প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফিলিপাইন এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে সাম্প্রতিক শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর বাংলাদেশে বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিয়ে পুনরায় আলোচনা শুরু হয়েছে। ভূতত্ত্ববিদ এবং নগর পরিকল্পনাবিদরা জানান, দেশের বিভিন্ন সক্রিয় ভূ-ফাটলে দীর্ঘ সময় ধরে শক্তি সঞ্চিত হওয়ার ফলে ভবিষ্যতে শক্তিশালী ভূমিকম্পের সম্ভাবনা অস্বীকার করা যাচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এমন একটি ভূতাত্ত্বিক অঞ্চলে রয়েছে যেখানে ৮ মাত্রারও অধিক শক্তিশালী ভূমিকম্প সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষত ডাউকি ফল্টসহ কিছু সক্রিয় ভূ-চ্যুতিতে জমে থাকা শক্তি বড় ধরনের কম্পনের কারণ হতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ অবজারভেটরির সাবেক পরিচালক এবং ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার জানিয়েছেন, সিলেট থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত পাহাড়ি অঞ্চলের নিচে বিপুল পরিমাণ ভূ-শক্তি সঞ্চিত রয়েছে। তাঁর মতে, ওই এলাকায় ৮ মাত্রার অধিক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানলে দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ভূমিকম্পে ঢাকার মাত্র ১ শতাংশ ভবন ধসে পড়লেও প্রায় ৬ হাজার ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। এতে প্রায় ৩ লাখ মানুষ সরাসরি হতাহত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
এর আগে ২০০৯ সালে জাইকা এবং সিডিএমপির যৌথ জরিপেও উদ্বেগজনক বেশ কিছু চিত্র উঠে আসে। ওই জরিপে বলা হয়েছিল, রাজধানীতে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানলে প্রায় ৭২ হাজার ভবন ধসে পড়তে পারে। পাশাপাশি এক লাখেরও বেশি ভবন বিভিন্ন মাত্রায় ক্ষতির শিকার হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, অপরিকল্পিত নগরায়ন, ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড অমান্য করা, দুর্বল নির্মাণব্যবস্থা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাব বাংলাদেশে ভূমিকম্প ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী বলছেন, রাজধানীর মাত্র ৫ থেকে ৭ শতাংশ ভবন ভূমিকম্প সহনশীল হয়ে উঠেছে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে সেগুলোকে আরও শক্তিশালী এবং নিরাপদ করে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভবনগুলোকে ভূমিকম্প সহনশীল করে গড়ে তুলতে পারলে সম্ভাব্য প্রাণহানি এবং আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে ফেলা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি নিয়মিত মহড়া, উদ্ধার কার্যক্রমের প্রশিক্ষণ, স্বেচ্ছাসেবকদের প্রস্তুত রাখা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে স্মার্ট সতর্কবার্তা ব্যবস্থা চালু করা এবং স্কুল-কলেজ স্তরে ভূমিকম্প নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করলে সম্ভাব্য মানবিক বিপর্যয়ের মাত্রা অনেকাংশেই কমানো সম্ভব হবে।
তাদের মতে, যদিও ভূমিকম্প প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, তবে যথাযথ প্রস্তুতি, সচেতনতা এবং কার্যকর পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন