মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:২৮ পি.এম
দীর্ঘ অভিনয়জীবন একজন শিল্পীকে এনে দেয় পরিচিতি, খ্যাতি, অর্থ, সম্মান ও মানুষের ভালোবাসা। তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে কিছু শিল্পী এই অভিনয়জীবন থেকে সরে দাঁড়ান।
অনেকে ব্যক্তিগত বিশ্বাস, মূল্যবোধ অথবা ধর্মীয় কারণে অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। কিন্তু যখন সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে নিজের অভিনয়জীবনকে ‘ভুল’ বা ‘পাপ’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়, তখন তা শিল্পাঙ্গনের অন্যান্য সদস্যদের জন্যও কষ্টকর হয়ে ওঠে। সম্প্রতি, অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা এমন একটি ঘটনায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে প্রভা উল্লেখ করেন, ‘একটা পরিচয় যদি একদিন আপনাকে সম্মান, যশ, খ্যাতি, অর্থ আর মানুষের ভালোবাসা দিয়ে থাকে, তাহলে সেই পরিচয়ের জন্য লজ্জিত হওয়ার আগে বরং নিজের মূল্যবোধ নিয়ে প্রশ্ন করবেন।
তিনি বলেন, ‘আমি জানি, কথাগুলো অনেকের কাছে কঠিন শোনাবে, হয়তো একটু বাজেও শোনাবে, তবুও বলছি।’ প্রভা মনে করেন, অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই শিক্ষিত এবং সম্মানের সঙ্গে এই পেশাটিকে ধারণ করছেন। তাঁর মতে, অনেক শিল্পী এখনও অভিনয়কে ভালোবেসে কাজ করছেন এবং এটি তাঁদের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। দিন-রাত তাঁরা নিজেদের পেশা ও শিল্পচর্চাকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে চলেছেন।
অতএব, যদি কারও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ভালো না লাগে, তাহলে তিনি চাইলে অভিনয় ছেড়ে দিতে পারেন, কিন্তু সেই কারণে শিল্পাঙ্গনের অন্য কাউকে ছোট করার অধিকার কারও নেই বলেও মত প্রকাশ করেন প্রভা। এ প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘আমি চাই না অশিক্ষা, অজ্ঞতা আর সংস্কৃতির প্রতি অসম্মান নিয়ে কেউ সংস্কৃতিচর্চায় আসুক।’
অভিনয় ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষা ও মূল্যবোধের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন এই অভিনেত্রী। তিনি আরও বলেন, ‘আমি চাই, যারা আসবে, তারা শিক্ষা নিয়ে আসুক, মূল্যবোধ নিয়ে আসুক, সংস্কৃতিবোধ নিয়ে আসুক এবং সবচেয়ে বেশি, নিজের পরিচয়ের প্রতি সম্মান নিয়ে আসুক।’
সম্প্রতি, একজন অভিনেত্রী অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন প্রভা।
এর আগে, একজন অভিনেতাও ধর্মের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার কারণে অভিনয় থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছিলেন। এমন ঘটনাকে ঘিরে শিল্পের মর্যাদা প্রসঙ্গে প্রভা বলেন, ‘শিল্প কোনো পাপ নয়। শিল্প একটি পরিচয়। এটা একটি সংস্কৃতি। আমি মনে করি, একজন শিল্পীকে অসম্মান করা কোনোভাবেই সভ্যতার শিক্ষা নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করার পাশাপাশি সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর অফিসকক্ষে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় তিনি এ আশাবাদ প্রকাশ করেন।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।
হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বৈঠকের শুরুতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ড. আবদুল মঈন খানকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার প্রশংসাও করেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান ঐতিহাসিক ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়, বিশেষ করে মুক্ত বাণিজ্যের সম্ভাবনা নিয়ে। মন্ত্রী পিপল-টু-পিপল যোগাযোগের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।
হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী স্থানীয় সরকার খাতে দক্ষতা উন্নয়ন ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ে ভারতের আগ্রহের কথা জানান। তিনি বলেন, "ভারতের হায়দ্রাবাদের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে।"
তিনি পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে দুই দেশের সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণের আশাবাদও ব্যক্ত করেন।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, "অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।" তিনি জানান, চলতি অর্থবছরের মধ্যে স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে এবং এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিত্ব ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ আরো সুসংহত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জানান, ভারত সরকার বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রক্রিয়ার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে আগ্রহী এবং আলোচনা সাপেক্ষে পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার পাওয়ানকুমার তুলশিদাস বাধেসহ মন্ত্রণালয় ও হাইকমিশনের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রদান কার্যক্রমের আওতায় ১৪টি দেশের ৫৪ হাজার ৪৭৭ জন নাগরিক এনআইডি পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২৮ হাজারের বেশি স্মার্ট কার্ড প্রিন্ট করে সংশ্লিষ্ট দেশের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে।
এ তথ্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এনআইডি অনুবিভাগের আগস্ট মাসের সর্বশেষ প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ইসির এনআইডি অনুবিভাগের কর্মকর্তারা এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রেজিস্ট্রেশন অফিসারের তদন্তের পর তিন হাজার ৫৩৬টি আবেদন অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তদন্তের পর ৫৪ হাজার ৪৭৭টি আবেদন অনুমোদন লাভ করেছে।
তদন্তের ফলস্বরূপ ২৬ হাজার ৫৯৫টি আবেদন বাতিল করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদেশে ভোটার নিবন্ধনের জন্য মোট ৯৯ হাজার ৮১৫টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৬২ হাজার ৫৮৯ জনের বায়োমেট্রিক গ্রহণ করা হয়েছে। এখনও ৩৭ হাজারের বেশি আবেদনের বায়োমেট্রিক গ্রহণ বাকি রয়েছে।
এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আবেদন এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। আবুধাবি ও দুবাই স্টেশনে মোট ২৪ হাজার ৮২৫টি আবেদন জমা হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮ হাজার ৬২১টি আবেদন যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার ও বার্মিংহাম স্টেশনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, মিশিগান, ওয়াশিংটন ডিসি ও লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেশনে ১৮ হাজার ৪৭২টি আবেদন জমা পড়েছে।
এছাড়া, ইতালিতে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার, সৌদি আরবে প্রায় সাত হাজার, কুয়েতে পাঁচ হাজার ৯২১টি এবং কাতারে চার হাজার ৮২৯টি আবেদন এসেছে।
মালয়েশিয়া থেকে দুই হাজারের বেশি প্রবাসী আবেদন করেছেন। কানাডার অটোয়া ও টরন্টো স্টেশনে তিন হাজার ৭৯৪টি এবং ওমানের মাসকাটে দুই হাজার ৫৭৩টি আবেদন পাওয়া গেছে। অস্ট্রেলিয়ায় এক হাজার ৪৫৯টি আবেদন জমা পড়েছে। জাপানের টোকিও স্টেশনে ৩৬৫টি আবেদনের বিপরীতে বায়োমেট্রিক নেওয়া হয়েছে ২০৮টির। মালদ্বীপে ৩২৮টি এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ায় ১৩৯টি আবেদন জমা পড়েছে। ইসির ২৭ আগস্ট পর্যন্ত করা সারসংক্ষেপে ১৪টি দেশ ও ২৪টি স্টেশনের তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
২০১৯ সালে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়। ওই বছরের ৫ নভেম্বর মালয়েশিয়ায় এবং ১৮ নভেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতে কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
বর্তমানে ১৪টি দেশের পাশাপাশি নতুন কয়েকটি দেশকে এই কার্যক্রমের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে ইসি। নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, সুইডেন, সিঙ্গাপুর ও বাহরাইনকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪ আগস্ট সিঙ্গাপুরে ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি সেবা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে। উদ্বোধনের দিন তিন প্রবাসী বাংলাদেশির হাতে স্মার্ট কার্ড তুলে দেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিনের বেলায় টিকটক ভিডিও তৈরি করেন এবং রাতের বেলায় পেশা পরিবর্তন করে ছিনতাইয়ের কাজে লিপ্ত হন, এমন অভিযোগে রাজধানীর আদাবর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই অভিযানে আলোচিত ‘টিকটক হৃদয়’ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সোমবার ভোররাত ৪টা ১৫ মিনিটের সময় আদাবর এলাকায় পৃথক অভিযানের মাধ্যমে তাদের আটক করা হয়।
আদাবর থানার উপপরিদর্শক তরুণ স্ট্রিম জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন ‘ভাইরাল’ ছিনতাইকারী হিসেবে পরিচিত। তার নাম ‘টিকটক হৃদয়’ এবং তার বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ জানায়, শেখেরটেক ৭ নম্বর রোডের মাথায় ব্রিজসংলগ্ন প্রেম গলিতে শামসুল মিয়ার রিকশার গ্যারেজে অভিযান চালানো হয়। এ সময় সাত মামলার আসামি মিরাজুল ইসলাম (২৫), নিহাদ (২০), মো. শেখ বাচ্চু (৩৫), মো. ফরিদুল ইসলাম (১৯) এবং মো. তামিম (১৯) গ্রেপ্তার হন। তাদের কাছ থেকে তিনটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পরবর্তীতে, গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই সময়ে সুনিবিড় হাউজিংয়ের আকন্দ গার্মেন্টস গলির পেছনে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ১০ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হৃদয় ওরফে ‘টিকটক হৃদয়’ (২৫) গ্রেপ্তার হন। তার কাছ থেকেও একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃতরা আদাবর থানার শেখেরটেক, বাইতুল আমান হাউজিং ও বেড়িবাঁধ এলাকার পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন স্থানে চাপাতি দেখিয়ে সাধারণ মানুষের টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনতাই করতেন।
এছাড়া, তারা বিভিন্ন বাসাবাড়ির এসির পাইপ ও বৈদ্যুতিক তার চুরি এবং বিভিন্ন রিকশার গ্যারেজ থেকে রিকশা ছিনিয়ে নিয়ে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগেও জড়িত।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
করাচির উপকূলের একটি অঞ্চলে পেরেক ঠোকার সুরেলা শব্দ এবং করাতের ঘর্ষণের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। সেখানে গ্রীষ্মের ফ্যাকাশে আকাশের নিচে বিশাল মাছ ধরার কাঠের নৌকার কাঠামোর ওপর ছোট ছোট মানুষের অবয়ব দেখা যাচ্ছে। তারা নৌকা নির্মাণের কাজে ব্যস্ত রয়েছে।
বন্দরনগরীর উপকণ্ঠের সামুদ্রিক জনপদ ইবরাহিম হায়দারি, যা কয়েক শতাব্দী পুরোনো বলে মনে করা হয়, ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার নৌকা নির্মাণের জন্য পরিচিত।
করাচি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানায়।
স্থানীয় জেলেদের অধিকার নিয়ে কাজ করা পাকিস্তান ফিশারফোক ফোরামের মেহরান আলী শাহ মন্তব্য করেন, ‘এই এলাকাই করাচির জন্ম দিয়েছে। করাচির মৎস্য খাতও এখান থেকেই গড়ে উঠেছে।’
যদিও শিল্পভিত্তিক জাহাজ নির্মাণের প্রসার ঘটেছে, তবে কাঠের টুকরো জোড়া দিয়ে হাতে নৌকা তৈরির এই ঐতিহ্য এখনও টিকে রয়েছে।
নৌকা নির্মাতা ২২ বছর বয়সী মুহাম্মদ আসিফ কিশোর বয়সে বাবার কাছ থেকে এই কাজ শেখেন। এখন তিনি নিজেই নৌকা তৈরি করতে সক্ষম হওয়ায় গর্বিত।
মুখে এবং রোদে বিবর্ণ চুলে কাঠের গুঁড়ো লেগে থাকা অবস্থায় আসিফ এএফপিকে বলেন, ‘এই কাজের প্রতি আমার আগ্রহ ছিল। তাই আমি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি সবসময়ই আমার আগ্রহের বিষয় ছিল। তাই আমি এই পেশা বেছে নিয়েছি।’
অন্য শ্রমিকদের মতো আসিফও প্রতিদিন সকাল ৭টায় কাজে আসেন এবং রাত ৭টার দিকে রাতের খাবারের জন্য বাড়ি ফেরেন।
দুপুরে দুই ঘণ্টার খাবারের বিরতি ছাড়া তিনি কাজের সরঞ্জাম হাতছাড়া করেন না।
সপ্তাহে ছয় দিন কাজ করে তিনি দিনে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ পাকিস্তানি রুপি (৯ ডলার) আয় করেন।
সারা বছরই শ্রমিকদের প্রতিকূল আবহাওয়ার সঙ্গে লড়াই করতে হয়। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্রতার পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমের প্রবল বৃষ্টিও তাদের সহ্য করতে হয়।
একজন জেলে প্রথমে নৌকার নকশা বেছে নেন। এরপর একজন দক্ষ কারিগর নকশার ছাঁচ তৈরি করেন। সেখান থেকে শ্রমিকরা কাজ শুরু করেন। বছরের পর বছর অর্জিত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তারা অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে এই নৌকা তৈরি করেন।
কারিগররা বিভিন্ন ধরনের কাঠ বেছে নেন, যার মধ্যে স্থানীয় ইউক্যালিপটাস কাঠ রয়েছে। সমুদ্রের পানির ক্ষয় প্রতিরোধে আফ্রিকান সেগুন কাঠও ব্যবহার করা হয়।
ভারী কাঠের টুকরোগুলো পুরোনো উল্লম্ব করাতসহ বিভিন্ন করাত দিয়ে হাতে আঁকা পেন্সিলের দাগ অনুসরণ করে সতর্কতার সঙ্গে কাটা হয়।
এরপর মাটি থেকে ধাপে ধাপে নৌকা তৈরি করা হয়। কাঠের টুকরো ও পেরেক একটির পর একটি বসিয়ে নৌকার কাঠামো দাঁড় করানো হয়। কাঠামো যত উঁচু হয়, শ্রমিকরা ততই নড়বড়ে মই বেয়ে ওপরে ওঠেন।
আসিফ বলেন, এই সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়ায় কয়েক মিটার দীর্ঘ একটি ছোট নৌকাও তৈরি করতে তিন মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। খরচ হতে পারে ১০ লাখ পাকিস্তানি রুপি (৩ হাজার ৬০০ ডলার)।
নির্মাণকাজ শেষ হলে আঙিনাজুড়ে থাকা নৌকাগুলোতে রঙের ছোঁয়া দেন চিত্রশিল্পী মুহাম্মদ ইসমাইল।
৩৮ বছর বয়সী ইসমাইলের হাতে ও নখে নীল রঙের দাগ রয়েছে। রোদ-বৃষ্টিতে ক্ষয়প্রাপ্ত নৌকার কাঠামোয় তিনি ফুলের পাপড়ি আঁকছিলেন।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি এমন বহু নৌকায় কাজ করেছেন।
এএফপিকে তিনি বলেন, ‘আমাদের অধিকাংশ জেলে মাছের নকশার চেয়ে ফুলের নকশাই বেশি পছন্দ করেন।’
নৌকার মালিক তার আঁকা নকশার প্রশংসা করলে তিনি ‘খুবই তৃপ্তি’ পান বলেও জানান।
ইসমাইল আরও বলেন, ‘কেউ কেউ আমাকে নিজের ধারণা অনুযায়ী নকশা করতে বলেন। আবার কেউ কেউ ঠিক কী চান— তা আমাকে বলে দেন।’
কাছের একটি বন্দরে জেলে কাদির বক্স একটি ছোট নৌকায় বসে মাছ ধরার জাল মেরামত করছিলেন। নৌকাটি অন্তত দুই দশক ধরে তাদের পরিবারের মালিকানায় রয়েছে।
শিগগিরই কাঠের নৌকাটির সংস্কার করার আশা করছেন তিনি।
ইসমাইল বলেন, ‘এটি খুব মূল্যবান কোনো কিছুর যত্ন নেওয়ার মতো। এমনকি নিজের সন্তানের যত্ন নেওয়ার মতোও।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ