশ কিছু দফা উত্থাপন করেছি। এরমধ্যেমন্ডপ এলাকায় সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে মনিটরিং জোরদার করা। স্বেচ্ছাসেব টিম গঠন করে দায়িত্ব বন্টন করে দেওয়া। মন্ডপ এলাকায় কাউকে সন্দেহভাজন মনে হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খরা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট মন্ডপ কমিটির লোকজনকে অবহিত করা। ধর্মীয় শাস্ত্র যথাযথভাবে মেনে চলা এবং সকল প্রকার অশ্লীলতা পরিহার ও মাদক মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা। নারী ও শিশু ভক্ত এবং দর্শনার্থীদের জন্য আলাদা যাতায়াত ও বসার ব্যবস্থা করা। সর্বোচ্চ সতকর্তার সহিত শৃঙ্খলা বজায় রেখে প্রসাদ বিতরণ করা। নিজ নিজ বাসা-বাড়ী জনমানবহীন না রেখে নিজেদের সম্পদের নিরাপত্তা নিজেরাই নিশ্চিত করা। নারী দর্শনার্থীরা যেন বহিরাগতদের দ্বারা কোন প্রকার সমস্যার সম্মূখিন না হন সেদিকে নজর রাখা এবং মন্ডপ এলাকায় কেউ যেন অযথা ভিড় না জমান সেদিকে খেয়াল রাখা। বিশেষ করে সন্ধ্যার পরে নারী ভক্ত ও দর্শনার্থীদের অপ্রয়োজনে মন্ডপ এলাকায় ঘুরাঘুরিতে নিরুৎসাহিত করা। অতিরিক্ত শব্দ দূষন থেকে বিরত থাকা। বিশেষ করে মসজিদ, মাদ্রাসা, হাসপাতাল, ক্লিনিকসহ এমন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় উচ্চ শব্দ পরিহার করা। সর্বোপরি আশেপাশের এলাকায় কোন দরিদ্র সনাতনী পরিবার থেকে থাকলে তাদেরকে উপহার স্বরূপ সহায়তা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতেকরে মিলেমিশে দুর্গাপূজাকে উদযাপন করা সহজ হবে এবং দুর্গোৎসব সাফল্যমণ্ডিত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যবিপ্রবিতে ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৫৭ পি.এম


যবিপ্রবিতে ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে দুই দিনব্যাপী বার্ষিক ক্রীড়া সপ্তাহের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই আয়োজনটি ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং ক্লাবের উদ্যোগে গত ১২ অক্টোবর শুরু হয়ে ১৩ অক্টোবর শেষ হয়। বিভাগটির শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার আয়োজন করা হয়।

১২ অক্টোবর সোমবার বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান জিমনেসিয়ামে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ও ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং ক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক ড. মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস এবং ক্লাবের মডারেটর এক্সিকিউটিভ সহযোগী অধ্যাপক ড. শফি আহমেদ।

অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন ক্লাবের অর্থবিষয়ক মডারেটর ও বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারজানা ইসাছমিন। উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিএম খালেদ নোমান, সহকারী অধ্যাপক মাহফুজুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক আখতারুজ্জামান, প্রভাষক মোছাঃ শারমিন আক্তার এবং আশরাফুল আলম।

দুই দিনব্যাপী আয়োজনে ছেলেদের জন্য ইনডোর লং পিচ ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন ও দড়ি টানাটানি এবং মেয়েদের জন্য বল নিক্ষেপ, পিলো পাসিং ও ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা হয়। এসব প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার পাশাপাশি পারস্পরিক যোগাযোগ ও সৌহার্দ্য বাড়ানোর সুযোগ লাভ করেন। পুরো আয়োজনের সার্বিক পরিচালনায় ছিল যবিপ্রবি ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং ক্লাব।

অনুষ্ঠানে ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ও ক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক ড. মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস বলেন, "এমন সুন্দর একটি আয়োজনের জন্য তিনি ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং ক্লাবকে ধন্যবাদ জানান।" এ সময় তিনি বিভিন্ন খেলার নিয়মকানুন ও পরিচালনা নিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। পাশাপাশি প্রতিযোগিতা চলাকালে সিনিয়র ও জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রেখে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠান পরিচালনার আহ্বান জানান।

ক্লাবের নির্বাহী মডারেটর সহযোগী অধ্যাপক ড. শফি আহমেদ বলেন, "খেলাধুলার সময় স্বাভাবিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জরুরী।" তিনি সিনিয়র ও জুনিয়র শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দেন।

ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং ক্লাবের সহসভাপতি প্রান্ত কর্মকার জানান, ক্লাব গঠনের পর এটিই তাদের প্রথম আয়োজন। আগামী দিনে ক্লাবের পক্ষ থেকে সেমিনারসহ বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে জুনিয়র শিক্ষার্থীরাও এসব উদ্যোগ এগিয়ে নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্মান ও শ্রদ্ধার সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইয়াবা নিয়ে তিন মাদক কারবারির দ্বন্দ্ব, দুই মাদক কারবারিকে আটকের পর ছাড়িয়ে নিলেন স্থানীয় মেম্বার!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শাহিন আলম। ভৈরব প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৫৭ পি.এম


ইয়াবা নিয়ে তিন মাদক কারবারির দ্বন্দ্ব, দুই মাদক কারবারিকে আটকের পর ছাড়িয়ে নিলেন স্থানীয় মেম্বার!

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে টাকা ও ইয়াবা সরবরাহ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে সোহেল মিয়া ও ফয়সাল মিয়া নামে দুইজন চিহ্নিত মাদক কারবারিকে আটক করে শিকল দিয়ে বেধে রাখেন হাকিম মিয়া নামক অপর এক মাদক কারবারি।এঘটনায় উভয় পক্ষের দুইজন আহত হন।
পরে শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার মানিক মিয়া কিছু লোকজন নিয়ে চিহ্নিত দুই মাদক কারবারিকে হাকিমের বাড়ির থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠে।

১৪ অক্টোবর, বুধবার আনুমানিক বিকেলে উপজেলার শ্রীনগর গ্রামে এঘটনা ঘটে। এনিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্ষীরা জানান, শ্রীনগর গ্রামের হাসান আলীর ছেলে সোহেল মিয়ার সঙ্গে একই গ্রামের মৃত আমির হোসেনের ছেলে হাকিম মিয়ার টাকা-পয়সা ও ইয়াবা সরবরাহ নিয়ে বিরোধ চলছিল। বুধবার বিকেলে ৫ হাজার ইয়াবা সরবরাহের বিষয়টি নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এসময় সোহেল মিয়ার আপন ভাই ফয়সাল আরও একজনকে নিয়ে উপস্থিত হলে হাকিমের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে সোহেল ছুরি দিয়ে হাকিমকে আঘাত করেন। পরে হাকিম ঘর থেকে লাঠি এনে সোহেলকে মারধর করে দুই ভাইকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখেন। এঘটনায় মাদক কারবারি সোহেল ও হাকিম মিয়া দুজন আহত হন।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা বুলবুল মিয়া বিষয়টি ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানান। পরে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলে যান। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই মাদক কারবারি সোহেল ও ফয়সালকে সেখান থেকে ছাড়িয়ে নেওয়া হয়। হাকিম মিয়ার অভিযোগ, শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মানিক মিয়া লোকজন নিয়ে এসে জোরপূর্বক তাঁদের ছাড়িয়ে নিয়ে যান।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা সাত্তার মিয়া বলেন, প্রথমে তাঁদের মধ্যে টাকা-পয়সা নিয়ে বিরোধ ছিল। ৫ হাজার ইয়াবা হাকিমকে দেওয়ার কথা থাকলেও তা না দিয়ে ওসমান নামে অন্য এক মাদক কারবারিকে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। এ নিয়ে হাকিম ও সোহেলের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সোহেল ছুরি দিয়ে হাকিমকে আঘাত করেন। পরে হাকিম সোহেল ও ফয়সালকে বেঁধে রাখেন।
তিনি আরও বলেন, বুলবুল মিয়া থানার ওসিকে বিষয়টি জানানোর পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই ইউপি সদস্য মানিক মিয়া লোকজন নিয়ে দুইজনকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। তাঁর দাবি, ঘটনাটি অনেকেই দেখেছেন। স্থানীয়রা দাবি করেছেন, ওই দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।

হাকিম মিয়া বলেন, সোহেল প্রথমে তাঁর মা-বাবাকে নিয়ে গালিগালাজ করেন। পরে টেকনাফ থেকে আসা ইয়াবা কার কাছে সরবরাহ করা হয়েছে, তা জানতে তিনি সোহেলকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে তার ভাই ফয়সার একজনকে নিয়ে আসলে সোহেল তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করেন। পরে তিনি ঘর থেকে লাঠি এনে সোহেলকে মারধর করে দুইভাইকে শিকল দিয়ে তালা দেন।

তাঁর দাবি, পুলিশের সামনে টেকনাফের এক ব্যক্তিকে ফোন করে জানতে পারেন, ফয়সালের কাছে ৫ হাজার ইয়াবা পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্টও আছে। তাই আমি সোহেল ও ফয়সালকে আটক করেছিলাম। তারা মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। মাদক কেনাবেচার বিষয়ে আমার কাছে প্রমাণও আছে। তিনি বলেন, বুলবুল থানার ওসিকে বিষয়টি জানানোর পর পুলিশ আসার আগেই মানিক মেম্বার লোকজন নিয়ে তাঁদের ছাড়িয়ে নিয়ে যান। পুলিশ এসে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে ইয়াবাগুলো কার কাছে সরবরাহ করা হয়েছে, তা জানা যেত। পুলিশের সামনে টেকনাফের লোককে আমি ফোন করে ৫ হাজার ইয়াবা ফয়সালকে সরবরাহের বিষয়টি লাউড স্পিকারে শোনাতে চাইলে পুলিশ কল কেটে দেয়ার জন্য বারণ করেন।

তবে, হাকিম মিয়ার এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা নিশ্চিত হয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

দুই মাদক কারবারিকে ছাড়িয়ে নেয়ার বিষয়ে
শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদ ৭নং ওয়ার্ড মেম্বার মানিক মিয়া বলেন, যদি ইয়াবার বিষয়ে তারা বলে থাকে, সেটা তো আমি জানিনা। বুলবুল কন্টাক্ট করছিলো ফয়সাল থানাকে কাজ দিবে। ফয়সাল কাজ দিতে না পারায় বুলবুল হাকিমকে বলছে তারা দুইভাইয়ের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট আছে। পরে বুলবুল প্লান করে হাকিমের বাড়িতে নিয়ে যায় সোহেলকে। তখন বুলবুল এসে সোহেলকে শিকল দিয়ে তালা মারে এবং টর্চার করেছে।
তিনি বলেন, আমি এলাকার মেম্বার হিসেবে সোহেলর বাড়ির লোকজন আমার কাছে এসেছে। পরে আমি গিয়ে হাকিমকে বলি কেন তাদের বেধে রাখা হয়েছে। তখন হাকিম জানান টাকা পয়সার লেনদেনের কথা। তখন আমি বলি পাঁচজন নিয়ে বসে এসমস্যা সমাধান করে দিবো। একথা বলে তাদেরকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসি। আগে পরে কি হয়েছে, বা ইয়াবা নিয়ে কিছু আছে কিনা সেটা আমি জানিনা। তবে, তিনি স্বীকার করেছেন, সোহেল ও ফয়সাল দুইভাই এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী।


ভৈরব থানার উপপরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ৫ হাজার ইয়াবা নিয়ে দুই ব্যক্তিকে আটকে রাখার বিষয়টি ওসি স্যারকে জানিয়েছিলেন বুলবুল মিয়া। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে সোহেল ও ফয়সালকে পাননি।

তিনি বলেন, ঘটনায় সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, টাকা-পয়সা নিয়ে বিরোধ হয়েছে। পরে সামাজিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হবে বলে জানতে পারি। ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর হাকিম আমাকে ৫ হাজার পিস ইয়াবার কথা বলেননি। তিনি শুধু টাকা পাওয়ার কথা বলেছেন। তাছাড়া, বুলবুলও তখন ইয়াবার বিষয়ে কিছু বলেননি আমাকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তানের জনসংখ্যা ২০৫০ সালে ১০ কোটি ছাড়াতে পারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৫৭ পি.এম


পাকিস্তানের জনসংখ্যা ২০৫০ সালে ১০ কোটি ছাড়াতে পারে

২০৫০ সালের মধ্যে পাকিস্তানের জনসংখ্যা ১০ কোটিরও বেশি বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। জনসংখ্যার দিক থেকে পাকিস্তান বর্তমানে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম দেশ হিসেবে পরিচিত। দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও আবাসন নিশ্চিত করা দেশটির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পাকিস্তান জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারছে না। এর ফলে বেকারত্ব ও দারিদ্র্যের ঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, আবাসন, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার চাহিদাও বাড়ছে। দেশটির শিশুদের মধ্যে অপুষ্টি ও শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার সমস্যা উদ্বেগজনক। প্রায় ৪০ শতাংশ শিশু খর্বাকৃতির সমস্যায় ভুগছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বাধীনতার সময় দেশটির জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ। বর্তমানে তা বেড়ে ২৫ কোটির বেশি হয়েছে। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর চাপ বাড়ছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের পত্রিকায় এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি জনসংখ্যা বৃদ্ধিও পাকিস্তানের উন্নয়নের পথে একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণী কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করছেন। কিন্তু সবার জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে বেকারত্ব বাড়ছে এবং অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ছে।

দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে শহরগুলোতেও চাপ বাড়ছে। উন্নত চাকরি, শিক্ষা ও চিকিৎসার আশায় অনেক মানুষ গ্রাম থেকে বড় শহরে চলে আসছেন। ফলে আবাসন, পরিবহন, বিশুদ্ধ পানি ও পয়োনিষ্কাশনের মতো মৌলিক সেবার চাহিদা বাড়ছে।

এ ছাড়া ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার কারণে খাদ্য, পানি, জ্বালানি ও জমির চাহিদাও বাড়ছে। এসব সম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে সংকট আরো গভীর হতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিও পাকিস্তানের জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। বন্যা, তাপপ্রবাহ ও পানির সংকটের মতো সমস্যার সঙ্গে দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণ যুক্ত হয়ে পরিস্থিতি জটিল করে তুলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি জরুরি। পাশাপাশি প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার ও পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করতে হবে। কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে পাকিস্তান জনসংখ্যার চাপ কমিয়ে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারে।

ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবার পরিকল্পনার বিষয়টি পাকিস্তানে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। এটি শুধুমাত্র সরকারের দায়িত্ব নয়, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষা এবং সহজে পরিবার পরিকল্পনা সেবা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি। এর মাধ্যমে মানুষ পরিবার ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া ও চীনের মতো দেশ জনসংখ্যা বৃদ্ধির চাপ মোকাবেলায় শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, জনসচেতনতা ও সরকারি নীতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। পাকিস্তানও নিজস্ব সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে এসব দেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে পারে।

পাকিস্তান যদি এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বড় অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%