প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সাপ্তাহিক ছুটির দিন হিসেবে দেশটির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। শুক্রবার সকাল থেকেই জিরো পয়েন্টসংলগ্ন সৈকত এলাকায় পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয়েছে। উত্তাল সাগরের ঢেউ, নির্মল বাতাস এবং মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে আগতরা আনন্দে মেতে উঠেছেন।
পর্যটকদের উপস্থিতিতে হোটেল মোটেল, রেস্তোরাঁ, বিপণিবিতানসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে উত্তাল সাগরে গোসলের জন্য পর্যটকদের সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার সকাল থেকেই কুয়াকাটায় পর্যটকদের আনাগোনা বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। তাঁদের সরব উপস্থিতি ও উচ্ছ্বাসের ফলে পুরো সৈকতজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। কেউ দলবেঁধে উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে জলকেলীতে মেতে আছেন, আবার কেউ পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সৈকতের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
অনেকে সৈকতের বেঞ্চিতে বসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন। আবার কেউ স্মৃতিময় মুহূর্তগুলো ধারণ করার জন্য ছবি ও ভিডিও নির্মাণে ব্যস্ত রয়েছেন। ভেজা বালু দিয়ে নানা ধরনের ভাস্কর্য তৈরিতেও দেখা গেছে কয়েকজনকে। সব মিলিয়ে, উত্তাল ঢেউ, নির্মল বাতাস এবং পর্যটকদের আনন্দ-উল্লাসে ‘সাগরকন্যা’ কুয়াকাটা মুখরিত হয়ে উঠেছে।
এছাড়া, তিন নদীর মোহনা, ঝাউবন, শুঁটকি পল্লী, গঙ্গামতী ও লাল কাঁকড়ার চর, মিশ্রিপাড়া বৌদ্ধ মন্দির এবং সমুদ্রপথের বিভিন্ন দ্বীপ ও বনাঞ্চলেও পর্যটকদের উপস্থিতি বেড়েছে।
পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটক মো. মাসুম বলেন, ‘সাপ্তাহিক ছুটির সুযোগে কুয়াকাটায় এসেছি। সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ, মনোরম আবহাওয়া এবং সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমাদের মুগ্ধ করেছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে দারুণ সময় কাটাচ্ছি। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো থাকায় স্বস্তিতে ঘুরতে পারছি।’
পর্যটক শান্তা বলেন, ‘সমুদ্রের ঢেউয়ের গর্জন এক ভিন্নরকম পরিবেশ তৈরি করেছে। এমন পরিবেশে সময় কাটাতে পেরে সত্যিই ভালো লাগছে।’
পর্যটনকর্মী জনি আলমগীর জানান, ‘সাপ্তাহিক ছুটিতে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। পর্যটকদের এমন প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে কুয়াকাটা আবারও মুখর হয়ে উঠেছে।’
পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী মো. রাসেল শেখ বলেছেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে পর্যটকের সংখ্যা অনেকটুকু কম ছিল। কিন্তু সাপ্তাহিক সরকারি ছুটির দিনে শুক্রবার সকাল থেকে পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে। আগামী দিনগুলোতেও এমন পর্যটক সমাগম অব্যাহত থাকবে বলে আমি আশা করছি।’
কুয়াকাটা টুরিস্ট পুলিশ জোনের ইন্সপেক্টর মো. নাজমুল আহসান জানিয়েছেন, পর্যটকদের নিরাপদ স্থানে অবস্থান করে সমুদ্রে নামার জন্য নিয়মিত মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। পাশাপাশি, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন