ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী

মোটরসাইকেল আরোহীকে ধাক্কায় ঢাকাগামী বাসে আগুন দিল বিক্ষুব্ধরা


মোটরসাইকেল আরোহীকে ধাক্কায় ঢাকাগামী বাসে আগুন দিল বিক্ষুব্ধরা

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায় আব্দুল হামিদ চৌধুরী (৭৫) নামক এক মোটরসাইকেল আরোহীকে ধাক্কা দেওয়ার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয়। এই আগুনে বাসটির বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায়।

এই ঘটনা ঘটে সোমবার (৮ জুন) রাত ৮টার দিকে, উপজেলার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের হাফিজিয়া মাদরাসার পাশে ভূরুঙ্গামারী-কুড়িগ্রাম মহাসড়কে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আব্দুল হামিদ মোটরসাইকেল নিয়ে পার্শ্ববর্তী সড়ক থেকে মহাসড়কে উঠার সময় ঢাকাগামী স্বাধীন পরিবহনের একটি নৈশ কোচ তাকে ধাক্কা দেয়। ঘটনাটি ঘটে এবং এতে তিনি গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনায় তার একটি পা থেঁতলে যায় এবং মাথায় আঘাত লাগে।

আরও পড়ুন: পীরগঞ্জে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে ডেকোরেটর কর্মী ফয়সালের প্রাণ গেল

পরে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে, দুর্ঘটনার পরই ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে নাগেশ্বরী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

স্বাধীন পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার সফি বলেন, যাত্রী নিয়ে ঢাকা উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া বাসটি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে এবং পরে সেটিতে আগুন দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু সাজ্জাদ মোহাম্মদ সায়েম জানান, আহত ব্যক্তিকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুরে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: মহেশপুর সীমান্তে বিজিবির হাতে দালালসহ ৪ জন আটক

আহতের ছেলে খোকন চৌধুরী বলেন, ‘আমার বাবার অবস্থা আশংকাজনক। আমরা তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি।’

এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে। ঘটনার কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক করতে পুলিশ কাজ করছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জিয়ার স্মৃতি বিজড়িত ৪৭ বছরের পুরোনো পটিয়া জিমনেসিয়াম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:১৩ এম


জিয়ার স্মৃতি বিজড়িত ৪৭ বছরের পুরোনো পটিয়া জিমনেসিয়াম

দক্ষিণ চট্টগ্রামের ক্রীড়া ইতিহাসের গৌরবময় অধ্যায়ের নাম পটিয়া জিমনেসিয়াম। তৎকালীন ‘পটিয়া যুব গোষ্ঠীর ভবন ও ব্যায়ামাগার’ হিসেবেও পরিচিত।

প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে, ১৯৭৯ সালের ৯ জুন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজ হাতে যে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন, সেই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি একসময় ছিল দক্ষিণ চট্টগ্রামের ক্রীড়াবিদ, শরীরচর্চাবিদ ও তরুণ সমাজের স্বপ্নের ঠিকানা। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায়, রাজনৈতিক পালাবদল এবং দীর্ঘ অবহেলার কারণে আজ সেই ঐতিহ্যবাহী জিমনেসিয়াম হারিয়েছে তার জৌলুস।

একসময় সকাল-সন্ধ্যা তরুণদের পদচারণায় মুখর থাকা এই ব্যায়ামাগারটি এখন নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

জীর্ণ দেয়াল, ভাঙাচোরা অবকাঠামো, অচল যন্ত্রপাতি এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কালের গর্ভে হারিয়ে যেতে বসেছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের ক্রীড়া আন্দোলনের এই গুরুত্বপূর্ণ স্মারক।

স্থানীয় ক্রীড়াবিদ ও প্রবীণ সংগঠকদের অভিযোগ, শহীদ জিয়ার স্মৃতি বহনকারী এই প্রতিষ্ঠানটি আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত ছিল। দক্ষিণ চট্টগ্রামের ক্রীড়া উন্নয়নে নানা প্রকল্পের ঘোষণা এলেও পটিয়া জিমনেসিয়ামের ভাগ্য বদলাতে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে একসময়কার প্রাণচঞ্চল এই ক্রীড়া কেন্দ্র ধীরে ধীরে প্রাণহীন হয়ে পড়ে।

তবে দীর্ঘদিনের হতাশার মাঝে নতুন করে আশার আলো দেখিয়েছে সম্প্রতি পটিয়ায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য মিনি স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে। স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক এনামের অনুরোধে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক ঐতিহাসিক পটিয়া জিমনেসিয়াম পরিদর্শন করেন এবং এর বর্তমান অবস্থা দেখে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী জিমনেসিয়ামের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক, প্রশিক্ষক ও খেলোয়াড়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, পটিয়া জিমনেসিয়াম শুধুমাত্র একটি ব্যায়ামাগার নয়, এটি দক্ষিণ চট্টগ্রামের ক্রীড়া ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দীর্ঘদিন ধরে এটি প্রয়োজনীয় উন্নয়ন ও সংস্কার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে।

আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার ক্রীড়াবান্ধব বাংলাদেশ গঠনে কাজ করছে। পটিয়ার মিনি স্টেডিয়ামের পাশাপাশি এই ঐতিহাসিক জিমনেসিয়ামকে আধুনিক ক্রীড়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে রূপান্তরের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। তরুণদের জন্য উন্নত ক্রীড়া অবকাঠামো নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।

পটিয়ার সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক এনাম বলেন, ‘পটিয়ার ক্রীড়া ঐতিহ্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়ে ওঠা এই জিমনেসিয়াম শুধুমাত্র একটি ভবন নয়, এটি পটিয়ার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গৌরবের প্রতীক। প্রায় ৪৭ বছর আগে শহীদ জিয়া স্বশরীরে এসে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন।’

তিনি আরো বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই প্রতিষ্ঠানকে পুনরুজ্জীবিত করতে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করছি। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে এবং তিনি ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন। পটিয়ায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের পাশাপাশি জিমনেসিয়ামের আধুনিকায়ন হলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের তরুণরা আরও বেশি খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে।

এমপি এনাম বলেন, ‘মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। তাই ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়নকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।

পটিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মঈনুল আলম ছোটন বলেন, ‘একসময় পটিয়া জিমনেসিয়াম দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম সেরা ব্যায়ামাগার ছিল। এখান থেকে বহু জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়াবিদ তৈরি হয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় অবকাঠামো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।’

তিনি বলেন, আমরা বহুবার জিমনেসিয়ামটির উন্নয়নের দাবি জানিয়েছি। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সরেজমিন পরিদর্শন এবং উন্নয়নের আশ্বাস আমাদের নতুন করে আশাবাদী করেছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষণ সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হলে এটি আবারও দক্ষিণ চট্টগ্রামের ক্রীড়া বিকাশের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠবে।

স্থানীয় খেলোয়াড় ও শরীরচর্চাবিদরা মনে করছেন, প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক মানুষের এই জনবহুল উপজেলায় একটি আধুনিক জিমনেসিয়াম সময়ের দাবি। তারা মনে করেন, মিনি স্টেডিয়ামের পাশাপাশি শহীদ জিয়ার স্মৃতি বিজড়িত এই ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানটির আধুনিকায়ন হলে দক্ষিণ চট্টগ্রামে ক্রীড়া আন্দোলন নতুন গতি পাবে এবং নতুন প্রজন্ম সুস্থ-সবল জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

এদিকে, দীর্ঘ যুগের অবহেলা ও অনাদরের পর অবশেষে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নজরে এসেছে পটিয়া জিমনেসিয়াম। এখন ক্রীড়াঙ্গনের প্রত্যাশা শুধু আশ্বাসে নয়, দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে ফিরিয়ে দেওয়া হোক এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের হারানো গৌরব। কারণ পটিয়ার মানুষ বিশ্বাস করে, জিয়ার হাতে গড়া এই ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান আবারও জেগে উঠলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের তরুণ সমাজ নতুন স্বপ্ন দেখবে, নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে এবং ক্রীড়ার মাধ্যমে গড়ে উঠবে একটি সুস্থ, মাদকমুক্ত ও আলোকিত প্রজন্ম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুবদল নেতা দিদারুল বহিষ্কার, রমনার কমিটি বিলুপ্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:১৭ এম


যুবদল নেতা দিদারুল বহিষ্কার, রমনার কমিটি বিলুপ্ত

রাজধানীর মৌচাকে স্বেচ্ছাসেবক দলের রমনা থানার সাবেক আহ্বায়ক এবং মহানগর দক্ষিণের সদস্য বিল্লাল হোসেন তালুকদারের (৫৭) হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে যুবদল নেতা দিদারুল ইসলাম বাবুকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া, একইসাথে রমনা থানার যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) রাতে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি (দফতরের দায়িত্বে) নুরুল ইসলামের সই করা একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জনমানুষের সামনে আসে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং রমনা থানার যুবদলের আহ্বায়ক দিদারুল ইসলাম বাবুকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি, রমনা থানার যুবদল কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন, আজ এই সিদ্ধান্তটি অনুমোদন করেছেন, বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে, রাত ৮টার দিকে রাজধানীর মৌচাক এলাকায় সালিশি বৈঠকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের রমনা থানার সাবেক আহ্বায়ক এবং মহানগর দক্ষিণের সদস্য বিল্লাল হোসেন তালুকদারের নিহত হওয়ার অভিযোগ উঠে।

বিল্লালের ভাগিনা মো. মোবারক হোসেন আকাশ জানান, সন্ধ্যার দিকে আনারকলি মার্কেটের সামনে কয়েকজন আকাশকে প্রথমে মারধর করে। এরপর মামা, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বিল্লাল হোসেন তালুকদারকে ডেকে আনেন তিনি। রাত ৮টার দিকে ওই মারামারির প্রেক্ষিতে সালিশি বৈঠক চলছিল। তখন যুবদলের রমনা থানার আহ্বায়ক দিদারুল ইসলাম বাবু ও তার সঙ্গে থাকা রমনা থানার সেক্রেটারি লুৎফরের মাঝে বিল্লালের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে বাবুর নেতৃত্বে তার অনুসারীরা বিল্লালকে ছুরিকাঘাত করে। পরে বিল্লালকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চিকিৎসকের বরাত অনুযায়ী, ঢামেক পুলিশের ক্যাম্পের ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) মো. ফারুক জানান, মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে এবং ঘটনাটি রমনা থানায় জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৭ মাত্রার ভূমিকম্পে যে অবস্থা হতে পারে ঢাকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:১৯ এম


৭ মাত্রার ভূমিকম্পে যে অবস্থা হতে পারে ঢাকার

ফিলিপাইন এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে সাম্প্রতিক শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর বাংলাদেশে বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিয়ে পুনরায় আলোচনা শুরু হয়েছে। ভূতত্ত্ববিদ এবং নগর পরিকল্পনাবিদরা জানান, দেশের বিভিন্ন সক্রিয় ভূ-ফাটলে দীর্ঘ সময় ধরে শক্তি সঞ্চিত হওয়ার ফলে ভবিষ্যতে শক্তিশালী ভূমিকম্পের সম্ভাবনা অস্বীকার করা যাচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এমন একটি ভূতাত্ত্বিক অঞ্চলে রয়েছে যেখানে ৮ মাত্রারও অধিক শক্তিশালী ভূমিকম্প সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষত ডাউকি ফল্টসহ কিছু সক্রিয় ভূ-চ্যুতিতে জমে থাকা শক্তি বড় ধরনের কম্পনের কারণ হতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ অবজারভেটরির সাবেক পরিচালক এবং ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার জানিয়েছেন, সিলেট থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত পাহাড়ি অঞ্চলের নিচে বিপুল পরিমাণ ভূ-শক্তি সঞ্চিত রয়েছে। তাঁর মতে, ওই এলাকায় ৮ মাত্রার অধিক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানলে দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ভূমিকম্পে ঢাকার মাত্র ১ শতাংশ ভবন ধসে পড়লেও প্রায় ৬ হাজার ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। এতে প্রায় ৩ লাখ মানুষ সরাসরি হতাহত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

এর আগে ২০০৯ সালে জাইকা এবং সিডিএমপির যৌথ জরিপেও উদ্বেগজনক বেশ কিছু চিত্র উঠে আসে। ওই জরিপে বলা হয়েছিল, রাজধানীতে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানলে প্রায় ৭২ হাজার ভবন ধসে পড়তে পারে। পাশাপাশি এক লাখেরও বেশি ভবন বিভিন্ন মাত্রায় ক্ষতির শিকার হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, অপরিকল্পিত নগরায়ন, ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড অমান্য করা, দুর্বল নির্মাণব্যবস্থা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাব বাংলাদেশে ভূমিকম্প ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী বলছেন, রাজধানীর মাত্র ৫ থেকে ৭ শতাংশ ভবন ভূমিকম্প সহনশীল হয়ে উঠেছে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে সেগুলোকে আরও শক্তিশালী এবং নিরাপদ করে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভবনগুলোকে ভূমিকম্প সহনশীল করে গড়ে তুলতে পারলে সম্ভাব্য প্রাণহানি এবং আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে ফেলা সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি নিয়মিত মহড়া, উদ্ধার কার্যক্রমের প্রশিক্ষণ, স্বেচ্ছাসেবকদের প্রস্তুত রাখা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে স্মার্ট সতর্কবার্তা ব্যবস্থা চালু করা এবং স্কুল-কলেজ স্তরে ভূমিকম্প নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করলে সম্ভাব্য মানবিক বিপর্যয়ের মাত্রা অনেকাংশেই কমানো সম্ভব হবে।

তাদের মতে, যদিও ভূমিকম্প প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, তবে যথাযথ প্রস্তুতি, সচেতনতা এবং কার্যকর পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বৈদ্যুতিক খুঁটির নিচে যুবকের মরদেহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:২৫ এম


বৈদ্যুতিক খুঁটির নিচে যুবকের মরদেহ

কুমিল্লার মুরাদনগরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রাসেল মিয়া (৪৬) নামে একজনের মৃত্যু ঘটেছে। সোমবার (৮ জুন) সকালে উপজেলার দারোরা ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের স্বর্ণকার পাড়ার বৈদ্যুতিক খুঁটির নিচে থেকে ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেন এলাকাবাসী। নিহত রাসেল মিয়া সুনামগঞ্জ জেলার সুনামগঞ্জ সদরের কোনাগাঁও গ্রামের আবু সাদেকের ছেলে। পুলিশ ধারণা করছে, ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ওই যুবকের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, রবিবার দিবাগত মধ্যরাতের কোন এক সময়ে ট্রান্সফরমার চুরির চেষ্টায় ছিল দুর্বৃত্তরা। ধারণা করা হচ্ছে, এ সময় বিদ্যুতায়িত হয়ে খুঁটির নিচে পড়ে যায় নিহত ওই যুবক।

সোমবার সকালে এলাকাবাসী যখন দেখেন তখন তাকে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর পুলিশ হাসপাতাল থেকে ওই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে মুরাদনগর থানায় নিয়ে যায়। মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে ওই যুবকের বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে এবং মঙ্গলবার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%