মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:১৫ পি.এম
ঢাকা, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ : ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে মোট ২ হাজার ৭৯৯টি মামলা দায়ের করেছে।
আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপি এ তথ্য প্রকাশ করে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ট্রাফিক-রমনা বিভাগে মোট ১২৮টি মামলা দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ৫টি বাস, ৭টি কাভার্ডভ্যান, ১৩টি সিএনজি ও ৩৩টি মোটরসাইকেল।
ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে ১৬৫টি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫টি বাস, ১২টি ট্রাক, একটি ক্যার্ভাডভ্যান, ১৪টি সিএনজি ও ৮৯টি মোটরসাইকেল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে মোট ৩৬৪টি মামলা হয়েছে, যেখানে ১৫টি বাস, দুইটি ট্রাক, ২৬টি কাভার্ডভ্যান, ৬০টি সিএনজি ও ১৯২টি মোটরসাইকেল রয়েছে।
ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগে ৩৮৬টি মামলা দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে ৩৩টি বাস, ২৬টি ট্রাক, ২৩টি কাভার্ডভ্যান, ৬৩টি সিএনজি ও ১৩৭টি মোটরসাইকেল রয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগে ১৭৯টি মামলা হয়েছে, যেখানে ১৬টি বাস, তিনটি ট্রাক, নয়টি ক্যাভার্ডভ্যান, ৩১টি সিএনজি ও ৫৮টি মোটরসাইকেল অন্তর্ভুক্ত আছে।
ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগে ৩৫১টি মামলা দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে ১৪টি বাস, ১৯টি ট্রাক, ৩৬টি কাভার্ড ভ্যান, ৩৮টি সিএনজি ও ১৬১টি মোটরসাইকেল রয়েছে।
ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগে ৪১২টি মামলা হয়েছে, যেখানে ২৮টি বাস, ১২টি ট্রাক, ১৫টি ক্যাভার্ডভ্যান, ৭৯টি সিএনজি ও ১৫৭টি মোটরসাইকেল রয়েছে।
ট্রাফিক-গুলশান বিভাগে ৮১৪টি মামলা দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে ৯১টি বাস, ২৮টি ট্রাক, ৪৪টি কাভার্ডভ্যান, ৯২টি সিএনজি ও ২২৮টি মোটরসাইকেল রয়েছে।
অভিযানের সময় ৬৯২টি গাড়ি ডাম্পিং এবং ৪২৯টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে।
সোমবার, ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এসব মামলা দায়ের করে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঢাকা মহানগর এলাকায় ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তান সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি রক্ষা করার পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখার জন্য সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ইসলামাবাদ একদিকে তেহরানকে তাদের মিত্রদের নিয়ন্ত্রণে রাখার বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়ানোর সম্ভাবনাও নাকচ করছে।
সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি হয়েছে। সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আবদ্ধ পাকিস্তান এখন এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি, যেখানে রিয়াদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পূরণের পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে সংঘাত এড়ানোও জরুরি হয়ে পড়েছে।
পাকিস্তান গত কয়েক মাস ধরে দুই ধরনের কূটনৈতিক বার্তা প্রদান করে আসছে। একদিকে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে ইসলামাবাদ, অন্যদিকে তেহরানকে জানাচ্ছে যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে সামরিক পদক্ষেপের চাপ বাড়তে পারে।
সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে সতর্ক পাকিস্তান
১০ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খানকে সৌদি আরবের ওপর হুথি হামলার প্রেক্ষাপটে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। তিনি জানান, তাৎক্ষণিকভাবে এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা চলছে না। তবে প্রয়োজন দেখা দিলে চুক্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাকিস্তান ইরানকে হুথিদের হামলা বন্ধে প্রভাব খাটানোর আহ্বান জানিয়েছে। ইসলামাবাদ প্রকাশ্যে জানায় যে, এখনই কোনো সামরিক প্রতিক্রিয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পাকিস্তানের এই অবস্থানের লক্ষ্য হলো সৌদি আরবকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া, কিন্তু একই সঙ্গে ইয়েমেনের সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এড়িয়ে চলা।
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘিরে তৎপরতা
২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করা হলে তা পাকিস্তানের কাছে ‘রেড লাইন’ হিসেবে বিবেচিত হবে।
একই দিনে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের সঙ্গে রিয়াদে বৈঠক করেন। বৈঠকে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সামরিক সমন্বয় এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা একীভূত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
পরে ৫ অক্টোবর সৌদি আরবে পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের প্রতিনিধিদের বৈঠকের পর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানান, ইসলামাবাদ ও আঙ্কারা সহায়ক ভূমিকায় রয়েছে। পাকিস্তান গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহের কাজে যুক্ত থাকলেও সরাসরি লড়াই করছে সৌদি বাহিনী।
তবে পাকিস্তানের এই সহায়তা ঠিক কোন এলাকায় পরিচালিত হচ্ছে, কী ধরনের সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে কিংবা কতজন সেনা মোতায়েন রয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ইরানের আপত্তি, হুথিদের হুঁশিয়ারি
পাকিস্তানের সামরিক সহযোগিতার খবর সামনে আসার পর ইরান উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ৪ অক্টোবর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, সৌদি আরবে পাকিস্তান ও তুরস্কের সেনা মোতায়েনের খবর সত্য না হলেই তেহরান স্বস্তি পাবে।
পরবর্তী সময়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে আরো কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। দেশটির তাসনিম সংবাদ সংস্থা পাকিস্তান ও তুরস্ককে সৌদি আরবের যুদ্ধে যোগ দেওয়ার অভিযোগে সংবাদ প্রকাশ করে।
তেহরানভিত্তিক বিশ্লেষক জাভাদ হেইরান-নিয়া মনে করেন, সৌদি ভূখণ্ড রক্ষায় প্রতিরক্ষামূলক সহযোগিতা ইরান মেনে নিতে পারে। তবে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণাত্মক সামরিক পদক্ষেপকে তেহরান সীমারেখা হিসেবে বিবেচনা করে।
এদিকে হুথি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি পাকিস্তান ও তুরস্ক সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দিতে সরাসরি যুদ্ধে জড়ালে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত হুথিদের বক্তব্যে এমন ধারণাই দেখা যাচ্ছে যে, পাকিস্তান ও তুরস্ক সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেবে না।
পাকিস্তান শুধু সামরিক সহযোগিতার বার্তা দিচ্ছে না, কূটনৈতিক সমাধানের পথও খোলা রাখতে চাইছে। ২ অক্টোবর পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানান, জাতিসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে আলোচনায় তিনি সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
দারের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান হুথিদের সঙ্গে রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের একটি ধারণা সামনে এনেছে। তবে এটি ছিল দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা; কোনো লিখিত প্রস্তাব নয়।
পাকিস্তানের দাবি, ইরানের নেতারাও হুথিদের সঙ্গে বিরোধের অবসান চান। তেহরান এ বক্তব্যের বিষয়ে প্রকাশ্যে আপত্তি জানায়নি।
এর আগেও পাকিস্তান একই ধরনের ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করেছে। মার্চে ইসহাক দার জানিয়েছিলেন, সৌদি আরবের প্রতি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা অঙ্গীকারের কথা তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন। জবাবে ইরান আশ্বাস চেয়েছিল, সৌদি ভূখণ্ড যেন তেহরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর কাজে ব্যবহার না করা হয়।
কঠিন ভারসাম্যের মুখে ইসলামাবাদ
সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক শুধুমাত্র সামরিক সহযোগিতায় সীমাবদ্ধ নয়; দেশটির অর্থনীতি সৌদি আর্থিক সহায়তা ও প্রবাসী পাকিস্তানিদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপরও নির্ভরশীল। অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন জটিলতা তৈরি হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামাবাদের সামনে এখন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য—সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষা, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখা এবং ইয়েমেনের যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়া এড়ানো।
তবে হুথিদের হামলা অব্যাহত থাকলে সৌদি আরবের ওপর পাকিস্তানের সামরিক সহায়তা বাড়ানোর চাপও বাড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে ইসলামাবাদ কতটা প্রতিরক্ষামূলক সহযোগিতায় সীমাবদ্ধ থাকতে পারবে, আর কতটা সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে—তা নির্ভর করবে পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথের ওপর।
সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা অঙ্গীকার এবং ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার পাকিস্তানের এই প্রচেষ্টা এখন মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংকটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক দিক হয়ে উঠেছে।
সূত্র: রয়টার্স ও এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ দখলমুক্ত করে খেলাধুলার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে রাজধানী মডেল স্কুলের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা মানববন্ধন করেছেন। এ সময় তাঁরা মাঠ ব্যবহারের প্রতিবন্ধকতা দূর করে শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাভাবিক খেলাধুলার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। দ্রুত ও স্থায়ী সমাধান না হলে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণাও দেন তাঁরা।
মানববন্ধনে তারা বলেন, শিশুদের শারীরিক সুস্থতা, মানসিক বিকাশ এবং সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু খেলার মাঠ ব্যবহার নিয়ে সৃষ্ট বাধার কারণে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে তাদের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন।
রাজধানী মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. শামীম বলেন, “শিশুরা শুধু বই পড়ে বড় হয় না। তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলা অপরিহার্য। একটি মাঠ শিশুদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। আমরা কোনো বিরোধ চাই না, আমরা চাই আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধান হোক এবং শিক্ষার্থীরা তাদের খেলাধুলার সুযোগ ফিরে পাক।”
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও খেলাধুলার অধিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে তাঁরা আশাবাদী। তবে শিক্ষার্থীদের মাঠে খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অভিভাবকরা বলেন, শিশুদের মাঠে খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। খেলাধুলা শিশুদের শারীরিকভাবে সক্রিয় রাখার পাশাপাশি মানসিক বিকাশ, শৃঙ্খলাবোধ ও সামাজিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত সমাজ গঠন ও সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তুলতেও খেলাধুলার বিকল্প নেই। তাই এ বিষয়ে আর কালক্ষেপণ না করে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিশুদের খেলাধুলার সুযোগ ও খেলার জায়গা নিশ্চিত করার বিষয়ে যে ঘোষণা দিয়েছেন, তাতে তাঁরা আশাবাদী। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের নীতি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দ্রুত তাদের খেলার মাঠ ব্যবহারের সুযোগ ফিরে পাবে।
মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা সম্মিলিতভাবে দাবি জানান, দ্রুত মাঠ ব্যবহারের সমস্যার সমাধান করে শিশুদের জন্য নিরাপদ, উন্মুক্ত ও উপযুক্ত খেলাধুলার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তাঁরা বলেন, একটি খেলার মাঠ কেবল বিনোদনের জায়গা নয়; এটি শিশুদের সুস্থ বিকাশ, শৃঙ্খলাবোধ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, তাঁরা শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে নিজেদের দাবি আদায়ের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মতবিনিময় শেষে টঙ্গী বাজারের রাস্তা উদ্বোধন করেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার
গাজীপুরের টঙ্গী বাজারে সম্মানিত ওলামা-মাশায়েখ ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) টঙ্গী বাজারে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি মো. শওকত হোসেন সরকার।
সভায় সভাপতিত্ব করেন টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রাশেদুল ইসলাম কিরণ।
মতবিনিময় সভায় ওলামা-মাশায়েখ ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে টঙ্গী বাজারের বিভিন্ন সমস্যা, ব্যবসায়িক পরিবেশ এবং বাজার এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বাজারের সার্বিক পরিবেশ উন্নয়ন, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং জনসাধারণের চলাচল সহজ করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভা শেষে প্রধান অতিথি মো. শওকত হোসেন সরকার টঙ্গী বাজারের একটি রাস্তা উদ্বোধন করেন। এ সময় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ও ব্যবসায়ীরা বাজার এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করা এবং বাজার এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী অঞ্চলে ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি মৃত সাইফুল ইসলামের বিধবা স্ত্রীকে স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে সেলাই মেশিন উপহার প্রদান করেছে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী।
মঙ্গলবার বিকেলে, জামায়াতের স্থানীয় নেতারা সাইফুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রীর হাতে সেলাই মেশিনটি তুলে দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুল হাসান, বনগ্রাম ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা আবু ইছা, ইউনিয়ন প্রচার সেক্রেটারি হাফিজুর রহমান, ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মাওলানা মো. ইদ্রিস আলী, পেশাজীবী ইউনিয়নের সভাপতি মো. কামাল উদ্দিন, বিশিষ্ট সমাজসেবক চেরাগ আলী এবং মো. মিজানুর রহমানসহ অন্যান্য স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সূত্রের খবর, সাইফুল ইসলাম বনগ্রাম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন। তার মৃত্যুর পর পরিবারের আর্থিক সংকট মোকাবিলা ও তার স্ত্রীর জীবিকা নির্বাহের পথ তৈরি করার জন্য সেলাই মেশিন উপহার দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে জামায়াতে ইসলামী।
সেলাই মেশিন প্রদান শেষে, সাইফুল ইসলামের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়।
সাইফুল ইসলামের স্ত্রী ঝুমা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতি ছিলেন। আমরা বিএনপির রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হলেও জামায়াতে ইসলামী দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে এবং আমাকে একটি সেলাই মেশিন উপহার দিয়েছে। আমার তিনটি মেয়ে রয়েছে। এমন সহযোগিতা আমার পরিবারের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে কোনো দলীয় ভেদাভেদ থাকা উচিত নয়। জামায়াতে ইসলামীর এই মানবিক উদ্যোগের জন্য আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
এমই
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ