০৭:২১ পি.এম
ময়মনসিংহের মাসকান্দায় আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস রোডে চাঞ্চল্যকর রাব্বী হত্যা মামলার প্রধান আসামি আবদুল খালেক (২৭) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৪। সোমবার (১৪ আগস্ট) রাতে নগরের রঘুরামপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাব্বি (২৫) নগরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের জেলা পরিষদ হাইস্কুল রোডের মোড়লবাড়ি এলাকার মোবারক হোসেনের ছেলে। তিনি মাসকান্দা এলাকার আকাশ কম্পিউটারে চাকরি করতেন। হত্যাকাণ্ডের পর সন্ধ্যায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাড়িঘরে আগুন দেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে এ তথ্য জানিয়েছেন নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১৪ ময়মনসিংহের কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান। তিনি দেখান যে, হত্যাকাণ্ডের পর র্যাব সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার আট ঘণ্টার মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত আবদুল খালেককে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবদুল খালেক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে রাব্বিকে হত্যা করা হয়েছে।
মো. সামসুজ্জামান জানান, হত্যাকাণ্ডে তিনি একটি বড় দা বা হাঁসুয়া ব্যবহার করেছেন। প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি চারজনের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে এবং তাদের পেছনে আরও ৮ থেকে ১০ জনের একটি গ্রুপ থাকতে পারে। অন্য আসামিদের শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে। ঘটনার আগের দিন দুই পক্ষের মধ্যে একটি সালিস হয়েছিল এবং র্যাবের কাছে তথ্য রয়েছে যে ওই সালিস চাঁদাবাজি-সংক্রান্ত বিরোধের কারণে হয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে এক দিনে এক লাখ গাছের চারা রোপণ, সবুজ ফিরিয়ে আনার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
অপরদিকে, র্যাব জানায়, গতকাল দুপুরে মাসকান্দা এলাকায় আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের সামনে রাব্বির ওপর একদল ব্যক্তি দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা করে। হামলার সময় রাব্বি পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নিয়েছিলেন, কিন্তু হামলাকারীরা সেখানে ঢুকে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। তাকে বাঁচাতে ভাই মুহাম্মদ রিয়াদ এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। রাব্বিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
র্যাব আরও জানায়, ২০১৮ সালে রাব্বির পক্ষের লোকজন খালেকের বাবা ফজলুল হককে মারধর করেন এবং তার একটি হাত বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল বলে খালেক দাবি করেছেন। এই ঘটনার জেরে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল এবং রাব্বির পক্ষের লোকজন এলাকায় ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজে চাঁদা দাবি করতেন বলেও অভিযোগ করেন খালেক। এসব ক্ষোভ থেকেই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে তিনি জানান, তবে খালেকের অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি র্যাব। অন্য কোনো পক্ষের বিরোধ বা সংশ্লিষ্টতা আছে কি না সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনের পর ছবির সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে বিভিন্ন কথা বললে আবদুল খালেক জানায়, নিজের বাবাকে কুপিয়ে আহত করার প্রতিশোধ নিতে রাব্বিকে সে হত্যা করেছে। সাংবাদিকদের উদ্দেশে আবদুল খালেক বলেন, ‘শিক্ষিত মানুষ আমি। আমার কি কথা আছিল এইনো আওয়ার? আপনাগর কাজ যদি আপনারা সঠিক করতাইন, তাইলে আমার এইন আগুন লাগত না, বুঝ্ছইন না। সন্ত্রাসী মারছি, আমার বাপেরে কোপাইছে, আমিও কোপাইছি।’
আবদুল খালেক নিজের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, ‘আমার বাড়িঘর পুড়াইছে, লুটপাট করছে কে? কোনো আইনের লোক তো বাঁচাইতে পারল না। যেইডি নিরীহ, হেইডির ওপরেই জুলুম; সবলগোরে পাইতো না। আমি বাইরইতে পারলে তাদের কপালে শনি আছে, যারা আমার বাড়িঘর পুড়াইছে।’ জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গতকাল রাতে নিহতের বাবা মোবারক হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বুড়িচংয়ে নিখোঁজ আদিল ও জিসানের সন্ধান চায় পরিবার
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, র্যাব একজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন