ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পূজা উৎসবে অংশগ্রহণ মুসলমানদের জন্য হারাম: খতিবদের সতর্কতা


পূজা উৎসবে অংশগ্রহণ মুসলমানদের জন্য হারাম: খতিবদের সতর্কতা

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক গতকাল জুমার খুতব্বা পূর্ব বয়ানে উল্লেখ করেন, নবী (সা.) বলেছেন, আল্লাহ আমাকে হেদায়েতের বার্তা দিয়ে পাঠিয়েছেন। যারা এই বার্তা গ্রহণ করবে তারা জান্নাত লাভ করবে। অপরদিকে, যারা হেদায়েতের বার্তা গ্রহণ করবে না, তারা দুনিয়া ও আখেরাতে ক্ষতির সম্মুখীন হবে। খতিব আরও বলেন, রাসূল (সা.) হেদায়েতের দাওয়াত দিতে তায়েফ গিয়েছিলেন। সেখানে তায়েফবাসীরা রাসূল (সা.) কে অসহনীয় কষ্ট দিয়েছিল। রাসূল (সা.) এর দেহ রক্তাক্ত হয়েছিল। তায়েফের মাটিতে জ্ঞান ফিরলে জিবরিল (আ.) এসে বলেছিলেন, আপনি যদি অনুমতি দেন, তবে তায়েফের দু’টি পাহাড় দিয়ে তাদের ধ্বংস করে দিই। কিন্তু রাসূল (সা.) এতে রাজি হননি।

তিনি বলেছিলেন, এরা এখন বুঝে না, তবে তাদের ভবিষ্যত বংশধররা একদিন দ্বীনের দাওয়াত গ্রহণ করতে পারে। খতিব বলেন, যারা শরীয়া গ্রহণ করবে, তারাই সফল হবে। নবী (সা.) শরীয়া অনুসরণের মাধ্যমেই একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তোলার কথা বলেছেন। খতিব আরও বলেন, এবাদত একমাত্র আল্লাহর জন্য। যদি কেউ তাওহিদের বিশ্বাসী হয়, তাহলে আল্লাহ তার গুনাহ মাফ করে দেবেন। আল্লাহ ইরশাদ করেন, তোমরা শিরিক ছেড়ে তাওহিদের দাওয়াত গ্রহণ করো। খতিব বলেন, সরকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজায় সর্বাত্মক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করছে। পূজা চলছে পূর্ণ নিরাপত্তার মাধ্যমে। তবে পূজা একটি শিরিক কাজ। এই শিরিক পরিহার করার জন্য যুগে যুগে আল্লাহ নবী পাঠিয়েছেন। যদি কোনো মুসলমান উদারতার নামে পূজায় গিয়ে সহমর্মিতা প্রকাশ করে, তাহলে তার ঈমান থাকবে না। খতিব বলেন, আল্লাহ রাসূল (সা.) সিরাতকে উত্তম আদর্শ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। রাসূল (সা.) সিরাতকে অনুসরণের মাধ্যমে মু’মিনরা দুনিয়া ও আখেরাতে সফলকাম হতে পারবেন। আল্লাহ সবাইকে কবুল করুন। আমিন।

মহাখালীস্থ মসজিদে গাউছুল আজমের খতিব মুফতী মাওলানা মাহবুবুর রহমান গতকাল জুমার খুতবা পূর্ব বয়ানে বলেন, মুসলমানদের জন্য বিধর্মীদের (পূজা) উৎসবে শামিল হওয়া হারাম। তাঁদের উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তবে অংশ নেয়াও যাবে না। বিধর্মীদের উৎসবে শিরকসহ নানাবিধ কবিরাহ গুনাহ হয়, যা মুসলিমদের ঈমান ধ্বংস করে দেয়। আল্লাহ বলেছেন, শিরক সব থেকে বড় গুনাহ। এই বিষয়টি মাথায় রেখে চলমান সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজায় যাওয়া যাবে না। অনেক মুসলিম আছেন যারা পূজা দেখার নাম করে সেখানে যান, অথচ উপলব্ধি করেন না সেখানে আল্লাহর সাথে চরমভাবে শিরক করা হচ্ছে। যা দেখে মুসলমানের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হওয়ার কথা, কিন্তু মুসলমানগণ আনন্দ পাচ্ছে। নিঃসন্দেহে এটিও কবিরা গুনাহের কাজ। আমাদের ঈমানী দায়িত্ব হচ্ছে এর থেকে দূরে থাকা।

আরও পড়ুন: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি: ১৭ অক্টোবর ২০২৬

খতিব বলেন, ইসলাম একটি শান্তিময়, ন্যায়পরায়ণ ও মানবিক জীবনব্যবস্থা। ইসলামি সমাজে বসবাসকারী ভিন্ন ধর্মাবলম্বী নাগরিকগণের (অমুসলিমদের) জীবন, সম্পত্তি, সম্মান এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মুসলমানদের ঈমানি ও নৈতিক দায়িত্ব। রাসূলুল্লাহ (সা.) অমুসলিম নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় অত্যন্ত কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেছেন: যে ব্যক্তি কোনো চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমকে (মুআহিদ) কষ্ট দিল কিংবা তার অধিকার খর্ব করল, কিয়ামতের দিন আমি নিজেই তার বিরুদ্ধে বাদী হব (সুনান আবু দাউদ)। অতএব, আমাদের সমাজে বসবাসকারী সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সকল অমুসলিম ভাইদের উৎসব পালনে কোনো প্রকার বাধা সৃষ্টি করা যাবে না, তাদের জান-মাল ও উপাসনালয়ের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তাদের প্রতি কোনো ধরনের বাড়াবাড়ি, জুলুম বা অন্যায় আচরণ ইসলাম কখনো সমর্থন করে না।

নিরাপত্তা প্রদান এবং অন্যের ধর্মীয় উৎসবে আনন্দ বা আচারে শামিল হওয়া—এ দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। ইসলাম আমাদের একটি স্বতন্ত্র ও পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান দিয়েছে। আমাদের ইবাদত, সংস্কৃতি, বিশ্বাস এবং উৎসব সবকিছুই তাওহীদ বা একত্ববাদের ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। একজন মুসলমান কখনোই তার ঈমান ও আকিদার সাথে আপস করতে পারে না। অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণ করা কিংবা তাতে সরাসরি শামিল হওয়া ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ বা হারাম। রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন “যে ব্যক্তি কোনো জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদেরই দলভুক্ত।” (সুনান আবু দাউদ, হাদিস নং ৪০৩১)। এই হাদিসের আলোকে ভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, প্রতীক বা উৎসবে অংশ নেওয়া মুসলিম উম্মাহর জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। খতিব আরো বলেন, দুর্গাপূজাসহ অন্যান্য পৌত্তলিক উৎসবগুলোতে মূলত কী সংঘটিত হয়? সেখানে আল্লাহ তাআলার সাথে অংশীদার স্থাপন করা হয়, প্রতিমা পূজা করা হয়—যা সরাসরি ‘শিরক’। পবিত্র কুরআনে শিরককে সবচেয়ে বড় জুলুম ও অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা সূরা লুকমানের ১৩ নম্বর আয়াতে লোকমান হাকিমের উপদেশের মাধ্যমে ইরশাদ করেছেন: আর স্মরণ করো, যখন লুকমান তার পুত্রকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেছিল, ‘হে আমার প্রিয় বৎস! আল্লাহর সাথে শরিক কোরো না। নিশ্চয়ই শিরক হলো সবচেয়ে বড় জুলুম (অত্যাচার) (সুরা লুকমান, আয়াত: ১৩)। আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেছেন যে, শিরক এমন এক মারাত্মক অপরাধ যা মানুষের সমস্ত নেক আমল ও বিশ্বাসকে বরবাদ করে দেয়। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে: আর যদি তারা শিরক করত, তবে তাদের বিগত আমলসমূহ নিষ্ফল হয়ে যেত (সুরা আল-আনআম, আয়াত: ৮৮)। যেখানে আল্লাহ তাআলা শিরককে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করেছেন (যদি তওবা ছাড়া মারা যায়), সেখানে একজন মুমিন কীভাবে সচেতনভাবে বা কৌতূহলের বশে এমন স্থানে উপস্থিত হতে পারে, যেখানে প্রকাশ্যে শিরক সংঘটিত হচ্ছে? উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে খতিব আরো বলেন, আজকাল অত্যন্ত দুঃখের সাথে লক্ষ করা যায়, অনেক মুসলিম ভাই ও বোন ‘শুধু দেখতে যাচ্ছি’ কিংবা ‘কৌতূহল মেটাতে যাচ্ছি’—এই অজুহাতে পূজা মণ্ডপগুলোতে ভিড় করেন। তারা উপলব্ধি করতে পারেন না যে, যে স্থানে আল্লাহর সাথে কুফরি ও শিরক করা হচ্ছে, সেখানে উপাসনা বা উদযাপনের অংশ হিসেবে যাওয়া এবং তা উপভোগ করা কবিরা গুনাহ। একজন প্রকৃত মুমিনের হৃদয়ে আল্লাহর একত্ববাদের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও আত্মমর্যাদা থাকে। যখন সে দেখে যে তার রবের সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করা হচ্ছে, তখন তার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হওয়ার কথা, তার ঈমানি চেতনায় আঘাত লাগার কথা। অথচ এর বিপরীতে, অনেককে দেখা যায় সেখানে গিয়ে আনন্দ প্রকাশ করতে বা উৎসবের আবহে মেতে উঠতে, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং ঈমান বিধ্বংসী। পবিত্র কুরআনে মুমিনদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলা হয়েছে যে, তারা যখন অনৈতিক বা বাতিল কর্মকাণ্ডের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে, তখন অত্যন্ত সংবেদনশীলতা ও মর্যাদার সাথে তা পরিহার করে চলে। সবশেষে খতিব বলেন, ঈমান ও আকিদা রক্ষা করা আমাদের জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ দায়িত্ব। অমুসলিম নাগরিকদের নাগরিক অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষা করা আমাদের মানবিক ও সামাজিক কর্তব্য, কিন্ত তাদের ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণ বা শামিল হওয়া আমাদের ঈমানের পরিপন্থী। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে সকল প্রকার শিরক, কুফরি ও কবিরা গুনাহ থেকে দূরে থাকার তৌফিক দান করুন। আমাদের ঈমানকে হেফাজত করুন এবং সিরাতে মুস্তাকিমে অটল রাখুন। আমীন।

ঢাকার মুগদা উত্তর মান্ডা বাইতুন নূর জামে মসজিদের খতিব শাইখুল হাদিস মুফতি ফয়জুল্লাহ জীবনপুরী গতকাল খুতবার পূর্ব বয়ান করেন, বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদের মৃত্যুর বাস্তবতার মুখোমুখি হতে এবং আখেরাতের পাথেয় সঞ্চয় করতে বারবার সতর্ক করেছেন। খতিব বলেন, দুনিয়ার শুরু আছে শেষ আছে কিন্ত পরকালের শুরু আছে শেষ নাই, এই পৃথিবী একদিন মরে যাবে, তাতে সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে। মানুষ যখন মারা যায় তখন তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি জিনিস জারি থাকে এক সদকায়ে জারিয়া, নেক সন্তান এবং উপকারী এলেম। দুনিয়াতে একটি বিছানা পুরাতন হয়ে গেলে নতুন আরেকটি বিছানা বিছানো হয়, কিন্ত কবর দেশে মাটির বিছানা থাকবে। আর দুনিয়াতে একটি বাতি ফিউজ হয়ে গেলে আরেকটি বাতি জ্বালানো হয়, কিন্ত কবরে তো কোন বাতি থাকবে না,

খতিব একটি হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর সালাতের স্থানে প্রবেশ করে কিছু মানুষকে হাসাহাসি করতে দেখলেন। তিনি বললেন: “জেনে রেখো! তোমরা যদি স্বাদ বিনষ্টকারী বস্তুকে (মৃত্যুকে) বেশি স্মরণ করতে, তবে তা তোমাদেরকে এই হাসাহাসি থেকে বিরত রাখত। অতএব তোমরা স্বাদ বিনষ্টকারী মৃত্যুকে বেশি স্মরণ করো। কেননা কবরের ওপর এমন কোনো দিন অতিক্রম হয় না, যেদিন সে কথা বলে না। কবর বলে ‘আমি প্রবাসের ঘর, আমি একাকীত্বের ঘর, আমি মাটির ঘর, আমি পোকামাকড়ের ঘর।’ “আর যখন কোনো কাফের (বা পাপাচারী) বান্দা দুনিয়ার জীবন শেষ করে আখিরাতের অভিমুখে যাত্রা করে, তখন আকাশ থেকে কালো চেহারার ফেরেশতারা নেমে আসে। তাদের কাছে থাকে খসখসে বা চটের তৈরি আগুনের পোশাক। তারা তার দৃষ্টির সীমানা পর্যন্ত বসে যায়। তারপর আজরাইল (আ.) (মৃত্যুর ফেরেশতা) এসে তার মাথার কাছে বসেন এবং বলেন: ‘হে অপবিত্র আত্মা! আল্লাহর অসন্তোষ ও গযবের দিকে বের হয়ে আয়।’ নবীজি (সা.) আরও বলেন, কবর কারো জন্য জান্নাতের বালাখানা হবে, কারো জন্য জাহান্নামের গর্তে পরিণত হবে। খুতবার শেষ পর্যায়ে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বলেন, আসুন আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের কবরসমূহকে জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগান বানিয়ে দেন এবং আমাদের ক্ষমা করেন ও তাঁর রহমতে আমাদের প্রতি দয়া করেন। আমিন।

আরও পড়ুন: ইসলামে তাবিজ পরা জায়েজ কি? শরিয়ত কী বলে?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা-সৌদি রুটে ১০৭ ফ্লাইট বাতিল, ১৬ হাজার ৬২০ যাত্রী ভোগান্তিতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:১২ এম


ঢাকা-সৌদি রুটে ১০৭ ফ্লাইট বাতিল, ১৬ হাজার ৬২০ যাত্রী ভোগান্তিতে

বাংলাদেশ থেকে সরাসরি ও ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ১০৭টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, যা সউদী আরবের বিমানবন্দরগুলোতে বিধি-নিষেধের কারণে ঘটেছে। এর ফলে, ১৬ হাজার ৬২০ জন যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

সম্প্রতি ইরান সমর্থিত হুতিদের মিসাইল হামলার কারণে রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, যা এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মুহাম্মাদ কাউছার মাহমুদ এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানান।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাতিল ফ্লাইটের মধ্যে ৪৪টি সরাসরি ফ্লাইট এবং ৬৩টি ট্রানজিট ফ্লাইট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া, অনেক ওমরাযাত্রী ভিসা হওয়ার পরেও বাংলাদেশ থেকে সউদী আরব যেতে পারছেন না এবং অনেকেই সউদীতে আটকা পড়েছেন।

সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনাকারী চারটি এয়ারলাইন্সের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, সউদীয়া এয়ারলাইন্সের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের সাতটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের ২২টি, এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, সালামএয়ারের ৭টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৬টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৪টি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্যে জানানো হয়েছে, সউদী আরবের বিমানবন্দরগুলোতে পরিচালনাগত বিধি-নিষেধের কারণে এসব ফ্লাইটের যাত্রা ব্যাহত হয়েছে, যা যাত্রীদের ভ্রমণসূচিতে পরিবর্তন ও ভোগান্তির সৃষ্টি করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কর্মসংস্থানে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ: আসলাম চৌধুরী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:১২ এম


হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কর্মসংস্থানে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ: আসলাম চৌধুরী

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আসলাম চৌধুরী এফসিএ জানিয়েছেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, আগামীর বাংলাদেশ হবে একটি সমৃদ্ধ অর্থনীতির দেশ। সেখানে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সকল ধর্মের মানুষের জন্য সমান কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার দক্ষিণ বাঁশবাড়িয়া এলাকার নাথপাড়া দুর্গাপূজামণ্ডপে বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আসলাম চৌধুরী আরও বলেন, সীতাকুণ্ডে সব ধর্মের মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, কোনো ধর্মেই খারাপ কাজের শিক্ষা দেওয়া হয় না এবং সব ধর্মেই সৎ কাজ করার এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে পূজামণ্ডপে আগত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েকশ মানুষের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ করেন আসলাম চৌধুরী।

উপজেলা জন্মাষ্টমী পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রতন কুমার নাথের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহুরুল আলম জহুর, যুগ্ম আহ্বায়ক সালামত উল্লাহ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শিব চতুর্দশী মেলা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনোজ কুমার নাথ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আশুলিয়ায় ৪ দিন পর ১১ বছরের শিশু ফাহিমকে উদ্ধার করলো পুলিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:১২ এম


আশুলিয়ায় ৪ দিন পর ১১ বছরের শিশু ফাহিমকে উদ্ধার করলো পুলিশ

বাবা-মায়ের প্রতিটি মুহূর্ত উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তায় কাটছিল, কারণ সন্তানের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না ৪ দিন ধরে। পরিবারের সদস্যরা যখন দিশেহারা হয়ে পড়েছিল, তখন পুলিশের তৎপরতা স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসে।

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, যাতায়াতের সূত্র অনুসন্ধান এবং পরিবহন শ্রমিকদের সহযোগিতার মাধ্যমে ১১ বছরের শিশু মো. ফাহিম হোসেনকে ৪ দিন পর সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভোররাতে গাজীপুর মহানগরীর আব্দুল্লাহপুর এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে আশুলিয়া থানা পুলিশ। পরে শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

পুলিশের সূত্রে জানা যায়, ফাহিম গত ১২ অক্টোবর ঢাকার আশুলিয়া থানাধীন ঘোষবাগ বড়বাড়ি ক্যামিকেল মোড় এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়। সে সোলায়মান হোসেনের ছেলে। সন্তানের সন্ধান না পেয়ে ১৪ অক্টোবর তার বাবা আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর পুলিশ শিশুটিকে খুঁজে বের করার জন্য অনুসন্ধানে নামে।

একপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান চালিয়ে শুক্রবার ভোররাতে আব্দুল্লাহপুর এলাকা থেকে ফাহিমকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করার পর শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এদিকে, দীর্ঘ ৪ দিন পর ছেলেকে ফিরে পেয়ে পরিবারে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সন্তানের নিখোঁজ হওয়ার সময়কার উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার কথা তুলে ধরে বাবা সোলায়মান হোসেন বলেন, "ছেলেটা নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে আমরা এক মুহূর্তের জন্যও শান্তিতে থাকতে পারিনি। কোথায় আছে, কী অবস্থায় আছে- কিছুই জানতাম না। প্রতিটি মুহূর্ত মনে হয়েছে, কখন ছেলের খোঁজ পাব। পুলিশ আমার ছেলেকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে। ছেলেকে ফিরে পেয়ে যে কী শান্তি লাগছে, তা ভাষায় বোঝাতে পারব না। আমি পুলিশের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিউজিল্যান্ড সফরের টেস্ট দলে ফিরলেন বুমরাহ ও পন্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:১৩ এম


নিউজিল্যান্ড সফরের টেস্ট দলে ফিরলেন বুমরাহ ও পন্ত

ভারতের দলে ফিরে এসেছেন জাসপ্রিত বুমরাহ ও ঋষভ পন্ত, যারা নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে অংশ নেবেন। তবে পন্তের সিরিজে খেলার সম্ভাবনা ফিটনেস ছাড়পত্র পাওয়ার ওপর নির্ভর করছে। দুই দলের প্রথম টেস্ট শুরু হবে আগামী ১৯ নভেম্বর ওয়েলিংটনে।

বুমরাহ ওয়ানডে সিরিজে অংশগ্রহণ করবেন না, কিন্তু টেস্ট সিরিজে তিনি দলের বোলিং আক্রমণের নেতৃত্ব দেবেন। ২০২৫ সালের নভেম্বরের পর থেকে টেস্ট খেলেননি এই পেসার। ভারতীয় দল তাঁর ওপর কাজের চাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছে, কারণ সামনে গুরুত্বপূর্ণ সূচি রয়েছে।

ভারতের নির্বাচক ও কোচ গৌতম গম্ভীরের পরিকল্পনায় বুমরাহকে আগামী বছরের শুরুতে দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ এবং বছরের শেষ দিকে আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। বর্তমানে বুমরাহ আহমেদাবাদে নিয়মিত অনুশীলন করছেন। নিউজিল্যান্ড সফরের আগে বেঙ্গালুরুর জাতীয় ক্রিকেট একাডেমিতে ফিটনেস অনুশীলন করার কথা রয়েছে তাঁর।

পন্ত সম্প্রতি ইরানি কাপে অধিনায়কত্ব করার সময় চোট পান। প্রথম ইনিংসে সুইপ শট খেলতে গিয়ে পাশের পেশিতে টান লাগে তাঁর। এই কারণে নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে প্রথম দুটি বেসরকারি টেস্টে তিনি খেলতে পারেননি। তবে আগামী ৭ থেকে ১০ নভেম্বর লিংকনে তৃতীয় বেসরকারি টেস্টে পন্তের মাঠে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। ওই ম্যাচে শুভমান গিল, লোকেশ রাহুল ও অংশুল কম্বোজও খেলতে পারেন।

টেস্ট দলে জায়গা পেয়েছেন প্রসিধ কৃষ্ণও। তবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে তাঁর খেলা ফিটনেসের ওপর নির্ভর করছে। পরীক্ষায় তাঁর বাঁ হ্যামস্ট্রিংয়ে টান ধরা পড়েছে, কিন্তু কোনো ছিঁড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেনি। গত দুই সপ্তাহ ধরে পুনর্বাসন, শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানোর অনুশীলন, মালিশ ও শরীরের নমনীয়তা বৃদ্ধির কাজ করছেন এই পেসার। ওয়ানডে সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচের জন্য তাঁকে দলে রাখা হয়েছে।

ইরানি কাপ ও রঞ্জি ট্রফির প্রথম পর্বে ভালো পারফরম্যান্সের পর টেস্ট দলে ফিরেছেন আকাশ দীপ। ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টারে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে অভিষেকের পর আবারও টেস্ট দলে জায়গা পেয়েছেন অংশুল কম্বোজ। মোহাম্মদ সিরাজ ও পেস বোলিং অলরাউন্ডার নীতীশ কুমার রেড্ডিও থাকছেন বোলিং আক্রমণে।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজে চার ইনিংসে ১৬ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হওয়া মানব সুতার দলে জায়গা পাননি। স্পিন বিভাগে রবীন্দ্র জাদেজা ও ওয়াশিংটন সুন্দরকে রাখা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে থাকছেন কুলদীপ যাদব।

চোটের কারণে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে না থাকা সাই সুদর্শনও ফিরেছেন দলে। তাঁকে মূলত অতিরিক্ত ব্যাটার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের বিপক্ষে সম্প্রতি চার দিনের ও এক দিনের সিরিজ খেলে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরেছেন তিনি।

এদিকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের শেষ দুই ম্যাচে ভারতের নেতৃত্ব দেবেন শ্রেয়াস আইয়ার। প্রথম তিন ম্যাচে নিয়মিত অধিনায়ক শুভমান গিলের নেতৃত্বে খেলবে ভারত। গিল, লোকেশ রাহুল ও অংশুল কম্বোজ কেবল প্রথম তিন ওয়ানডেতে থাকবেন। টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতির জন্য এরপর তাঁরা বিশ্রাম নেবেন।

চলতি বছর তিন সংস্করণেই ভালো ফর্মে থাকা উইকেটকিপার-ব্যাটার কুমার কুশাগ্র প্রথমবার ভারতের ওয়ানডে দলে ডাক পেয়েছেন। শেষ দুই ম্যাচের দলে রাখা হয়েছে তাঁকে। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আন্তর্জাতিক অভিষেক হওয়া অকিব নবীকেও শেষ দুই ম্যাচের দলে রাখা হয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠের টি-টোয়েন্টি সিরিজে শুধু টি-টোয়েন্টি দলে থাকা আর্শদীপ সিংও ওয়ানডে দলে ফিরেছেন।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ভারতের অধিনায়ক শুভমান গিল। তাঁর সঙ্গে আছেন যশস্বী জয়সওয়াল, লোকেশ রাহুল, দেবদত্ত পাডিক্কাল, ঋষভ পন্ত, ধ্রুব জুরেল, রবীন্দ্র জাদেজা, অংশুল কম্বোজ, জাসপ্রিত বুমরাহ, প্রসিধ কৃষ্ণ, আকাশ দীপ, সাই সুদর্শন, নীতীশ কুমার রেড্ডি, ওয়াশিংটন সুন্দর, কুলদীপ যাদব ও মোহাম্মদ সিরাজ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%