০৯:৪৩ এম
বুর্কিনা ফাসো ফ্রান্সের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। ফ্রান্স, সাবেক ঔপনিবেশিক শাসক, সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে বুরকিনা ফাসোর শাসক জান্তা। দেশটি প্যারিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে যে তারা তাদের স্বার্থের বিরুদ্ধে ক্রমাগত কাজ করছে।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাওরের নেতৃত্বাধীন সরকার শুক্রবার (২৬ জুন) থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে।
সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ফ্রান্স বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ‘নব্য-ঔপনিবেশিক’ নীতি অনুসরণ করছে। বুর্কিনা ফাসো উল্লেখ করেছে যে ফ্রান্স সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত নেটওয়ার্ককে সমর্থন দিচ্ছে, যার ফলে বুর্কিনা ফাসো ও সাহেল অঞ্চলে অস্থিরতা বেড়েছে। সামরিক সরকার ইতিমধ্যে সমালোচকদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং ফ্রান্সসহ পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি কঠোর নীতি অনুসরণ করে আসছে।
আরও পড়ুন: রিজভী: আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ নেই
বুর্কিনা ফাসো এবং প্রতিবেশী পশ্চিম আফ্রিকার কয়েকটি দেশ গত এক দশক ধরে আল-কায়েদা ও দায়েশ-সংশ্লিষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠীর হামলায় ব্যাপক সহিংসতার মুখে।
সরকার জানায়, ফ্রান্সের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্তটি কেবল দুই দেশের সরকারি এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। কিন্তু এর ফলে বুর্কিনা ফাসো এবং ফরাসি জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও মানবিক সম্পর্কের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফ্রিকার কয়েকটি সাবেক ফরাসি উপনিবেশে ফ্রান্সবিরোধী মনোভাব বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে এই অঞ্চলে রাশিয়া এবং চীনের প্রভাবও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফ্রান্স একসময় উত্তর, মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার একটি বড় অংশ শাসন করত। স্বাধীনতার পরও দেশের বিভিন্ন সময়ে সামরিক হস্তক্ষেপ এবং রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে ওই অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
ফ্রান্স পূর্বে ‘ফ্রাঙ্কাফ্রিক’ নামে পরিচিত নীতির মাধ্যমে ফরাসিভাষী আফ্রিকার দেশগুলোতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করত। কিন্তু বর্তমানে প্যারিস সেই নীতি থেকে সরে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
আরও পড়ুন: সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আইন প্রয়োগ ও জবাবদিহি নিশ্চিতের আহ্বান নিসচার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন