প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার গোবিন্দপুরে যমুনা নদীর তীর প্রকল্পের ব্লকে ধ্বস দেখা দিয়েছে। নদীর পানির চাপে ১০ নম্বর সাইডে চোখের সামনে নদীতীরের ব্লক ধ্বসে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তীর সংরক্ষণ ও ভাঙন রোধে প্রায় শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সিসি ব্লক এবং জিও ব্যাগ ডাম্পিং বাঁধ ভেসে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে নদী তীরের অন্তত ২৫০ পরিবারের মাঝে ভাঙন আতঙ্কে উদ্যোগ উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। ভাঙনপ্রবণ এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সিডিউল বহির্ভূতভাবে দায়সাড়া কাজের কারণে প্রকল্পের এই দশা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে নেওয়ার আগেই ব্লকে এমন ধ্বসের ঘটনায় নদীর তীরের স্থানীয় শত শত পরিবারের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানিয়েছেন, নদী ভাঙন রোধে কোটি কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্পে শুরু থেকেই অনিয়ম চলছে। ব্লক স্লোপিং (ঢালু করা) করার ক্ষেত্রে যেটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও সিডিউল ছিল, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা সম্পূর্ণরূপে লঙ্ঘন করে অতি দ্রুত কাজ শেষ করে ফেলেছে। বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই বাঁধের এই নাজুক অবস্থা দেখে যমুনা পাড়ের মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কাজ শেষ হতে না হতেই বাঁধ ধ্বসে যাওয়ার কারণে হলদিয়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুর ও এর আশপাশের এলাকার শত শত পরিবার নতুন করে নদী ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় আইয়ুব আলী ও মজিবর রহমান জানাচ্ছেন, "সরকার আমাদের নদী ভাঙন থেকে বাঁচাতে কোটি কোটি টাকা খরচ করছে, আর ঠিকাদারের গাফিলাফির কারণে সামান্য পানিতে সব ধ্বসে গেল। আমরা এখন ঘরবাড়ি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছি।"
পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কাজ বুঝে নেওয়ার আগেই এই ধসের ঘটনা ঘটায় প্রকল্পের স্থায়িত্ব ও স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। তাৎক্ষণিকভাবে ভাঙন কবলিত এলাকায় পাউবো বা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নদী পাড়ের মানুষের দাবি, অনতিবিলম্বে এই অনিয়মের তদন্ত করে দায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে এবং যমুনার গ্রাস থেকে গোবিন্দপুর এলাকাকে রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে টেকসই সংস্কার কাজ শুরু করতে হবে। এ ব্যাপারে কথা হলে সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল কবীর বলেছেন, বিষয়টি অবগত হওয়ার পর গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলামের মুঠোফোনে কল দিলেও তিনি ফোন ধরেননি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন