প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম, এই নামটিই লিওনেল মেসির স্মৃতিতে একটি দুঃসহ দীর্ঘশ্বাস এবং এক বুক হাহাকার তৈরি করে। ঠিক দশ বছর আগে, এই মাঠেই মায়া কাটিয়ে চিরতরে বিদায় নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন ফুটবল জাদুকর। মহাকাব্যিক সেই কান্নায় ভিজে উঠেছিল গোটা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের চোখ।
আজও সেই অভিশপ্ত মাঠ! যেন নিয়তির অদ্ভুত খেলায়, ইতিহাসের চাকা ফিরে এসে ঠেকেছে সেই পুরনো ক্ষতস্থানে। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের মঞ্চ প্রস্তুত, অন্যদিকে প্রতিপক্ষ স্পেন। এক দিকে ট্রফি জয়ের হাতছানি, অন্যদিকে মেসির জীবনের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডিকে জয়ের রঙে রাঙানোর শেষ সুযোগ।
২০১৬ সালের সেই কোপা আমেরিকার ফাইনাল ছিল মেসির ক্যারিয়ারের অন্ধকারতম অধ্যায়। টাইব্রেকারে পেনাল্টি মিস করে তিনি মাঠেই ভেঙে পড়েছিলেন। গ্যালারিতে তখন কান্নার রোল উঠেছিল এবং ডাগআউটে বসে থাকা মেসি যেন এক নিথর মূর্তি হয়ে গিয়েছিলেন। সেদিন আবেগের আতিশয্যে ঘোষণা করেছিলেন, ‘জাতীয় দলের হয়ে আমার সময় শেষ’।
সেই কঠিন সময়ে আর্জেন্টিনার অলিগলি থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম; সবখানে ছিল শুধু এক কাতর আর্তনাদ। সেই মিছিলে ছিল পনেরো বছর বয়সী এক কিশোর এনজো ফার্নান্দেজ। রিভার প্লেটের তরুণ ফুটবলার খোলা চিঠিতে মেসিকে লিখেছিলেন, ‘লিও, আমাদের ছেড়ে যেও না, তোমার খেলা দেখার আনন্দ কেড়ে নিও না’।
আজ সময় কত দ্রুত বদলে গেছে! যে কিশোরটি একসময় ইন্টারনেটে আর্তনাদ করে প্রিয় তারকাকে ফিরে পেতে চেয়েছিলেন, তিনিই এখন মেসির প্রধান সারথি, মাঝমাঠের অতন্দ্র প্রহরী। এই ফাইনালে এই দুই খেলোয়াড়ের উপস্থিতি যেন এক কাব্যিক রূপকথার জন্ম দেয়।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামের যে গ্যালারিতে মেসি সেদিন একা কেঁদেছিলেন, আজ সেখানেই গর্জন করবে হাজার হাজার ভক্ত। মেসির সামনে এখন নতুন লড়াই; নিজের পুরনো আতঙ্ককে জয় করে সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরার।
সূত্র: মার্কা
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন