নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
১০:৩৩ এম
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী পৌরসভার বল্লভপুর এলাকায় একটি ধানক্ষেত থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির বিচ্ছিন্ন পা উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে এক কৃষক ধানক্ষেতে কাজ করতে গেলে জমির মধ্যে একটি মানুষের বিচ্ছিন্ন পা পড়ে থাকতে দেখতে পান। বিষয়টি আশপাশের লোকজনকে জানালে দ্রুত ঘটনাস্থলে লোকজন জড়ো হন। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে নাগেশ্বরী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিচ্ছিন্ন পাটি উদ্ধার করে।
পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে। তবে উদ্ধার হওয়া পাটির সঙ্গে কোনো ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করার মতো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলের আশপাশে তল্লাশি চালিয়েও মরদেহের অন্য কোনো অংশ বা সম্পূর্ণ দেহের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ এনামুল হক বলেন, লাশের অন্য কোনো অংশ বা বডি পাওয়া যায়নি। কেউ হয়তো অন্য কোনো জায়গা থেকে বিচ্ছিন্ন পাটি এনে সেখানে ফেলে দিয়ে যেতে পারে। এসব বিষয়ে সঠিক তদন্ত চলছে।
পুলিশের ধারণা, ঘটনাটি স্বাভাবিক কোনো দুর্ঘটনা, অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা কিংবা অন্য কোনো কারণে ঘটেছে কি না তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে। উদ্ধার হওয়া বিচ্ছিন্ন পাটিটি কার এবং এটি কীভাবে ওই ধানক্ষেতে এল, তা জানতে আশপাশের এলাকায় তথ্য সংগ্রহ ও তদন্ত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
এদিকে ধানক্ষেত থেকে মানুষের বিচ্ছিন্ন অঙ্গ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও কৌতূহল দেখা দিয়েছে। ঘটনাটির প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং বিচ্ছিন্ন পাটির পরিচয় শনাক্তে দ্রুত তদন্ত শেষ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া বিচ্ছিন্ন পাটির পরিচয় শনাক্ত এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ক্রিকেট কখনোই মারামারির খেলা নয়, এই সত্যটি যেন ভুলে গিয়েছিলেন ভারতের তরুণ ওপেনার যশস্বী জয়সওয়াল এবং শ্রীলঙ্কার পেসার আসিথা ফার্নান্দো। কলম্বোয় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনে মাঠের ভেতরে দুই তরুণের মধ্যে ঘটে গেল একটি উগ্র হাতাহাতি ও বাগবিতণ্ডা। অখেলোয়াড়সুলভ এই ঘটনার জন্য দুজনকেই শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে, এবং সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটারদের সমালোচনার শিকার হয়েছেন তারা তাদের এই ছেলেমানুষি আচরণের জন্য।
ঘটনাটি শুরু হয় যখন ফার্নান্দোর ওভারে জয়সওয়াল আউট হন। ড্রেসিংরুমের দিকে হাঁটতে থাকা জয়সওয়ালকে লঙ্কান পেসার প্রথাগত উসকানিমূলক ‘সেন্ড-অফ’ দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পেছনে ফিরে সরাসরি ফার্নান্দোর মুখোমুখি হন ভারতীয় ওপেনার। কথোপকথনের এক পর্যায়ে তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ হারান এবং একে অপরের দিকে তেড়ে যান, শেষ পর্যন্ত তাদের মাথা একে অপরের মাথায় গিয়ে ঠেকে (হেডবাট)! পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই মাঠের অন্যান্য খেলোয়াড়রা এসে তাদের আলাদা করেন।
মাঠে এই নজিরবিহীন দৃশ্য দেখে ভারতের টেস্ট দলের অভিজ্ঞ সাবেক ব্যাটার চেতেশ্বর পূজারা অত্যন্ত অসন্তুষ্ট হয়েছেন। সোনি স্পোর্টস নেটওয়ার্কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, ‘এটা একদমই ভালো দৃশ্য নয়। একজন খেলোয়াড় হিসেবে নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা শেখা উচিত। মাঠে রাগ হওয়া স্বাভাবিক, কথাবার্তা কাটাকাটি পর্যন্ত মেনে নেওয়া যায়।
কিন্তু যখনই একে অপরের শরীরে আঘাত করার পরিস্থিতি তৈরি হয় বা গায়ে গড়ায়, সেটা ক্রিকেট মাঠে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
মাঠের এই অনভিপ্রেত ঘটনার জন্য দুজনকেই মূল্য দিতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) জয়সওয়াল এবং ফার্নান্দো—উভয়কেই তাদের ম্যাচ ফির ২৫ শতাংশ জরিমানা করেছে। পাশাপাশি, দুই ক্রিকেটারের নামের পাশে একটি করে ‘ডিমেরিট পয়েন্ট’ যুক্ত করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিগত কয়েক দিন ধরে সিলেটে বেড়েছে খুন খরাপি। বিগত কয়েক দিনের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদে দেখা গেছে সিলেটে গত ২৭ দিনে পাঁচজন খুন হয়েছেন। এর মধ্যে একই ঘটনায় খুন হয়েছেন তিন জন। সর্বশেষ গত রোববার (২৩ আগষ্ট ২০২৬ইং) রাতে নগরের ইসলামাবাদে নিজ বাড়ির কাছে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে ব্যবসায়ী শাহাবুদ্দিনকে।
গত ২৭ জুলাই থেকে ২৩ আগস্টের মধ্যে পাঁচটি খুনের ঘটনায় নগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে মতবিনিময় করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি সিলেট মহানগরেরও সংসদ সদস্য।
পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ের ওই সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘সিলেটের আইনশৃঙ্খলা কেমন আছে, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আমরা কেমন দেখতে চাই। প্রথম হলো, সিলেটে আমরা কোনো মাদকের আনাগোনা দেখতে চাই না। দ্বিতীয়ত, এখানে আমরা কোনো অনলাইন জুয়া দেখতে চাই না। কোনো কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা দেখতে চাই না।
গত ২৭ জুলাই রাতে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে নগরের কাজিরবাজার সেতুর ওপর ছুরিকাঘাতে নিহত হয় কিশোর রিফাত আহমদ। এরপর ১২ আগস্ট নগরের রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার একটি বাসায় ব্যবসায়ী আবদুস সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনা খুন হন। আবদুস সাত্তার সিলেট চেম্বারের সাবেক পরিচালক ছিলেন।
সর্বশেষ গত রোববার (২৩ আগষ্ট ২০২৬ইং) রাত ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে নগরের ইসলামাবাদ এলাকায় শাহাবুদ্দিন নামের এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। শাহাবুদ্দিন বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই এলাকার বিজয় বাড়ির বাসিন্দা। ২০২০ সালের দিকে তিনি পরিবার নিয়ে শাহপরান ইসলামাবাদ এলাকায় বসবাস শুরু করেন। শাহপরানের (রহ.) মাজারের প্রধান ফটকের পাশে তাঁর একটি দোকান রয়েছে।
নিহতের স্বজনেরা জানান, রোববার (২৩ আগষ্ট ২০২৬ইং) রাতে দোকান থেকে হেঁটে বাড়ির দিকে ফির ছিলেন শাহাবুদ্দিন। বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে যায়। তাঁর ঘাড় ও গলায় একাধিক কোপের চিহ্ন ছিল।
নিহতের ছোট ছেলে রেদওয়ান আহমদ বলেন, রাতে স্থানীয় এক ব্যক্তি তাঁকে জানান, তাঁর বাবাকে কেউ আটকে রেখেছে। পরে ঘটনাস্থলের দিকে গিয়ে তিনি বাবাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
শাহাবুদ্দিনের সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল না বলে জানান তাঁর ভাতিজা আলামিন জুয়েল। তিনি বলেন, তিনি বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরের দোকানে হেঁটে যাতায়াত করতেন। ঘটনাটি ছিনতাইয়ের জন্য ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি। কারণ, শাহাবুদ্দিনের সঙ্গে থাকা আইফোন ও প্রায় ১০ হাজার টাকা অক্ষত ছিল।
নগরের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত টহল, মোবাইল টিম পরিচালনা, অপরাধীদের সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহসহ বিভিন্ন তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলে জানান, সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মনজুরুল আলম। তিনি বলেন, ‘কারও সঙ্গে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, ব্যবসায়িক বা জমিসংক্রান্ত কোনো বিরোধ থাকলে নিজেরা ঝামেলায় না জড়িয়ে আইনের আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
আলোচিত তিন খুন : রায়নগরে তিন খুনের ঘটনায় বাবুল মিয়া নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে,চুরির উদ্দেশ্যে ওই বাসায় ঢুকে প্রথমে গৃহপরিচারিকাকে দেখে ফেলায় তাঁকে হত্যা করা হয়। পরে একে একে দম্পতিকেও হত্যা করা হয় বলে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে উঠে এসেছে।
কাজীরবাজার সেতুতে ছুরিকাঘাতে রিফাত আহমদ খুনের ঘটনার ২৫ দিন পর ২১ আগস্ট মামলার অভিযুক্ত জুয়েল আহমদ নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) সিলেটের সভাপতি সৈয়দা শিরীন আক্তার বলেন, সিলেটে অল্প সময়ের ব্যবধানে পাঁচটি হত্যাকান্ডের ঘটনায় জনমনে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি হয়েছে। সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় খুনের ঘটনা বাড়ছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ক্যামেরুনিয়ান তারকা মিডফিল্ডার কার্লোস চালবাকে ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিয়ন থেকে নিশ্চিত করেছে। মঙ্গলবার, ২২ বছর বয়সী এই উদীয়মান তারকাকে পাঁচ বছরের চুক্তিতে দলে নেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে ক্লাবটি, যা অবস্থিত ওল্ড ট্রাফোর্ডে।
ক্রীড়াভিত্তিক মাধ্যম ইএসপিএনের তথ্য অনুযায়ী, ইউনাইটেডকে এই চুক্তির জন্য ৬৫ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করতে হচ্ছে। এছাড়া, পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে আরও ৫ মিলিয়ন পাউন্ড বোনাস যুক্ত হতে পারে। নতুন এই চুক্তিতে এক বছর বাড়ানোর শর্তও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সব মিলিয়ে, এই চুক্তির মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ১৭২ কোটি টাকা।
ওল্ড ট্রাফোর্ডে চালবার আগমন অলরেডদের নতুনভাবে সাজানো মাঝমাঠকে আরও শক্তিশালী করবে। ইতিমধ্যে, আন্দ্রে সান্তোস ও ইউরি টিলেমানসের মতো নতুন মুখ সেখানে যোগ দিয়েছেন। লিলে থেকে ব্রাইটনে আসার পর গত তিন বছরে ২২ বছর বয়সী এই ক্যামেরুন আন্তর্জাতিক তারকা প্রিমিয়ার লিগে ৯২টি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
চালবা রেড ডেভিলদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেন, ‘স্বপ্নের ক্লাবে যোগ দেওয়া এক দারুণ অনুভূতি।
ওল্ড ট্রাফোর্ডে খেলা সব সময়ই বিশেষ কিছু, তবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে মাঠে নামা আমার জন্য হবে এক পরম সম্মানের। আমি মাইকেল ক্যারিকের সঙ্গে কাজ করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। খেলায় তার অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান আমাকে শীর্ষ স্তরে পৌঁছাতে সাহায্য করবে।’
এর আগে, ব্রাইটন চালবার জন্য ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি দাবি করেছিল, যার ফলে গত গ্রীষ্মে ইউনাইটেড পিছিয়ে এসেছিল। ক্লাবটির সিইও ওমর বেরাদা এবং ফুটবল ডিরেক্টর জেসন উইলকক্স অতিরিক্ত ট্রান্সফার ফির কারণে আলোচনা থেকে সরে দাঁড়ান।
তবে এবার সুবিধাজনক দামে তাকে দলে আনতে সফল হলো ক্লাবটি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের চার সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব কোতোয়ালি থানা থেকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) মামলার নতুন তদন্তকারী কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিন্নাত আলী সাংবাদিকদের কাছে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
নতুন তদন্ত কর্মকর্তা জিন্নাত আলী বলেন, "প্রয়োজনে দেশজুড়ে চলবে আলামত পরীক্ষা ও তদন্ত।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, চাঞ্চল্যকর এই চার খুনের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে যা কিছু করা প্রয়োজন, তা করা হবে। তিনি জানান, "প্রয়োজনে আলামত পরীক্ষা ও তদন্তের স্বার্থে বাংলাদেশের যেখানে যেখানে যাওয়া দরকার, আমরা সেখানে যাব।"
তিনি আরও জানান, মামলার তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করার প্রক্রিয়া চলছে এবং বুধবার (২৬ আগস্ট) সাংবাদিকদের জন্য একটি ভালো খবর আসতে পারে।
মহানগর পুলিশের সিদ্ধান্তের বিষয়ে ওসি জিন্নাত আলী বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রপক্ষ মনে করেছেন, তাঁর দায়িত্ব দিলে তদন্ত আরও সুসংহত হবে। তিনি জানান, "দায়িত্ব পাওয়ার পরই প্রথম তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।" ঘটনার প্রথম দিন থেকেই তিনি ডিবির সদস্য হিসেবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন, তাই মামলার প্রাথমিক সূত্রগুলো তাঁর জানা রয়েছে।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে স্থানীয় লোকজন, গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামি সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধর পরিবারের সদস্য, সাক্ষী ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কথা বলা হয়েছে। সাধারণ মানুষের বিচার চাওয়ার আকুলতার বিষয়টি মাথায় রেখেই দ্রুততম সময়ে আদালতে সুষ্ঠু তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
গ্রেপ্তার দুই আসামির ১৬৪ ধারার জবানবন্দি প্রসঙ্গে নতুন আইও জানান, সাধারণত আদালতে অভিযুক্তরা নিজেদের বাঁচাতে অন্যদের ফাঁসানোর চেষ্টা করেন। তবে এই মামলায় তারা দুজনই নিরপেক্ষভাবে অপরাধে যুক্ত থাকার বিষয়ে জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশ যা প্রত্যাশা করেছিল, তার চেয়েও স্পষ্ট জবানবন্দি তারা দিয়েছেন।
তবে দুই আসামির দেওয়া বক্তব্যের বাইরেও চার হত্যাকাণ্ডে অন্য কোনো মাস্টারমাইন্ড বা সহযোগী জড়িত রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেন ডিবির এই কর্মকর্তা। তিনি সকালে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তদন্তের দিকনির্দেশনা গ্রহণ করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ