০৯:৩০ পি.এম
ইসলামী ব্যাংকের ৮০ হাজার কোটি টাকার ঋণ ও শেয়ার জালিয়াতির সাথে সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু এবং তার কোম্পানি জেএমসি বিল্ডার্সসহ এস আলমের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো জড়িত ছিলেন।
এই বিষয়ে বাংলাদেশ ফাইন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) হাইকোর্টে প্রতিবেদন জমা করেছে।
ইসলামী ব্যাংকের করা রিটের পর হাইকোর্টের বিচারপতি আশরাফুল কামাল এবং বিচারপতি ওয়ালিউল ইসলাম ২০২৫ সালের ১১ মার্চ তিনটি নির্দেশনা এবং রুল জারি করেন।
আরও পড়ুন: সিজেপির দুই মুখপাত্র এক সপ্তাহ পর মুক্তি
এই তিনটি নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে - ৫ আগস্টের পর ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড ভেঙে দেওয়ার পূর্বের বোর্ড ডিরেক্টরগণ ঋণ জালিয়াতিতে জড়িত থাকায় আদালতের অনুমতি ছাড়া বিদেশ যেতে পারবেন না।
তাদের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশও দেওয়া হয় এবং কোম্পানি জেএমসি বিল্ডার্সের কোনো শেয়ার হস্তান্তর করতে পারবে না।
এছাড়াও, বাংলাদেশ ফাইন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বিএফআইইউকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে, ২০২৫ সালের ২৯ অক্টোবর বিএফআইইউ প্রতিবেদন দাখিল করে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে এ বিষয়ে কোনো শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি।
এ মামলায় ইসলামী ব্যাংকের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার মো. আব্দুল কাউয়ুম, এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার শামীম খালেদ আহমেদ।
আরও পড়ুন: ‘ভাই ফটো তুললেন না, বিজিবি দেখলে বিপদ’
এ Islamik Economic Research Bureau-এর পক্ষে ছিলেন জ্যৈষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির।
আইনজীবী শিশির মনির এই প্রতিবেদককে বলেন, ইসলামী ব্যাংক থেকে জেএমসি বিল্ডার্সের ২৪টি কোম্পানির নাম দিয়ে মোট ৮১ দশমিক ৯২ শেয়ার হস্তান্তর করা হয়েছে।
২০১৭ সাল থেকে ২০২৩ সালে রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে পর্যন্ত সাহাবুদ্দিন চুপ্পু এসব শেয়ার জালিয়াতিতে জড়িত ছিলেন।
কারণ, তিনি তখন জেএমসি বিল্ডার্সের প্রতিনিধি ডিরেক্টর হিসেবে ইসলামী ব্যাংকের দায়িত্ব পালন করে এসব শেয়ার অনুমোদন করেন।
আরও পড়ুন: সাইবার সিকিউরিটি আইনসহ বিভিন্ন আইন সংশোধনের উদ্যোগ: তথ্যমন্ত্রী
শিশির মনির বলেন, আমাদের রিটের দাবি এস আলমের কর্তৃক দখলকৃত শেয়ার তার উদ্যোক্তা শেয়ার হোল্ডার বা প্রকৃত মালিকদের নিকট ফিরিয়ে দেওয়া।
এছাড়া, ঋণ জালিয়াতি ও শেয়ার জালিয়াতির অপরাধে অভিযুক্ত যেই হোক তাকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
তিনি বলেন, একটি প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ১০ ভাগ শেয়ার নিতে পারে। কিন্তু এস আলম এবং তাদের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক থেকে ৮১ দশমিক ৯২ ভাগ শেয়ার জালিয়াতির মাধ্যমে হস্তান্তর করে সর্বমোট ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ তুলেছে।
তন্মধ্যে, শুধুমাত্র জেএমসি বিল্ডার্স ২৪টি শেয়ার জালিয়াতির মাধ্যমে ৮০ হাজার কোটি টাকা উঠিয়ে নিয়েছে।
আরও পড়ুন: আসামে মুসলিমদের ১১০০ ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার নিন্দা নাহিদ ইসলামের
আগামী বুধবার রুল প্রতিবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। বিচারপতি মুজিবুর রহমান মিয়া এবং রেজাউল করিমের বেঞ্চে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন