প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আগুন ও ঘন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ১০ তলাবিশিষ্ট হাসপাতাল থেকে মাত্র দুই দিনের এক নবজাতককে উদ্ধার করে আলোচনার জন্ম দেওয়া সাতক্ষীরা পুলিশ লাইনসে কর্মরত কনস্টেবল মো. সালমানকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
সাহসিকতা ও মানবিকতার এই ঘটনাটি নিয়ে ৫ আগস্ট কালের কণ্ঠের মাল্টিমিডিয়ায় প্রকাশিত প্রতিবেদনটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
এর প্রেক্ষিতে সোমবার (১৭ আগস্ট) কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে নগদ অর্থ এবং সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যদের নগদ অর্থ ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন সাতক্ষীরা জেলার পুলিশ সুপার।
পুরস্কার পাওয়ার পর ফেলার অনুভূতি উল্লেখ করে কনস্টেবল মো. সালমান বলেন, ‘ওই সময় আমি নিজের জীবনের কথা ভাবিনি। শুধু মনে হয়েছিল, ১০ তলায় একটি ছোট শিশু আটকা পড়েছে। যেভাবেই হোক তাকে উদ্ধার করতে হবে।
শিশুটিকে নিরাপদে বের করে আনতে সক্ষম হয়েছিলাম, সেটিই ছিল আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া।’
তিনি বলেন, ‘কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি মানুষের নজর কাড়ে এবং আজ যে সম্মাননা পেয়েছি, তাতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। এই সম্মাননা আমার দায়িত্ব পালনে আরো বেশি সাহস এবং অনুপ্রেরণা দেবে।’
গত ৪ আগস্ট দুপুরে সাতক্ষীরার ব্লিস হাসপাতালের বেজমেন্টে গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে।
মুহূর্তেই আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে ১০ তলা ভবনজুড়ে। আতঙ্কিত রোগী, স্বজন এবং হাসপাতালের কর্মীরা নিরাপদে বের হওয়ার জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন।
এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে খবর আসে যে, হাসপাতালে ১০ তলায় মাত্র দুই দিনের একটি নবজাতক আটকা পড়ে আছে। খবর নিয়ে সাতক্ষীরা পুলিশ লাইনসে কর্মরত কনস্টেবল মো. সালমান নিজের জীবনের কথা না ভেবে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে বেশ কষ্ট করে নবজাতকটিকে বুকে জড়িয়ে নিরাপদে নিচে নিয়ে আসেন।
এরপর নবজাতকটিকে পার্শ্ববর্তী আনোয়ারা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।
আগুনের খবর পেয়ে সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ, পুলিশ লাইনস, ট্রাফিক পুলিশ এবং ডিএসবি সদস্যরা ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন। এই সময় পুলিশ সদস্যরা একের পর এক হাসপাতালে ভর্তি রোগী, তাদের স্বজন এবং হাসপাতালের কর্মীদের নিরাপদে বের করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। পাশাপাশি হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী রক্ষার কাজে তারা অংশ নেন।
তবে ধোঁয়া ও আগুনের মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুই দিনের নবজাতককে উদ্ধার করার ঘটনাটি দ্রুত সবার নজরে আসে। এ ঘটনার ফলে ৫ আগস্ট কালের কণ্ঠের মাল্টিমিডিয়ায় প্রকাশিত প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। কনস্টেবল সালমান প্রশংসায় ভাসতে থাকেন। তার সাহসিকতা ও মানবিকতার ঘটনার বিষয়টি সাতক্ষীরার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সাহসিকতা, মানবিকতা ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুলিশ সদস্যদের সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে নবজাতক উদ্ধার করতে সাহসিকতার পরিচয় দেওয়া কনস্টেবল মো. সালমানকেও সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. আমিনুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শাহীনুর চৌধুরী, সহকারী পুলিশ সুপার (দেবহাটা সার্কেল) মো. বায়েজীদ ইসলাম, পুলিশ হাসপাতাল সাতক্ষীরার ডা. আবু হোসেনসহ উপজেলার বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জ, ডিআইও-১, টিআই (অ্যাডমিন), কোর্ট ইন্সপেক্টর এবং জেলা পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার সদস্যরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন