শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৩৯ পি.এম
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৪টি ট্রাককে জরিমানা করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল অতিরিক্ত পণ্য বোঝাই করে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণভাবে যান চালানোর। সড়ক পরিবহন আইনের আওতায় ৪টি পরিবহনকে মোট ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটের সময় গোয়ালন্দ উপজেলা ভূমি অফিস সংলগ্ন বিআইডব্লিউটিএ এর ওজন স্কেলে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন গোয়ালন্দ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুনতাসির হাসান খান।
উপজেলা প্রশাসন ও ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা এবং অতিরিক্ত পণ্য পরিবহনের কারণে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া ও ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক রক্ষায় এ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। গভীর রাতে ওজন স্কেলে সন্দেহভাজন পণ্যবাহী ট্রাকগুলোতে পরীক্ষা চালিয়ে নির্ধারিত পণ্যের চেয়ে অতিরিক্ত পণ্য পরিবহনের প্রমাণ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’-এর ৪৯ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ৯২ ধারা অনুযায়ী অভিযুক্ত ৪টি ট্রাক থেকে মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
জরিমানার অর্থ অনাদায়ে চালকদের ৭ থেকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে চালকরা জরিমানার টাকা পরিশোধ করায় তাদের মুক্ত করা হয়।
অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুনতাসির হাসান খান জানান, "অতিরিক্ত পণ্য পরিবহনের ফলে একদিকে যেমন সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ছে। সড়ক নিরাপদ রাখতে এবং সরকারি সম্পদ সুরক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরণের কঠোর নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হোয়াইট হাউস শনিবারের টেনেসি সফরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সিএনএনের ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ট্রাম্প সিএনএনসহ আরও দুটি সংবাদমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন, তবে বৃহস্পতিবার আদালতের আদেশে তাদের প্রবেশাধিকার পুনর্বহাল করা হয়।
সপ্তাহজুড়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ওয়াশিংটন প্রেস কর্পসের মধ্যে চলমান উত্তেজনার সর্বশেষ পরিণতি হিসেবে, শুক্রবার রাতে সিএনএনের এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেন যে, হোয়াইট হাউস সিএনএনকে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে শনিবারের টেনেসি সফরে যেতে বাধা দিয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রশ্ন উঠেছে, টেলিভিশন পুল কি প্রেসিডেন্টের এই সফর কভার বা সম্প্রচার করবে কিনা। টেলিভিশন পুল হলো বিভিন্ন নেটওয়ার্কের একটি পর্যায়ক্রমিক গ্রুপ, যারা প্রেসিডেন্টের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের ভিডিও যৌথভাবে ধারণ করে। ট্রাম্প প্রথমে সিএনএনকে পুলে অংশ নিতে নিষিদ্ধ করার পর, এই সপ্তাহে টেলিভিশন পুল তাদের দায়িত্ব বয়কট করে।
শনিবারের সফরের লজিস্টিক তথ্য বিস্তারিত জানিয়ে শুক্রবার রাতে পাঠানো একটি ইমেইলে, হোয়াইট হাউস মূল টেলিভিশন পুলের কোনো প্রতিনিধির নাম উল্লেখ করেনি। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলে, হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
হোয়াইট হাউসের সংবাদ কভারেজ নিয়ে এই বিশৃঙ্খলা এক সপ্তাহ আগে শুরু হয়, যখন ট্রাম্প এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ঘোষণা করেন যে তিনি সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকোকে নিষিদ্ধ করবেন। শনিবার এসব সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পরে সোমবারের মধ্যে সংবাদমাধ্যমগুলো ফেডারেল আদালতে মামলা করে এই নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ করে।
নিষিদ্ধ হওয়া সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতি সংহতি জানিয়ে অন্যান্য সংবাদ সংস্থাও তাদের কাভারেজের ক্ষেত্রে কিছু পরিবর্তন আনে। সিএনএন হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ থাকার সময় টেলিভিশন পুল তাদের কাজ স্থগিত রাখে। ফলে এই সপ্তাহে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকের বেশিরভাগ ভিডিও ধারণ করা থেকে তারা বিরত থাকে।
বৃহস্পতিবার একজন ফেডারেল বিচারক হোয়াইট হাউসকে অবিলম্বে সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল আর্কাইভসে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের একটি অনুষ্ঠানের ভিডিও ধারণের সুযোগ সিএনএনকে দেয় হোয়াইট হাউস। সিএনএনকে সুযোগ দেওয়ার পরই টেলিভিশন পুল আবার তাদের কাজ শুরু করে।
সংবাদমাধ্যমগুলোর করা মামলায় আবেদন জানানো হয়েছিল যেন ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার আগে তাদের যে স্তরের প্রবেশাধিকার ছিল, তা যেন পুরোপুরি ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বিচারকের আদেশে হোয়াইট হাউস কমপ্লেক্সে প্রবেশের জন্য সাংবাদিকদের 'হার্ড পাস' পুনর্বহাল করার নির্দেশ দেওয়া হলেও, তাঁদের পুলের ঘূর্ণায়মান (রোটেশন) দায়িত্বের বিষয়ে সেখানে স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৃথক ঘটনায় চুরি ও উত্ত্যক্তকরণের অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করে আনসার সদস্যরা। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হয়। তবে, হস্তান্তরের পর কক্ষে আটকে রাখা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে জনি হোসেন (৩০) নামের এক তরুণের মৃত্যু ঘটে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল পাঁচটার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, শুক্রবার ভোররাতে ঢাকা মহানগর আনসার (ডিএমএ) পশ্চিম জোনের শেরেবাংলা নগর থানাধীন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৃথক তিনটি ঘটনা ঘটে। রাত আনুমানিক তিনটার দিকে হাসপাতালের ৬৩২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাদে এসির পাইপ কাটার সময় শাহাদত (৩৫) নামের একজনকে আটক করা হয়। পরে ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে ৪২০ নম্বর ওয়ার্ড থেকে মোবাইল চুরির অভিযোগে মো. জনি হোসেন, জিহান (১২) ও নাদিম (১১) নামের তিনজনকে আটক করা হয়। এছাড়া সকাল ছয়টার দিকে হাসপাতালের তৃতীয় তলায় আইসিইউর সামনে রোগীর স্বজনকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে আনিসুর (৩২) নামের একজনকে আটক করে আনসারের হাতে তুলে দেন স্বজনেরা।
সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে দায়িত্বরত আনসার সদস্য এপিসি মো. শফিকুল ইসলাম, এপিসি মো. আব্দুর রাজ্জাক, আনসার মো. হাবিব খান ও আনসার মো. হাসান আলী আটক পাঁচজনকে সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মো. রেজাউলের কাছে হস্তান্তর করেন। হস্তান্তরের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসির পাইপ কাটার অভিযোগে আটক শাহাদত ও উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে আটক আনিসুরকে ছেড়ে দেয়। তবে অভিযোগকারীর চুরি হওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার না হওয়ায় মোবাইল চুরির অভিযোগে আটক জনিসহ তিনজনকে হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার ও সুপারভাইজার সুমন একটি কক্ষে আটকে রাখেন।
পরবর্তীতে বিকেল আনুমানিক তিনটার দিকে কক্ষে আটকে রাখা অবস্থায় মো. জনি হোসেন হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তাকে দ্রুত হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল পাঁচটার দিকে তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে শেরেবাংলা নগর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে এবং সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। ময়নাতদন্ত ও সার্বিক তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অপরাধ প্রতিরোধ এবং দায়িত্ব পালনকালে আইনানুগ ও পেশাদার আচরণ বজায় রাখতে বাহিনী সর্বদা সচেষ্ট। দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা নিশ্চিতে আনসার সদস্যরা সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। ঘটনাটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ তদন্তের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন অপরাধের জন্য ৩১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ তথ্য আজ ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মিরপুর বিভাগ থেকে ১০৯, তেজগাঁও বিভাগ থেকে ৮৩, ওয়ারী বিভাগ থেকে ৬৫, মতিঝিল বিভাগ থেকে ৪৭, গুলশান বিভাগ থেকে ৪৬, রমনা বিভাগ থেকে ৪৫, লালবাগ বিভাগ থেকে ৩৯, উত্তরা বিভাগ থেকে ২৭, গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) থেকে ৩ এবং সিটিটিসি বিভাগ থেকে ১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এই অভিযানের সময়ে ৬৪৩ পিস ইয়াবা, ৬০ কেজি ৩০০ গ্রাম গাঁজা, ২১ গ্রাম হেরোইন, ৪ হাজার ৭০০ পিস টাপেন্টাডোল ট্যাবলেট, ১১টি মোবাইল ফোন এবং ১টি ট্রাক উদ্ধার করা হয়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে উদ্ধারকৃত এসব আলামত ও মাদকদ্রব্যসহ তাদের গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৮ এলাকায় সংঘটিত একটি দুর্ঘটনায় দুইটি সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে এক রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন এবং আরও আটজন আহত হয়েছেন।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ময়নারঘোনা পুলিশ ক্যাম্পের আওতাধীন ক্যাম্প-১৮-এর এফ/৩০ ব্লকের ত্রিমুখী সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের সময় চলাচলরত দুটি সিএনজির মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে, যার ফলে উভয় যানবাহনে থাকা যাত্রী ও চালকদের মধ্যে মোট নয়জন আহত হন। খবর পেয়ে ময়নারঘোনা পুলিশ ক্যাম্পের একটি বিশেষ টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে ক্যাম্পসংলগ্ন এমএসএফ হাসপাতালে পাঠায়।
হাসপাতালে আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোহাম্মদ হাশিম (৩৪) নামে এক রোহিঙ্গার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তিনি মারা যান।
নিহত মোহাম্মদ হাশিমের এফসিএন নম্বর ১০৩৬৪১। তিনি ক্যাম্প-১৭-এর এইচ/৭৫ ব্লকের বাসিন্দা এবং তার বাবার নাম নুর আলম।
এপিবিএন পুলিশের সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় আহত অন্যদের চিকিৎসা চলছে এবং দুর্ঘটনার বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ