মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৩৬ পি.এম
করাচির উপকূলের একটি অঞ্চলে পেরেক ঠোকার সুরেলা শব্দ এবং করাতের ঘর্ষণের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। সেখানে গ্রীষ্মের ফ্যাকাশে আকাশের নিচে বিশাল মাছ ধরার কাঠের নৌকার কাঠামোর ওপর ছোট ছোট মানুষের অবয়ব দেখা যাচ্ছে। তারা নৌকা নির্মাণের কাজে ব্যস্ত রয়েছে।
বন্দরনগরীর উপকণ্ঠের সামুদ্রিক জনপদ ইবরাহিম হায়দারি, যা কয়েক শতাব্দী পুরোনো বলে মনে করা হয়, ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার নৌকা নির্মাণের জন্য পরিচিত।
করাচি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানায়।
স্থানীয় জেলেদের অধিকার নিয়ে কাজ করা পাকিস্তান ফিশারফোক ফোরামের মেহরান আলী শাহ মন্তব্য করেন, ‘এই এলাকাই করাচির জন্ম দিয়েছে। করাচির মৎস্য খাতও এখান থেকেই গড়ে উঠেছে।’
যদিও শিল্পভিত্তিক জাহাজ নির্মাণের প্রসার ঘটেছে, তবে কাঠের টুকরো জোড়া দিয়ে হাতে নৌকা তৈরির এই ঐতিহ্য এখনও টিকে রয়েছে।
নৌকা নির্মাতা ২২ বছর বয়সী মুহাম্মদ আসিফ কিশোর বয়সে বাবার কাছ থেকে এই কাজ শেখেন। এখন তিনি নিজেই নৌকা তৈরি করতে সক্ষম হওয়ায় গর্বিত।
মুখে এবং রোদে বিবর্ণ চুলে কাঠের গুঁড়ো লেগে থাকা অবস্থায় আসিফ এএফপিকে বলেন, ‘এই কাজের প্রতি আমার আগ্রহ ছিল। তাই আমি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি সবসময়ই আমার আগ্রহের বিষয় ছিল। তাই আমি এই পেশা বেছে নিয়েছি।’
অন্য শ্রমিকদের মতো আসিফও প্রতিদিন সকাল ৭টায় কাজে আসেন এবং রাত ৭টার দিকে রাতের খাবারের জন্য বাড়ি ফেরেন।
দুপুরে দুই ঘণ্টার খাবারের বিরতি ছাড়া তিনি কাজের সরঞ্জাম হাতছাড়া করেন না।
সপ্তাহে ছয় দিন কাজ করে তিনি দিনে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ পাকিস্তানি রুপি (৯ ডলার) আয় করেন।
সারা বছরই শ্রমিকদের প্রতিকূল আবহাওয়ার সঙ্গে লড়াই করতে হয়। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্রতার পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমের প্রবল বৃষ্টিও তাদের সহ্য করতে হয়।
একজন জেলে প্রথমে নৌকার নকশা বেছে নেন। এরপর একজন দক্ষ কারিগর নকশার ছাঁচ তৈরি করেন। সেখান থেকে শ্রমিকরা কাজ শুরু করেন। বছরের পর বছর অর্জিত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তারা অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে এই নৌকা তৈরি করেন।
কারিগররা বিভিন্ন ধরনের কাঠ বেছে নেন, যার মধ্যে স্থানীয় ইউক্যালিপটাস কাঠ রয়েছে। সমুদ্রের পানির ক্ষয় প্রতিরোধে আফ্রিকান সেগুন কাঠও ব্যবহার করা হয়।
ভারী কাঠের টুকরোগুলো পুরোনো উল্লম্ব করাতসহ বিভিন্ন করাত দিয়ে হাতে আঁকা পেন্সিলের দাগ অনুসরণ করে সতর্কতার সঙ্গে কাটা হয়।
এরপর মাটি থেকে ধাপে ধাপে নৌকা তৈরি করা হয়। কাঠের টুকরো ও পেরেক একটির পর একটি বসিয়ে নৌকার কাঠামো দাঁড় করানো হয়। কাঠামো যত উঁচু হয়, শ্রমিকরা ততই নড়বড়ে মই বেয়ে ওপরে ওঠেন।
আসিফ বলেন, এই সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়ায় কয়েক মিটার দীর্ঘ একটি ছোট নৌকাও তৈরি করতে তিন মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। খরচ হতে পারে ১০ লাখ পাকিস্তানি রুপি (৩ হাজার ৬০০ ডলার)।
নির্মাণকাজ শেষ হলে আঙিনাজুড়ে থাকা নৌকাগুলোতে রঙের ছোঁয়া দেন চিত্রশিল্পী মুহাম্মদ ইসমাইল।
৩৮ বছর বয়সী ইসমাইলের হাতে ও নখে নীল রঙের দাগ রয়েছে। রোদ-বৃষ্টিতে ক্ষয়প্রাপ্ত নৌকার কাঠামোয় তিনি ফুলের পাপড়ি আঁকছিলেন।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি এমন বহু নৌকায় কাজ করেছেন।
এএফপিকে তিনি বলেন, ‘আমাদের অধিকাংশ জেলে মাছের নকশার চেয়ে ফুলের নকশাই বেশি পছন্দ করেন।’
নৌকার মালিক তার আঁকা নকশার প্রশংসা করলে তিনি ‘খুবই তৃপ্তি’ পান বলেও জানান।
ইসমাইল আরও বলেন, ‘কেউ কেউ আমাকে নিজের ধারণা অনুযায়ী নকশা করতে বলেন। আবার কেউ কেউ ঠিক কী চান— তা আমাকে বলে দেন।’
কাছের একটি বন্দরে জেলে কাদির বক্স একটি ছোট নৌকায় বসে মাছ ধরার জাল মেরামত করছিলেন। নৌকাটি অন্তত দুই দশক ধরে তাদের পরিবারের মালিকানায় রয়েছে।
শিগগিরই কাঠের নৌকাটির সংস্কার করার আশা করছেন তিনি।
ইসমাইল বলেন, ‘এটি খুব মূল্যবান কোনো কিছুর যত্ন নেওয়ার মতো। এমনকি নিজের সন্তানের যত্ন নেওয়ার মতোও।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এমপি’র সঙ্গে বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের মিশন প্রধান জ্যাঁ পেসমে’র মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এসময় মন্ত্রণালয় ও বিশ্বব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বন্যা, নদী ভাঙ্গন, জলবদ্ধতা, লবণাক্ততা ও খরার মতো চ্যালেঞ্জ দিন দিন বাড়ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
মন্ত্রী আরও জানান, সরকার দেশের নদী-খাল ও জলাশয় খনন ও পুনঃখননের পাশাপাশি নদী ভাঙ্গন ও বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমাতে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করছে। পানিসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য বিশ্বব্যাংকের অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।
জ্যাঁ পেসমে বাংলাদেশের পানিসম্পদের উন্নয়ন ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি পানিসম্পদের সমন্বিত পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়াও সভায় পানিসম্পদ খাতে চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্র এবং পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জয়পুরহাটে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি, কেক কাটা এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে শহীদ ডা. আবুল কাশেম ময়দান থেকে শুরু হওয়া র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জয়পুরহাট সার্কিট হাউস মাঠে এসে শেষ হয়। এর পূর্বে কেক কাটা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী। তিনি বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "জনগণের অধিকার রক্ষা ও দেশ গঠনে বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত দলকে আরও সুসংগঠিত করে জনগণের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের মূল লক্ষ্য।"
অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মাসুদ রানা প্রধান, যুগ্ম আহ্বায়ক এম. এ ওহাবসহ দলের অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ।
এর আগে সকালে জয়পুরহাট জেলা বিএনপি কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির সূচনা করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জেলায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে বিদ্যুৎ সাশ্রয়, বিদ্যুতের সুষ্ঠু ও কার্যকর ব্যবহার নিয়ে জেলা বিদ্যুৎ সাশ্রয় বিষয়ক ব্যবস্থাপনা কমিটির একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ রায়হান কবির। সভায় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের প্রতিনিধিবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
সভায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়, অপচয় রোধ, সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও মতবিনিময় করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শরিফুল রাজ ও সাবিলা নূর ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এ জুটি বেঁধে দর্শকদের প্রশংসা অর্জন করেছিলেন। এবার তারা ফিরছেন একটি ভিন্নধর্মী গল্প নিয়ে। তানিম নূরের প্রযোজনায় নির্মিত হতে যাচ্ছে সিনেমাটি, যার নাম ‘কানাভুলা প্যারাডক্স’। সিনেমাটি তৈরি হবে সময় ভ্রমণ, রোমান্স এবং রহস্যের মিশেলে।
‘কানাভুলা প্যারাডক্স’ সিনেমার মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটছে তরুণ নির্মাতা জুটি আয়মান আসিব স্বাধীন ও সুস্ময় সরকারের। সিনেমাটির মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করবেন শরিফুল রাজ ও সাবিলা নূর। নির্মাতাদের দাবি, তারা দর্শকদের সময়, সম্পর্ক, স্মৃতি এবং রহস্যের একটি ভিন্নধর্মী যাত্রায় নিয়ে যেতে চান। পরিচিত গল্প বলার ছক থেকে বেরিয়ে নতুন ধরনের সিনেমার অভিজ্ঞতা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
সিনেমাটির গল্পের মূল অনুপ্রেরণা এসেছে লেখক মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পীর ২০২৪ সালে প্রকাশিত একই নামের উপন্যাস ‘কানাভুলা প্যারাডক্স’ থেকে। যদি সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চলে, তাহলে আগামী বছরের জানুয়ারিতে সিনেমাটির শুটিং শুরু হবে। এরপর ঈদুল আজহায় এটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে।
যদিও আয়মান আসিব স্বাধীন পরিচালক হিসেবে এই প্রথম, তবে নির্মাণের জগতে তিনি একেবারে নতুন নন। এর আগে তিনি তানিম নূর পরিচালিত ওয়েব সিরিজ ‘কাইজার’ এবং ‘উৎসব’ ও ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার চিত্রনাট্য ও সংলাপ রচয়িতা হিসেবে কাজ করেছেন। সুস্ময় সরকারও ওই তিনটি কাজের সঙ্গে ছিলেন গল্পকার ও প্রধান সহকারী পরিচালক হিসেবে।
‘উৎসব’ ও ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ দিয়ে দর্শকদের ভালোবাসা ও সাফল্য অর্জন করা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বুড়িগঙ্গা টকিজ এবার নতুন গল্প নিয়ে হাজির হচ্ছে। ‘কানাভুলা প্যারাডক্স’ হতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির তৃতীয় চলচ্চিত্র।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ