প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক গতকাল জুমার খুতব্বা পূর্ব বয়ানে উল্লেখ করেন, নবী (সা.) বলেছেন, আল্লাহ আমাকে হেদায়েতের বার্তা দিয়ে পাঠিয়েছেন। যারা এই বার্তা গ্রহণ করবে তারা জান্নাত লাভ করবে। অপরদিকে, যারা হেদায়েতের বার্তা গ্রহণ করবে না, তারা দুনিয়া ও আখেরাতে ক্ষতির সম্মুখীন হবে। খতিব আরও বলেন, রাসূল (সা.) হেদায়েতের দাওয়াত দিতে তায়েফ গিয়েছিলেন। সেখানে তায়েফবাসীরা রাসূল (সা.) কে অসহনীয় কষ্ট দিয়েছিল। রাসূল (সা.) এর দেহ রক্তাক্ত হয়েছিল। তায়েফের মাটিতে জ্ঞান ফিরলে জিবরিল (আ.) এসে বলেছিলেন, আপনি যদি অনুমতি দেন, তবে তায়েফের দু’টি পাহাড় দিয়ে তাদের ধ্বংস করে দিই। কিন্তু রাসূল (সা.) এতে রাজি হননি।
তিনি বলেছিলেন, এরা এখন বুঝে না, তবে তাদের ভবিষ্যত বংশধররা একদিন দ্বীনের দাওয়াত গ্রহণ করতে পারে। খতিব বলেন, যারা শরীয়া গ্রহণ করবে, তারাই সফল হবে। নবী (সা.) শরীয়া অনুসরণের মাধ্যমেই একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তোলার কথা বলেছেন। খতিব আরও বলেন, এবাদত একমাত্র আল্লাহর জন্য। যদি কেউ তাওহিদের বিশ্বাসী হয়, তাহলে আল্লাহ তার গুনাহ মাফ করে দেবেন। আল্লাহ ইরশাদ করেন, তোমরা শিরিক ছেড়ে তাওহিদের দাওয়াত গ্রহণ করো। খতিব বলেন, সরকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজায় সর্বাত্মক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করছে। পূজা চলছে পূর্ণ নিরাপত্তার মাধ্যমে। তবে পূজা একটি শিরিক কাজ। এই শিরিক পরিহার করার জন্য যুগে যুগে আল্লাহ নবী পাঠিয়েছেন। যদি কোনো মুসলমান উদারতার নামে পূজায় গিয়ে সহমর্মিতা প্রকাশ করে, তাহলে তার ঈমান থাকবে না। খতিব বলেন, আল্লাহ রাসূল (সা.) সিরাতকে উত্তম আদর্শ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। রাসূল (সা.) সিরাতকে অনুসরণের মাধ্যমে মু’মিনরা দুনিয়া ও আখেরাতে সফলকাম হতে পারবেন। আল্লাহ সবাইকে কবুল করুন। আমিন।
মহাখালীস্থ মসজিদে গাউছুল আজমের খতিব মুফতী মাওলানা মাহবুবুর রহমান গতকাল জুমার খুতবা পূর্ব বয়ানে বলেন, মুসলমানদের জন্য বিধর্মীদের (পূজা) উৎসবে শামিল হওয়া হারাম। তাঁদের উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তবে অংশ নেয়াও যাবে না। বিধর্মীদের উৎসবে শিরকসহ নানাবিধ কবিরাহ গুনাহ হয়, যা মুসলিমদের ঈমান ধ্বংস করে দেয়। আল্লাহ বলেছেন, শিরক সব থেকে বড় গুনাহ। এই বিষয়টি মাথায় রেখে চলমান সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজায় যাওয়া যাবে না। অনেক মুসলিম আছেন যারা পূজা দেখার নাম করে সেখানে যান, অথচ উপলব্ধি করেন না সেখানে আল্লাহর সাথে চরমভাবে শিরক করা হচ্ছে। যা দেখে মুসলমানের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হওয়ার কথা, কিন্তু মুসলমানগণ আনন্দ পাচ্ছে। নিঃসন্দেহে এটিও কবিরা গুনাহের কাজ। আমাদের ঈমানী দায়িত্ব হচ্ছে এর থেকে দূরে থাকা।
খতিব বলেন, ইসলাম একটি শান্তিময়, ন্যায়পরায়ণ ও মানবিক জীবনব্যবস্থা। ইসলামি সমাজে বসবাসকারী ভিন্ন ধর্মাবলম্বী নাগরিকগণের (অমুসলিমদের) জীবন, সম্পত্তি, সম্মান এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মুসলমানদের ঈমানি ও নৈতিক দায়িত্ব। রাসূলুল্লাহ (সা.) অমুসলিম নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় অত্যন্ত কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেছেন: যে ব্যক্তি কোনো চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমকে (মুআহিদ) কষ্ট দিল কিংবা তার অধিকার খর্ব করল, কিয়ামতের দিন আমি নিজেই তার বিরুদ্ধে বাদী হব (সুনান আবু দাউদ)। অতএব, আমাদের সমাজে বসবাসকারী সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সকল অমুসলিম ভাইদের উৎসব পালনে কোনো প্রকার বাধা সৃষ্টি করা যাবে না, তাদের জান-মাল ও উপাসনালয়ের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তাদের প্রতি কোনো ধরনের বাড়াবাড়ি, জুলুম বা অন্যায় আচরণ ইসলাম কখনো সমর্থন করে না।
নিরাপত্তা প্রদান এবং অন্যের ধর্মীয় উৎসবে আনন্দ বা আচারে শামিল হওয়া—এ দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। ইসলাম আমাদের একটি স্বতন্ত্র ও পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান দিয়েছে। আমাদের ইবাদত, সংস্কৃতি, বিশ্বাস এবং উৎসব সবকিছুই তাওহীদ বা একত্ববাদের ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। একজন মুসলমান কখনোই তার ঈমান ও আকিদার সাথে আপস করতে পারে না। অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণ করা কিংবা তাতে সরাসরি শামিল হওয়া ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ বা হারাম। রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন “যে ব্যক্তি কোনো জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদেরই দলভুক্ত।” (সুনান আবু দাউদ, হাদিস নং ৪০৩১)। এই হাদিসের আলোকে ভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, প্রতীক বা উৎসবে অংশ নেওয়া মুসলিম উম্মাহর জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। খতিব আরো বলেন, দুর্গাপূজাসহ অন্যান্য পৌত্তলিক উৎসবগুলোতে মূলত কী সংঘটিত হয়? সেখানে আল্লাহ তাআলার সাথে অংশীদার স্থাপন করা হয়, প্রতিমা পূজা করা হয়—যা সরাসরি ‘শিরক’। পবিত্র কুরআনে শিরককে সবচেয়ে বড় জুলুম ও অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা সূরা লুকমানের ১৩ নম্বর আয়াতে লোকমান হাকিমের উপদেশের মাধ্যমে ইরশাদ করেছেন: আর স্মরণ করো, যখন লুকমান তার পুত্রকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেছিল, ‘হে আমার প্রিয় বৎস! আল্লাহর সাথে শরিক কোরো না। নিশ্চয়ই শিরক হলো সবচেয়ে বড় জুলুম (অত্যাচার) (সুরা লুকমান, আয়াত: ১৩)। আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেছেন যে, শিরক এমন এক মারাত্মক অপরাধ যা মানুষের সমস্ত নেক আমল ও বিশ্বাসকে বরবাদ করে দেয়। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে: আর যদি তারা শিরক করত, তবে তাদের বিগত আমলসমূহ নিষ্ফল হয়ে যেত (সুরা আল-আনআম, আয়াত: ৮৮)। যেখানে আল্লাহ তাআলা শিরককে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করেছেন (যদি তওবা ছাড়া মারা যায়), সেখানে একজন মুমিন কীভাবে সচেতনভাবে বা কৌতূহলের বশে এমন স্থানে উপস্থিত হতে পারে, যেখানে প্রকাশ্যে শিরক সংঘটিত হচ্ছে? উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে খতিব আরো বলেন, আজকাল অত্যন্ত দুঃখের সাথে লক্ষ করা যায়, অনেক মুসলিম ভাই ও বোন ‘শুধু দেখতে যাচ্ছি’ কিংবা ‘কৌতূহল মেটাতে যাচ্ছি’—এই অজুহাতে পূজা মণ্ডপগুলোতে ভিড় করেন। তারা উপলব্ধি করতে পারেন না যে, যে স্থানে আল্লাহর সাথে কুফরি ও শিরক করা হচ্ছে, সেখানে উপাসনা বা উদযাপনের অংশ হিসেবে যাওয়া এবং তা উপভোগ করা কবিরা গুনাহ। একজন প্রকৃত মুমিনের হৃদয়ে আল্লাহর একত্ববাদের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও আত্মমর্যাদা থাকে। যখন সে দেখে যে তার রবের সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করা হচ্ছে, তখন তার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হওয়ার কথা, তার ঈমানি চেতনায় আঘাত লাগার কথা। অথচ এর বিপরীতে, অনেককে দেখা যায় সেখানে গিয়ে আনন্দ প্রকাশ করতে বা উৎসবের আবহে মেতে উঠতে, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং ঈমান বিধ্বংসী। পবিত্র কুরআনে মুমিনদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলা হয়েছে যে, তারা যখন অনৈতিক বা বাতিল কর্মকাণ্ডের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে, তখন অত্যন্ত সংবেদনশীলতা ও মর্যাদার সাথে তা পরিহার করে চলে। সবশেষে খতিব বলেন, ঈমান ও আকিদা রক্ষা করা আমাদের জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ দায়িত্ব। অমুসলিম নাগরিকদের নাগরিক অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষা করা আমাদের মানবিক ও সামাজিক কর্তব্য, কিন্ত তাদের ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণ বা শামিল হওয়া আমাদের ঈমানের পরিপন্থী। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে সকল প্রকার শিরক, কুফরি ও কবিরা গুনাহ থেকে দূরে থাকার তৌফিক দান করুন। আমাদের ঈমানকে হেফাজত করুন এবং সিরাতে মুস্তাকিমে অটল রাখুন। আমীন।
ঢাকার মুগদা উত্তর মান্ডা বাইতুন নূর জামে মসজিদের খতিব শাইখুল হাদিস মুফতি ফয়জুল্লাহ জীবনপুরী গতকাল খুতবার পূর্ব বয়ান করেন, বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদের মৃত্যুর বাস্তবতার মুখোমুখি হতে এবং আখেরাতের পাথেয় সঞ্চয় করতে বারবার সতর্ক করেছেন। খতিব বলেন, দুনিয়ার শুরু আছে শেষ আছে কিন্ত পরকালের শুরু আছে শেষ নাই, এই পৃথিবী একদিন মরে যাবে, তাতে সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে। মানুষ যখন মারা যায় তখন তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি জিনিস জারি থাকে এক সদকায়ে জারিয়া, নেক সন্তান এবং উপকারী এলেম। দুনিয়াতে একটি বিছানা পুরাতন হয়ে গেলে নতুন আরেকটি বিছানা বিছানো হয়, কিন্ত কবর দেশে মাটির বিছানা থাকবে। আর দুনিয়াতে একটি বাতি ফিউজ হয়ে গেলে আরেকটি বাতি জ্বালানো হয়, কিন্ত কবরে তো কোন বাতি থাকবে না,
খতিব একটি হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর সালাতের স্থানে প্রবেশ করে কিছু মানুষকে হাসাহাসি করতে দেখলেন। তিনি বললেন: “জেনে রেখো! তোমরা যদি স্বাদ বিনষ্টকারী বস্তুকে (মৃত্যুকে) বেশি স্মরণ করতে, তবে তা তোমাদেরকে এই হাসাহাসি থেকে বিরত রাখত। অতএব তোমরা স্বাদ বিনষ্টকারী মৃত্যুকে বেশি স্মরণ করো। কেননা কবরের ওপর এমন কোনো দিন অতিক্রম হয় না, যেদিন সে কথা বলে না। কবর বলে ‘আমি প্রবাসের ঘর, আমি একাকীত্বের ঘর, আমি মাটির ঘর, আমি পোকামাকড়ের ঘর।’ “আর যখন কোনো কাফের (বা পাপাচারী) বান্দা দুনিয়ার জীবন শেষ করে আখিরাতের অভিমুখে যাত্রা করে, তখন আকাশ থেকে কালো চেহারার ফেরেশতারা নেমে আসে। তাদের কাছে থাকে খসখসে বা চটের তৈরি আগুনের পোশাক। তারা তার দৃষ্টির সীমানা পর্যন্ত বসে যায়। তারপর আজরাইল (আ.) (মৃত্যুর ফেরেশতা) এসে তার মাথার কাছে বসেন এবং বলেন: ‘হে অপবিত্র আত্মা! আল্লাহর অসন্তোষ ও গযবের দিকে বের হয়ে আয়।’ নবীজি (সা.) আরও বলেন, কবর কারো জন্য জান্নাতের বালাখানা হবে, কারো জন্য জাহান্নামের গর্তে পরিণত হবে। খুতবার শেষ পর্যায়ে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বলেন, আসুন আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের কবরসমূহকে জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগান বানিয়ে দেন এবং আমাদের ক্ষমা করেন ও তাঁর রহমতে আমাদের প্রতি দয়া করেন। আমিন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন