১১:২৭ পি.এম
ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর প্রতীকী জবাবে কুয়েত ও জর্ডান সহ উপসাগরীয় দেশগুলির বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হেনেছে ইরান।
কিন্তু বাইরের এই যুদ্ধ-উত্তেজনার মধ্যেও, দেশের ভেতরেও চরম রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে জর্জরিত হয়ে পড়েছে ইরান।
এক সপ্তাহ ধরে চলা জানাজা ও শোকানুষ্ঠানের পর, গত ১০ জুলাই সদ্যপ্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন সম্পন্ন হয়। কিন্তু এরপর থেকেই নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনির রহস্যময় অনুপস্থিতি ইরানে এক গভীর রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী এসএএফএনের অনারারি সিনিয়র ফেলো নিযুক্ত
এই আড়ালে থাকার সুযোগ নিয়ে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ পেছন থেকে দেশের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছেন বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছে কট্টরপন্থিরা। কট্টরপন্থি আইনপ্রণেতা মাহমুদ নাবাভিয়ান প্রকাশ্যেই একে ‘অভ্যুত্থান’ বলে সতর্ক করেছেন।
মূলত খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াতেই এই ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে চুক্তিতে ভূমিকা রাখায়, সেসময় প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানকে ‘আপসকামী’ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জনতা।
ক্ষোভের মাত্রা এতটাই তীব্র ছিল যে, এক জনসভায় মোহাম্মদ আলী বখশি নামের এক ব্যক্তি প্রেসিডেন্টকে সরাসরি হত্যার হুমকি দেন। তিনি বলেন, শর্ত না মানলে— আমাদের খুর আর আপনার গলা। আমরা আপনার জীবন নরক বানিয়ে দেব।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। যুদ্ধের দামামার মধ্যেই অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ফেরাতে মরিয়া ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব। তারা সুকৌশলে কট্টরপন্থিদের প্রভাব কমানোর চেষ্টা করছেন। এরই অংশ হিসেবে মার্কিন চুক্তির ঘোর বিরোধী মাহমুদ নাবাভিয়ানকে ইতিমধ্যে পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশন থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: পশ্চিম তীরে ইসরাইলের অভিযানে ৩৬ ফিলিস্তিনি গ্রেপ্তার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন