০৮:৪৬ পি.এম
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির আশার আলো দেখা দিলেও, আবারও নতুন করে অনিশ্চয়তার কালো মেঘ ঘনীভূত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির পথে অগ্রসর হচ্ছিল, তবে সেই পথের শুরুতেই বড় ধাক্কা খেয়েছে। কারণ, সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ সরাসরি এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সেনারা যতদিন লেবাননের ভূমি ত্যাগ করবে না, ততদিন তারা অস্ত্র নামাবে না। এর ফলে নতুন যুদ্ধবিরতির আশা সত্ত্বেও, পুরো অঞ্চল আবারও অনিশ্চয়তার সামনাসামনি দাঁড়িয়ে পড়েছে। এই তথ্যটির প্রকাশ পেয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, লেবানন ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তবে এই শর্ত ছিল যে, হিজবুল্লাহকে হামলা বন্ধ করতে হবে এবং দক্ষিণ লেবানন থেকে নিজেদের যোদ্ধাদের সরিয়ে নিতে হবে। কিন্তু সংগঠনটি এই শর্ত মানতে রাজি হয়নি। কারণ একই সময়ে, ইসরায়েল লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে হামলা শুরু করেছে। তেল আবিব স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না। এটাই সবচেয়ে বড় অচলাবস্থার সৃষ্টি করেছে।
হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেম প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করে এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগকে ‘লজ্জাজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং বলেন, এটি লেবাননের জনগণকে ধ্বংস ও অধীনস্থ করার একটি পরিকল্পনা। তাঁর ভাষায়, ‘যতদিন দখলদারি থাকবে, ততদিন প্রতিরোধও চলবে।’
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
অন্যদিকে, ইরানও এই ইস্যুতে সক্রিয় হয়েছে। তেহরান জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো সমঝোতার অংশ হিসেবে ইসরায়েলি হামলা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। ফলে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের সংঘাত এখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েছে।
হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেম জানান, যুদ্ধবিরতির আওতায় দক্ষিণ লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, কারণ সেখানে ইসরায়েল তথাকথিত একটি ‘বাফার জোন’ তৈরি করেছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি লেবাননের গ্রামগুলোতে হামলা অব্যাহত থাকে এবং মানুষের হত্যাকাণ্ড চলতে থাকে, তাহলে উত্তর ইসরায়েলের শহরগুলোও নিরাপদ থাকবে না।
অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কুদস ফোর্সের একজন শীর্ষ কমান্ডার জানান, যেকোনো সমাধানের ন্যূনতম শর্ত হলো ইসরায়েলকে যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থানে ফিরে যেতে হবে।
এর আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পরই ইরান পাল্টা জবাব দেয়। এরপর ২ মার্চ থেকে হিজবুল্লাহ সরাসরি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে। তারপর থেকে একাধিকবার যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও সীমান্তের সংঘর্ষ থামেনি।
আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন