১০:৫০ পি.এম
‘সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জে ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক সম্প্রীতি জোরদারের লক্ষ্যে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সুনামগঞ্জ সদর পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি)-এর উদ্যোগে এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের এমআইপিএস (গওচঝ) প্রকল্পের সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
সুনামগঞ্জ সদর পিএফজির আন্তঃধর্মীয় সাব-কমিটির আহ্বায়ক লেখক ও কলামিস্ট সুখেন্দু সেন হারুর সভাপতিত্বে এবং পিএফজি সমন্বয়কারী ফজলুল করিম সাইদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সমর কুমার পাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমান খান। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন হাফেজ লোকমান আহমেদ। গীতা পাঠ করেন কৃষ্ণ গোপাল গোস্বামী, বাইবেল পাঠ করেন ডেনিস চক্রবর্তী এবং ত্রিপিটক পাঠ করেন বিটু বড়ুয়া। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দি হাঙ্গার প্রজেক্টের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী নাজমুল হুদা মিনা। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন আন্তঃধর্মীয় সাব-কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা ফয়জুন্নুর ফয়েজ।
সংলাপে জানানো হয়, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের মাল্টি-স্টেকহোল্ডার ইনিশিয়েটিভ ফর পিস অ্যান্ড স্ট্যাবিলিটি (গওচঝ) প্রকল্পের আওতায় গঠিত পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি) স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক সহিংসতা প্রতিরোধ, সংলাপের সংস্কৃতি বিকাশ এবং পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে কাজ করছে। বক্তারা বলেন, গুজব, ঘৃণামূলক প্রচারণা ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ, তরুণদের মধ্যে সহনশীলতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশ নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: চুয়েটের শিক্ষা কার্যক্রম ৩৬ দিন পর আংশিক শুরু, আন্দোলন অব্যাহত
তারা আরও বলেন, সহিংসতা শুধু সামাজিক অস্থিরতাই নয়, এর বিশেষ নেতিবাচক প্রভাব পড়বে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা ও পর্যটনসহ জাতীয় অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে। তাই টেকসই উন্নয়নের জন্য শান্তি, সহিষ্ণুতা ও সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সমর কুমার পাল বলেন, পিএফজির এটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এ ধরনের আয়োজন শুধু সভাকক্ষে সীমাবদ্ধ না রেখে যদি উন্মুক্ত স্থানে আয়োজন করা হয়, তাহলে আরও বেশি মানুষের কাছে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। তিনি বলেন, “আমি হাসাউড়া গ্রামে পিএফজির একটি সম্প্রীতি সমাবেশে অংশ নিয়েছিলাম। আমার মনে হয়, এ ধরনের কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।”
এ সময় বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান, দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর-এর সম্পাদক পঙ্কজ দে, দৈনিক প্রথম আলো-এর স্টাফ রিপোর্টার অ্যাডভোকেট খলিল রহমান, পিস অ্যাম্বাসেডর সিরাজুল ইসলাম পলাশ, সালেহীন চৌধুরী শুভ, বিভু চক্রবর্তী সহ আরও অনেক প্রতিনিধি।
আরও পড়ুন: দাবি-দাওয়ার টানাপোড়েনে সাজেক, ভুগছে সাধারণ মানুষ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন