০২:৩৬ পি.এম
২০০৩ সালে ফিরোজ খানের ‘জানশীন’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক ঘটে মিস ইন্ডিয়া ইউনিভার্স খেতাবজয়ী অভিনেত্রী সেলিনা জেটলির। এরপর ‘নো এন্ট্রি’, ‘গোলমাল রিটার্নস’ ও ‘থ্যাঙ্ক ইউ’-এর মতো একাধিক সফল বাণিজ্যিক সিনেমায় অভিনয় করে তিনি ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেন। তবে অভিনয়ে সাফল্য থাকলেও দাম্পত্যজীবনে তিনি ব্যর্থতা স্বীকার করেছেন।
অস্ট্রিয়ার ব্যবসায়ী স্বামী পিটার হাগের সঙ্গে বিচ্ছেদ নিয়ে সেলিনা জেটলির আইনি লড়াই চলছে। এবার সামাজিক মাধ্যমে দাম্পত্যের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে অভিনেত্রী একটি দীর্ঘ পোস্ট করেছেন।
অভিনেত্রী অভিযোগ করেছেন যে, চার সন্তানের কথা ভেবে তিনি স্বামীর কাছে শান্তিপূর্ণভাবে বিচ্ছেদের আবেদন করেছিলেন। কিন্তু তার আবেদনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বরং, বিবাহবিচ্ছেদের আইনি খরচ চালাতে না পারলে তাকে বুয়ার কাজ করে উপার্জন করতে বলা হয়েছিল। সাবেক মিস ইন্ডিয়া ইউনিভার্স খেতাবজয়ী এই তথ্য জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: নেপালে আয়ুষ্মান-সারার সিনেমা 'উড়তা তীর' প্রদর্শনে নিষেধাজ্ঞা
পিটার হাগের সঙ্গে ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবন শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তিনি যে পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন, তা তিনি তুলে ধরেছেন। সেলিনা জানান, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের গোড়ায় তাদের বিবাহবার্ষিকীর উপহার হিসেবে কিছু আশা করেছিলেন। কিন্তু তার পরিবর্তে হাতে আসে বিচ্ছেদের নোটিশ। সামাজিক মাধ্যমে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘এক বছর আগে একটি সুটকেস নিয়ে মুম্বাইয়ে ফিরেছিলাম। তাতে ছিল প্রয়োজনীয় নথি, প্রয়াত মায়ের শাড়ি আর একরাশ যন্ত্রণা।’
তিনি বলেন, মামলার প্রথম শুনানিতে বিচারক তাদের সমঝোতার মাধ্যমে বিচ্ছেদের জন্য নভেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছিলেন। সেই সুযোগে সন্তানদের কথা ভেবে স্বামীকে অনুরোধ করেছিলেন তিনি।
সেলিনা বলেন, ‘আমি কথা দিয়েছিলাম, ওর অত্যাচার ও মানসিক যন্ত্রণার কথা আদালতে বলব না। সন্তানদের কথা ভেবে যেন শান্তিপূর্ণভাবে আলাদা হয়ে যাই— এটুকুই চেয়েছিলাম।’
আইনি খরচ চালাতে না পারার কথা জানালে পিটার তাকে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। অর্থের অভাব হলে পরিচারিকার কাজ করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল তাকে, এমনটাই জানান তিনি। অভিনেত্রী বলেন, ‘১৫ বছরের দাম্পত্য, চার সন্তান। এই কি সেই মানুষ?’
আরও পড়ুন: প্রেমের প্রস্তাবে ‘না’ বলায় অভিনেত্রী ম্রুণালকে মানসিক হেনস্তা
সেলিনা জানান, তার বিয়ের আগের সম্পত্তির ওপর দাবি জানানো হয়েছিল। সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে অস্ট্রিয়ায় থাকতে হবে বলেও তাকে জানানো হয়েছিল। তিনি বলেন, সন্তানদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগও একসময় বন্ধ হয়ে যায়।
অভিনেত্রী অভিযোগ করেছেন যে, সন্তানদের তার বিরুদ্ধে প্রভাবিত করা হচ্ছে এবং তাকে মানসিকভাবে অসুস্থ মা হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা চলছে। এমন পরিস্থিতিতে অস্ট্রিয়ার প্রতিবেশীদের সাহায্যে রাত ১টায় বাড়ি ছাড়েন তিনি। বলিউড অভিনেত্রী লারা দত্তও তার সঙ্গে ঘটে চলা পরিস্থিতির সাক্ষী ছিলেন বলে দাবি করেছেন সেলিনা।
সন্তানদের যৌথ অভিভাবকত্ব নিয়ে এখনও আইনি লড়াই চলছে বলে জানিয়েছেন সেলিনা জেটলি। তিনি বলেন, ‘তবু আমি ন্যায়বিচারের অপেক্ষা করব। এই একা মা লড়াই চালিয়ে যাবে।’
আরও পড়ুন: ভারতে শাহরুখ, সালমান ও কঙ্গনার নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন?
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন