শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:১৭ পি.এম
রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদার দাবিতে হামলা চালিয়ে দোকানপাট বন্ধ করে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। স্থানীয় একটি ক্লাবে একজন ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান জাহিদ হাসান ও তার সহযোগিদের দ্বারা। পরে ২০ হাজার টাকা আদায়ের পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ও নির্যাতিত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম ওরফে মুন্না অভিযোগ করেন। এসময় তার স্ত্রী রুপা বেগম, ছোট ভাই মো. শুভ এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে মুন্না জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মতিঝিল ক্লাবপাড়ায় ভাতের হোটেলের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। গত ৭ থেকে ৮ মাস আগে মতিঝিল এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান জাহিদ হাসান, ইমুন, আজমির, রানা, মাজেদ, পানি বাবুসহ পনেরো জনের একটি সন্ত্রাসী দল তার হোটেলে এসে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। একদিন তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালিয়ে দোকানের ক্যাশ ভেঙে বিশ হাজার টাকা লুট করে নেয়।
এ ঘটনার পর মুন্না বাদি হয়ে মতিঝিল থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলায় পুলিশ জাহিদ হাসানকে গ্রেফতার করে। দীর্ঘ চার মাস জেল খেটে জাহিদ হাসান গত সেপ্টেম্বর মাসে বের হয়ে পুনরায় তার দোকানে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের নিয়ে এসে ব্যাপক হামলা চালায়, ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এ ঘটনার পর মুন্না মতিঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। তিনি আরও জানান, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের পরিচয়ে সন্ত্রাসীরা মতিঝিল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে আসছে।
এসব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কেউ কোন প্রতিবাদ করতে পারছে না। সন্ত্রাসীদের ভয়ে ইতিমধ্যেই অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন। এ ব্যাপারে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে প্রধানমন্ত্রী, স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের আইজিসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভোলায় সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থের উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ক্যাম্প ও ওষুধ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত দুই মাস ধরে ৫টি ধাপে ভোলার নির্বাচনী এলাকায় এই চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। জেলার সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রায় ২২ হাজার মানুষ চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পেয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, অর্থের অভাবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে না পারা দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের বিভিন্ন ধাপে সকাল ১০টা থেকে ভোলা পৌর এলাকার শান্ত নীড় ও ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় এবং সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের রতনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। এতে বিভিন্ন বয়সী শিশু, নারী ও পুরুষরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছ থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছেন। ২২ হাজারেরও বেশি নারী, পুরুষ ও শিশুদের চিকিৎসা এবং বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে।
ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীরা জানান, এখানে বিনা মূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধও পাওয়া যাচ্ছে। তারা অর্থ ব্যয় না করে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
রোগী ও তাদের স্বজনেরা তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তাদের মতে, দরিদ্র মানুষের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আরও জানান, অর্থাভাবে যারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে পারেন না, তাদের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়াই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। পাঁচটি ধাপে সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পেয়ে উপকৃত হয়েছেন প্রায় ২২ হাজার মানুষ।
আয়োজক কমিটির সদস্য ও বিজেপি ভোলা জেলা সভাপতি আমিরুল ইসলাম রতন ইনকিলাবকে জানান, অর্থাভাবে যারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চিকিৎসা সেবা নিতে পারেন না, তাদের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়াই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
তিনি জানান, পাঁচটি ধাপে ভোলা সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ এবং ওষুধ পেয়ে এ পর্যন্ত উপকৃত হয়েছেন প্রায় ২২ হাজার মানুষ। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থের দেওয়া এই মানবিক চিকিৎসা সেবা চলমান থাকবে বলেও জানান, জেলা বিজেপির এ শীর্ষ প্রবীণ নেতা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাবেক ওপেনার ইমরুল কায়েস, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের হতাশাজনক পারফরম্যান্সে ক্ষুব্ধ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দল নির্বাচন ও ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স নিয়ে সরব হয়েছিলেন। এবার দেশের ক্রিকেটের সামগ্রিক চিত্র, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতি এবং নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন সাবেক এই ব্যাটার।
নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বাংলাদেশের খেলা দেখে হতাশার কথা তুলে ধরেন ইমরুল। তিনি মন্তব্য করেন, ‘সত্যি বলতে, বাংলাদেশের খেলা দেখে আমি ভীষণ মর্মাহত হয়েছি। ব্যস্ততার কারণে সব সময় খেলা দেখার সুযোগ হয় না। কিন্তু গতকাল অনেক আশা নিয়ে বাংলাদেশের ম্যাচটি দেখতে বসেছিলাম।’
জাতীয় দলের পারফরম্যান্সের উন্নতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক এই ওপেনার। তার মতে, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট প্রত্যাশা অনুযায়ী এগোতে পারেনি। বরং দলের বর্তমান অবস্থায় অতীতের দুর্বলতার প্রতিচ্ছবি দেখতে পাচ্ছেন তিনি।
ইমরুলের ভাষায়, ‘দলের পারফরম্যান্স দেখে আমার মনে হয়েছে, আমরা যেন আবার সেই ২০০৬-২০০৮ সালের বাংলাদেশ ক্রিকেটের জায়গাতেই ফিরে গেছি। এত বছর পরও যদি আমাদের একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, তাহলে আমাদের উন্নতির পথটা আসলে কোথায়?’
নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়েও আক্ষেপের কথা জানিয়েছেন ইমরুল। বড় কোনো অর্জন কিংবা তারকা পরিচিতি না পেলেও দেশের হয়ে নিজের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে মনে করেন তিনি। তবে বর্তমান প্রজন্মের ক্রিকেটারদের মতো সুযোগ-সুবিধা, স্বাধীনতা এবং নিজেদের প্রতিভা প্রকাশের অনুকূল পরিবেশ পেলে তার ক্যারিয়ারের চিত্র হয়ত অন্য রকম হতে পারত।
এ প্রসঙ্গে ইমরুল বলেন, ‘অনেক বাধা, প্রতিকূলতা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দেশের জন্য নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। মাঝেমধ্যে মনে হয়, বর্তমান প্রজন্মের ক্রিকেটারদের মতো যদি আমরাও আরও বেশি স্বাধীনতা, সুযোগ-সুবিধা এবং নিজেদের মেলে ধরার পরিবেশ পেতাম, তাহলে হয়ত আমার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারও অন্য রকম হতে পারত।’
বাংলাদেশের ক্রিকেটে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ইমরুলের এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ত্রিদেশীয় সিরিজে দলের ব্যর্থতার পর তার বক্তব্যে উঠে এসেছে জাতীয় দলের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশা এবং সাবেক ক্রিকেটারদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে পুরোনো আক্ষেপও।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকী জানিয়েছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে ভাঙ্গা-বরিশাল চার লেন সড়ক প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেতে পারে।
তিনি শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) কুয়াকাটায় দুই দিনব্যাপী পর্যটন কার্নিভাল উপলক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কুয়াকাটাসহ দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। এ সময় তিনি বরিশাল-কুয়াকাটা সড়ককে চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, বর্তমান সরকার সব কর্মকাণ্ড মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় গ্রহণ করছে। এর ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা কমে যাবে।
মতবিনিময় সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন এবং বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইতালির দক্ষিণ উপকূলে একের পর এক অন্তত ১২টি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর পরপরই সেখানকার এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আকস্মিক এই দুর্যোগের কারণে লোকজনকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং জরুরি ভিত্তিতে সেখানকার সব স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ইতালির জাতীয় ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানায়, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে সিসিলি অঞ্চলের তিরেনিয়ান সাগরে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.০। এই ভূমিকম্পের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে মেসিনা ও পালেরমো এলাকায়। এছাড়া বাকি ১১টি কম্পনের মাত্রা ছিল ৩.০-এর উপরে।
ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সিসিলির সিভিল প্রোটেকশন প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে অরেঞ্জ বা কমলা রঙের ‘সুনামি সতর্কতা’ জারি করে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পালেরমো ও মেসিনা অঞ্চলের সব স্কুল খালি করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি ট্রাপানির একটি আদালত থেকেও বিচারক ও কর্মকর্তাদের দ্রুত বের করে আনা হয়। হঠাৎ এমন দুর্যোগে আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
গত বছরও ইতালির নেপলস শহরে গত চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল, যাতে বেশ কিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে নতুন করে একের পর এক এই ভূকম্পন ও সুনামির পূর্বাভাসে পুরো ইতালীয় উপকূলে এখন চরম সতর্ক অবস্থা বিরাজ করছে।
সূত্র: দ্য সান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ