সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:১০ পি.এম
আসন্ন পৌর নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বিএনপি নেতার ব্যানার অপসারণের পর দা দিয়ে কুপিয়ে কাটার একটি ঘটনা স্যোসাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়ে উঠেছে। কারণ, ওই ব্যানারে বিএনপি নেতার ছবি ছাড়াও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের ছবিও ছিল। ভিডিওটি দ্রুতই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
দিনাজপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম এবং জেলা বিএনপি নেতারা পৌর প্রশাসককে এ ধরনের ঘটনার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিদ্বেষমূলক আখ্যা দিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিকেলে বাংলাদেশ কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সদস্য ও দিনাজপুর জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পৌর কার্যালয়ে গিয়ে প্রশাসক হাফিজুল ইসলামের কাছে প্রতিবাদ জানান।
পৌর প্রশাসক আসন্ন পৌর নির্বাচনে মেয়র পদের প্রত্যাশী শাহিন খান জনগণের দোয়া চেয়ে শহরের বিভিন্ন স্থানে ব্যানার লাগিয়েছেন। শহরের অন্যান্য ব্যক্তিরাও একইভাবে পোস্টার এবং ব্যানার স্থাপন করেছেন। শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার লক্ষ্যে পৌর কর্তৃপক্ষ পিলারসহ বিভিন্ন স্থানে লাগানো ব্যানার অপসারণের অভিযান শুরু করেছে।
রবিবার অপসারিত ব্যানারের উপর এক পরিচ্ছন্নতা কর্মীর দা দিয়ে কোপানোর ঘটনাটি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ওই ব্যানারে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের ছবিও ছিল।
বিএনপি নেতা শাহিন খান মন্তব্য করেন, "নোটিশ ও মাইকিং করলেই আমরা ব্যানার নামানোর ব্যবস্থা করতাম। কিন্তু এভাবে ব্যানার অপসারণের পর ব্যানারের উপর দা দিয়ে কোপানোর ঘটনা দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের সামিল।" তিনি আরও জানান, ঘটনাটি স্যোসাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক হাফিজুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি জানান, যত্রতত্র পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন অপসারণের বিষয়টি বিধি অনুযায়ী চলমান কার্যক্রম। তবে অপসারিত ব্যানারে দা দিয়ে কাটার ঘটনায় মাস্টার রোলে কর্মরত সংশ্লিষ্ট পরিচ্ছন্নতা কর্মীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের নেতা শাহিন খানের সাথে আলোচনা করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফেনীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে হানি ট্রাপ চক্রের দুই সক্রিয় সদস্য, গণধর্ষণ মামলার আসামি, সাজাপ্রাপ্ত ডাকাত দলের সদস্য, মাদক কারবারি, মাদকসেবী, চোর ও বিভিন্ন মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি'সহ মোট ১৮ জনকে গ্রেফতার করেছে ফেনী মডেল থানা পুলিশ।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) ফেনী জেলার পুলিশ সুপারের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল)-এর দিকনির্দেশনায় এবং ফেনী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে থানা এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশসূত্রে জানা গেছে দীর্ঘদিন ধরে ফেনী শহরের বিভিন্ন স্থানে এবং বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে একটি চক্র ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লোকজনকে কৌশলে হানি ট্রাপের ফাঁদে ফেলত। পরবর্তীতে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে টাকা-পয়সাসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ফেনী মডেল থানায় মামলা রুজুর পর বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে হানি ট্রাপ চক্রের অন্যতম সক্রিয় সদস্য খালেদা আক্তার রুনা ওরফে ফারাজানা (৪০) এবং হাজেরা আক্তার জেবু (৩৫)-কে গ্রেফতার করা হয়। মহিপাল, চাড়ীপুরসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এছাড়াও অভিযানে গণধর্ষণ মামলার আসামি আব্দুল রাজ্জাক (৬২), সাজাপ্রাপ্ত ডাকাত দলের সদস্য ও সাজা ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি দিলবাহার ঝর্না, অন্যান্য পরোয়ানাভুক্ত আসামি, মাদক কারবারি, মাদকসেবী ও চোরসহ সর্বমোট ১৮ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত আসামিদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। গ্রেফতারের পর তাদের আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ফেনী মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, পুলিশ সুপারের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় মাদক নির্মূলে ফেনী সদর থানা এলাকার বিভিন্ন মাদক স্পটে নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত থাকবে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
আগুনটি সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিটের প্রচেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
এর আগে সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের আটতলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি স্টেশনের ১০টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর অতিরিক্ত ইউনিটগুলো সরিয়ে নেওয়া হলেও চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে রাখা হয়েছে।
ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, হাসপাতালের নতুন আটতলা ভবনের লিফটের কন্ট্রোল রুমে থাকা কন্ট্রোলার মেশিনের সঙ্গে যুক্ত বোর্ডে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অতিরিক্ত উত্তাপের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি আরও বলেন, কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগার ফলে ভবনের বিভিন্ন তলায় ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। যদিও আগুনের পরিমাণ বড় ছিল না, তবে ধোঁয়ার কারণে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
হাসপাতালের উপপরিচালক জাকিউল ইসলাম জানান, নতুন ভবনের ১১ নম্বর লিফটের বাইরের প্লাস্টিকের কাভারিংয়ের নিচের অংশ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন কাভারিং বেয়ে ওপরের দিকে উঠতে থাকে। ওই সময় লিফটটি চালু ছিল না, তবে পাশের অন্যান্য লিফট চালু ছিল।
আগুন ও ধোঁয়া দেখে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে থাকেন। এ সময় দু-একজন আহত হয়ে থাকতে পারেন বলে জানান তিনি। তবে সন্ধ্যা সোয়া ৭টা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে হাসপাতালের কোনো ওয়ার্ডের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। আগুনের প্রকৃত কারণ এবং বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীর তালাইমারী এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দি মানুষের মধ্যে খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছেন রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তালাইমারী এলাকায় এ ত্রাণ বিতরণ করা হয়। এ সময় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এক শতাধিক পরিবারের মধ্যে খাবার ও বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, তালাইমারী এলাকায় বন্যার পানি বেড়ে যাওয়ায় বেশ কিছু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অনেকের ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে দেখা দিয়েছে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকট।
ত্রাণ বিতরণকালে আবুল কালাম আজাদ সুইট ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দুর্ভোগের খোঁজখবর নেন। সংকটের সময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় মহানগর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা বন্যাকবলিত মানুষের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি ত্রাণ বিতরণে সহযোগিতা করেন।
ত্রাণ বিতরণকালে আবুল কালাম আজাদ সুইট খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে খালেদা আক্তার (৭০) এবং মনজুরুল আলম টিটু (৩৫) নামে ফুফু-ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে।
এটি ঘটেছে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার দড়ানীপাড়া গ্রামে।
নিহত খালেদা আক্তার ওই গ্রামের একজন বাসিন্দা। নিহত টিটু তার ভাইয়ের ছেলে। জানা গেছে, পারিবারিক জমি নিয়ে খালেদা আক্তার ও তার ভাই বাচ্চু মিয়ার সঙ্গে তাদের আরেক ভাই আবু মিয়ার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় জমি নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে আবু মিয়া দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে খালেদা আক্তার ও টিটুকে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক নাইমা হক রিফাত বলেন, "সন্ধ্যার পর স্থানীয়রা দুজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। তাদের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।"
দাউদকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ঘটনাস্থল পার্শ্ববর্তী মুরাদনগর উপজেলায় হওয়ায় মুরাদনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আবু মিয়া পলাতক রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ