পারভীন আক্তার, স্টাফ রিপোর্টার নারায়ণগঞ্জ জেলা তালাশ বিডি,
১০:২২ পি.এম
আজ ১৭ই আগস্ট, সোমবার, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এই সভায় সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক এবং বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট, জনাব মোঃ রায়হান কবির মহোদয়। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার, জনাব মোঃ মিজানুর রহমান মুন্সী এবং বিভিন্ন এনজিওর নেটওয়ার্কের কর্মকর্তাবৃন্দ।
এছাড়াও, প্রভাত কল্যাণ সংস্থার সভাপতি, শ্রী প্রদীপ কুমার এবং কারা সংস্থার পরিচালক মোঃ মনিরুল ইসলাম মনির সহ আরো অন্যান্য নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আগুন ও ঘন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ১০ তলাবিশিষ্ট হাসপাতাল থেকে মাত্র দুই দিনের এক নবজাতককে উদ্ধার করে আলোচনার জন্ম দেওয়া সাতক্ষীরা পুলিশ লাইনসে কর্মরত কনস্টেবল মো. সালমানকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
সাহসিকতা ও মানবিকতার এই ঘটনাটি নিয়ে ৫ আগস্ট কালের কণ্ঠের মাল্টিমিডিয়ায় প্রকাশিত প্রতিবেদনটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
এর প্রেক্ষিতে সোমবার (১৭ আগস্ট) কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে নগদ অর্থ এবং সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যদের নগদ অর্থ ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন সাতক্ষীরা জেলার পুলিশ সুপার।
পুরস্কার পাওয়ার পর ফেলার অনুভূতি উল্লেখ করে কনস্টেবল মো. সালমান বলেন, ‘ওই সময় আমি নিজের জীবনের কথা ভাবিনি। শুধু মনে হয়েছিল, ১০ তলায় একটি ছোট শিশু আটকা পড়েছে। যেভাবেই হোক তাকে উদ্ধার করতে হবে।
শিশুটিকে নিরাপদে বের করে আনতে সক্ষম হয়েছিলাম, সেটিই ছিল আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া।’
তিনি বলেন, ‘কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি মানুষের নজর কাড়ে এবং আজ যে সম্মাননা পেয়েছি, তাতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। এই সম্মাননা আমার দায়িত্ব পালনে আরো বেশি সাহস এবং অনুপ্রেরণা দেবে।’
গত ৪ আগস্ট দুপুরে সাতক্ষীরার ব্লিস হাসপাতালের বেজমেন্টে গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে।
মুহূর্তেই আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে ১০ তলা ভবনজুড়ে। আতঙ্কিত রোগী, স্বজন এবং হাসপাতালের কর্মীরা নিরাপদে বের হওয়ার জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন।
এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে খবর আসে যে, হাসপাতালে ১০ তলায় মাত্র দুই দিনের একটি নবজাতক আটকা পড়ে আছে। খবর নিয়ে সাতক্ষীরা পুলিশ লাইনসে কর্মরত কনস্টেবল মো. সালমান নিজের জীবনের কথা না ভেবে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে বেশ কষ্ট করে নবজাতকটিকে বুকে জড়িয়ে নিরাপদে নিচে নিয়ে আসেন।
এরপর নবজাতকটিকে পার্শ্ববর্তী আনোয়ারা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।
আগুনের খবর পেয়ে সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ, পুলিশ লাইনস, ট্রাফিক পুলিশ এবং ডিএসবি সদস্যরা ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন। এই সময় পুলিশ সদস্যরা একের পর এক হাসপাতালে ভর্তি রোগী, তাদের স্বজন এবং হাসপাতালের কর্মীদের নিরাপদে বের করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। পাশাপাশি হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী রক্ষার কাজে তারা অংশ নেন।
তবে ধোঁয়া ও আগুনের মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুই দিনের নবজাতককে উদ্ধার করার ঘটনাটি দ্রুত সবার নজরে আসে। এ ঘটনার ফলে ৫ আগস্ট কালের কণ্ঠের মাল্টিমিডিয়ায় প্রকাশিত প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। কনস্টেবল সালমান প্রশংসায় ভাসতে থাকেন। তার সাহসিকতা ও মানবিকতার ঘটনার বিষয়টি সাতক্ষীরার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সাহসিকতা, মানবিকতা ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুলিশ সদস্যদের সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে নবজাতক উদ্ধার করতে সাহসিকতার পরিচয় দেওয়া কনস্টেবল মো. সালমানকেও সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. আমিনুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শাহীনুর চৌধুরী, সহকারী পুলিশ সুপার (দেবহাটা সার্কেল) মো. বায়েজীদ ইসলাম, পুলিশ হাসপাতাল সাতক্ষীরার ডা. আবু হোসেনসহ উপজেলার বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জ, ডিআইও-১, টিআই (অ্যাডমিন), কোর্ট ইন্সপেক্টর এবং জেলা পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার সদস্যরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ এর আলোচনায় আসা মিশরের জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হোসাম হাসানের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সম্প্রতি শুরু হয়েছে তুমুল উত্তেজনা। জানা গেছে, তাঁর দুই স্ত্রীর মারামারির সময় তিনি জ্ঞান হারান। তবে এই উত্তেজনার অবসান ঘটেছে এক চরম সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে। দুই স্ত্রীর মধ্যে প্রকাশ্যে হাতাহাতির ঘটনার পর প্রথম স্ত্রী হোয়াইদা আল-গারবাওয়িকে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিভোর্স দিয়েছেন হোসাম।
হোসামের দ্বিতীয় স্ত্রীর আইনজীবী মোহাম্মদ শামস বিচ্ছেদের বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। এর মাধ্যমে হোয়াইদার সঙ্গে মিশরের এই তারকা কোচের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটলো। এই সংসারে তাদের তিন সন্তান রয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার সন্ধ্যায় দেশটির উত্তর উপকূলের একটি পর্যটন এলাকায় বিলাসবহুল হোটেলের ক্যাফেতে। সেখানে হঠাৎ করে হোসাম হাসানের দুই স্ত্রী মুখোমুখি হলে তর্কাতর্কি থেকে একপর্যায়ে তা শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েকজন পুলিশে খবর দেন। মারামারির দরুন দুই পক্ষই শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে তীব্র মানসিক চাপে ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন কোচ হোসাম হাসান। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পাশাপাশি মিশরের ক্রীড়াঙ্গন ও গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেন হোসাম। এর আগে ২০২২ সালেও প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর ১০ দিনের বিচ্ছেদ হয়েছিল, যা পরে মিটে যায়। তবে এবার সেই সম্পর্কের স্থায়ী সমাপ্তি টানলেন তিনি। অন্যদিকে ২০১৫ সালে দিনা মোস্তফা নামে এক নারীকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন সাবেক এই তারকা ফুটবলার।
জাতীয় দলের কোচের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এমন কাণ্ড মিশরের ক্রীড়া অঙ্গনে বেশ তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। তবে বিচ্ছেদের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এই বিতর্কের অধ্যায় শেষ করতে চাইলেন হোসাম হাসান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ২০২৬-২৭ কার্যকালের নতুন নেতৃত্ব হিসেবে শুভ কর্মকার এবং রুশাইদ আহমেদ দায়িত্ব নিয়েছেন। শুভ কর্মকার বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমের শিক্ষার্থী এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন রুশাইদ আহমেদ, যিনি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি রুহুল আমিন এবং সাধারণ সম্পাদক সাইশা সুলতানা সাদিয়া সই করা একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ২০২৬-২৭ কার্যকালের জন্য শুভ কর্মকার ও রুশাইদ আহমেদকে মনোনীত করা হয়েছে। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক বরাবর প্রেরণের জন্য নবনিযুক্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নবীন নেতৃত্বকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং তরুণ লেখকদের মধ্যে সংগঠনের কর্মকাণ্ড আরো সক্রিয় হওয়ার প্রত্যাশা দেখা দিয়েছে। নতুন কমিটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের লেখালেখিতে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি তরুণ লেখকদের সৃজনশীলতা উন্নয়ন এবং বিভিন্ন লেখালেখি ও সাহিত্যভিত্তিক কার্যক্রম দৃঢ় করার প্রত্যাশা রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম বেরোবি শাখার সাধারণ সম্পাদক রুশাইদ আহমেদ এই নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম তরুণ শিক্ষার্থীদের লেখালেখি এবং বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার যে সংস্কৃতি দেশের শিক্ষাঙ্গনে তৈরি করেছে, সেটিকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উৎসাহী ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে আমরা চেষ্টা করব। আমি আশা করি, সকলে সম্মিলিতভাবে কাজ করে সংগঠনকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।
সভাপতি শুভ কর্মকার বলেন, তরুণ কলাম লেখক ফোরামের সভাপতি হিসেবে আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, এটি আমার জন্য আনন্দের পাশাপাশি একটি বড় দায়িত্বও। আমি একা নই, সবাইকে নিয়ে ফোরামকে আরও সুন্দর ও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে নিতে চাচ্ছি।
তিনি বলেন, তরুণদের লেখনী, চিন্তা ও সৃজনশীলতাকে আরও এগিয়ে নিতে আমরা একসঙ্গে কাজ করব। আপনাদের সহযোগিতা এবং পরামর্শ সবসময় প্রত্যাশা করি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রংপুর বিভাগে নবজাতকের মৃত্যু হচ্ছে জাতীয় গড়ের ৫০ শতাংশেরও বেশি। একই সঙ্গে এই অঞ্চলে কিশোরী গর্ভধারণ এবং বাল্যবিবাহের হারও উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবার দৃশ্যপট পরিবর্তন করতে ‘জননী’ নামক একটি প্রকল্প মাঠে নেমেছে পাঁচটি মূল ক্ষেত্রকে গুরুত্ব দিয়ে। সোমবার (১৭ আগস্ট) রংপুর নগরের সেন্ট্রাল কনভেনশন হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্পের আওতায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভে (বিডিএইচএস) ২০২২-এর অনুযায়ী, দেশে প্রতি এক হাজার জীবিত জন্মে গড়ে ২০ জন নবজাতকের মৃত্যু হয়, কিন্তু রংপুর বিভাগে এই সংখ্যা ৩০ জন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এখানে মা ও নবজাতকের ঝুঁকি বাড়ানোর কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে দারিদ্র্য, দুর্গম এলাকায় থাকা, চরাঞ্চলের ভৌগোলিক বাধা, সময়মতো মানসম্মত সেবা প্রাপ্তি না হওয়া এবং জরুরি মুহূর্তে উচ্চতর হাসপাতালে রোগী পাঠাতে দেরি হওয়া।
‘জননী’ প্রকল্প এসব সমস্যার মোকাবেলায় পাঁচটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এগুলো হলো—সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে মা ও নবজাতকের জন্য মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করা, প্রসবকালীন জটিলতা মোকাবেলায় জরুরি সেবা উন্নত করা, স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা, চর ও দুর্গম এলাকা থেকে দ্রুত রোগীদের স্থানান্তরের জন্য কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা গঠন করা এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যসেবায় যুক্ত করা। এছাড়া, বাল্যবিবাহ বন্ধ করা এবং সরকারি বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধির ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সেবা তৃণমূলের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ‘জননী বন্ধুরা’ কাজ করে যাচ্ছেন। প্রকল্পের কারিগরি বিশেষজ্ঞ জাহানারা হৃদিতা জানান, স্বাস্থ্যকর্মীদের পক্ষে একা প্রতিটি বাড়িতে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এ কারণে স্থানীয় সচেতন তরুণ-তরুণী ও নারীদের নিয়ে একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে, যারা সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
সংবাদ সম্মেলনের আগে প্রকল্পের বিশেষ অতিথি অভিনেত্রী মাসুমা রহমান নাবিলা রংপুরের একটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, সীমিত ব্যবস্থার মধ্যেও সেখানকার সাজানো সেবা তাকে মুগ্ধ করেছে।
সেখানে জরুরি মুহূর্তে রোগী স্থানান্তরের জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে এবং বিনামূল্যে সেবা পাওয়ায় মানুষ দূর-দূরান্ত থেকেও আসছে।
এই প্রকল্পটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে এবং অর্থায়ন করছে কোরিয়ান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (কোইকা)। এর সাথে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে সেভ দ্য চিলড্রেন, বাস্তবায়ন করছে আরডিআরএস বাংলাদেশ এবং গবেষণার সহযোগী হিসেবে কাজ করছে আইসিডিডিআর,বি। ২০১৩ সালের মার্চে শুরু হওয়া এই প্রকল্পটি ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত রংপুর এবং লালমনিরহাটের নির্বাচিত ৪০টি ইউনিয়নে পরিচালিত হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অবকাঠামো উন্নয়ন ছাড়াও সমন্বিত ও ধারাবাহিক সেবা নিশ্চিত করা গেলে এই অঞ্চলে নবজাতকের অকালমৃত্যু রোধ সম্ভব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ