০৬:০০ পি.এম
ফিফায় জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কোনো ভবিষ্যৎ নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইউরোপের পেশাদার ফুটবল লিগগুলোর সংগঠন ইউরোপিয়ান লিগস-এর প্রধান ক্লডিয়াস শেফার। তিনি বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির সংস্কার এবং প্রেসিডেন্টের দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
বুধবার ‘দ্য অ্যাথলেটিক’-এ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে শেফার জানান, ৫৩টি পেশাদার পুরুষ ও নারী ফুটবল লিগের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ‘ইউরোপিয়ান লিগস’ ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার টিকে থাকার যোগ্যতা নিয়ে আমরা প্রশ্ন তুলছি। সুইজারল্যান্ডে থাকায় আমরা ফিফাকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছি। আমাদের মনে হয়েছে, বছরের পর বছর ধরে সেখানে প্রেসিডেন্টের প্রভাব কেবল বেড়েই চলেছে।
ইউরোপিয়ান লিগস-এর প্রধান বলেন, যাদের ওপর প্রভাব পড়বে, এমন সব অংশীজন বা স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে অর্থপূর্ণ কোনো আলোচনা ছাড়াই বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। বিশ্বকাপ স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর বিরোধীতার মুখে রয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তার পদত্যাগের দাবিতে উয়েফা, এশিয়ার এএফসি এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের কনকাকাফ তার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচনে জনগণ অপপ্রচারের জবাব দিয়েছে: ফরহাদ হোসেন
ফিফা প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়েও খেলাটির আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে আলোচনা হয়েছে। ডিসেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফিফার প্রথম ‘শান্তি পুরস্কার’ প্রদান এবং তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমেরিকান ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
শেফার বলেন, ফিফা সুইস আইনের অধীনে গঠিত একটি সংগঠন এবং এই সংগঠনের নিজস্ব নিয়মকানুন রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ও বোর্ড সদস্যদের অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হয়। এটি একটি আইনি বিষয়।কাউন্সিলকে না জানিয়েই যদি এমন কোনো সিদ্ধান্ত (যেমন শান্তি পুরস্কার প্রদান) নেওয়া হয়, তবে আমার দৃষ্টিতে তা আইন লঙ্ঘন। এছাড়া বিশ্বকাপের সময়কার সেই ‘রেড কার্ড’ বা বহিষ্কারাদেশের বিষয়টি তো আমরা সবাই জানি।
তিনি আরও বলেন, এটি ছিল এক বড় কেলেঙ্কারি। খেলাধুলার কোনো বিষয়ে এ ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কথা আমার জানা নেই। এ ধরনের কর্মকাণ্ড খেলার স্বচ্ছতা ও সততাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। আর ঠিক এ কারণেই ফিফায় ইনফান্তিনোর কোনো ভবিষ্যৎ নেই। তা হতে পারে না।
ইনফান্তিনো আগামী বছর চতুর্থ মেয়াদে পুনর্নির্বাচনের জন্য লড়বেন এবং সম্ভবত তাকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হবে। তবে শেফার বলেছেন, অন্য কাউকে এই পদে বসানোর চেয়ে ফিফা সভাপতির ভূমিকার নতুন করে সংজ্ঞায়িত করাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: এশিয়া কাপের সাফল্য নিয়ে দেশে ফিরল আর্চারি দল, চোখ বিশ্বমঞ্চে
তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছে এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ এবং অন্য একজন সভাপতি থাকলেই কেবল তা সম্ভব হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন