০৭:১০ পি.এম
লেবাননে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে এবং ইসরাইলের সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা জন্য হিজবুল্লাহর সঙ্গে খুব ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন। বৈরুতের শহরতলিতে ইসরাইলি বাহিনীর নতুন করে জোরপূর্বক উচ্ছেদ আদেশের পর সোমবার (১ জুন) তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান।
ট্রাম্প তার নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি পোস্টে জানিয়েছেন, উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদের মাধ্যমে তিনি হিজবুল্লাহর সঙ্গে খুব ভালো ফোনালাপ করেছেন। উভয় পক্ষ সব ধরনের গোলাগুলি বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। চুক্তি অনুযায়ী, ইসরাইল হিজবুল্লাহর ওপর আর কোনো হামলা চালাবে না এবং হিজবুল্লাহও ইসরাইলে আক্রমণ করবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও একটি ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বৈরুতে কোনো মার্কিন সেনা পাঠানো হবে না এবং যেসব সেনা ইতোমধ্যে সেখানে যাওয়ার পথ ছিল, তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এই আলোচনার বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য হোয়াইট হাউজের প্রেস অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের বাইরে কোনও অতিরিক্ত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: সবজি কিনতে গেলে মনে হয় মাংস কিনছি, গরু-ইলিশের কথা মানুষ ভুলে যাবে: আসিফ মাহমুদ
এদিকে ট্রাম্পের এই বার্তার পর লেবাননের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য হাসান ফাদলাল্লাহ বলেছেন, হিজবুল্লাহ সমগ্র লেবানন জুড়ে একটি ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি’ সমর্থন করে, যা লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের পথ সুগম করবে।
তবে, বৈরুতে হামলা বন্ধের বিনিময়ে উত্তর ইসরাইলে হিজবুল্লাহর আক্রমণ বন্ধ করার প্রস্তাব তারা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। লেবাননের প্রেসিডেন্সিও নিশ্চিত করেছে যে হিজবুল্লাহ সমগ্র লেবাননে ‘পারস্পরিক হামলা বন্ধের’ একটি মার্কিন প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও লেবাননের ইতিবাচক সুরের বিপরীতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আলাপের সময় তিনি জানিয়ে দিয়েছেন যে, হিজবুল্লাহ যদি ইসরাইলের শহর ও নাগরিকদের ওপর হামলা বন্ধ না করে, তবে ইসরাইলি বাহিনী বৈরুতের সন্ত্রাসী আস্তানায় হামলা চালিয়ে যাবে।
তিনি আরও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইসরাইলের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি এবং দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) তাদের পূর্বপরিকল্পিত অভিযান অব্যাহত রাখবে। ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরাইল কাৎজও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হিজবুল্লাহর হামলা চলতে থাকলে বৈরুতে শান্তি থাকবে না। এই হুমকির ফলে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দারা নতুন করে বাড়িঘর ছেড়ে পালাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: এনসিপির নতুন কমিটিতে ৩ নেতার পদাবনতি, কারণ অজানা
অন্যদিকে, ইরান চলমান মার্কিন আলোচনা থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে বলে গুঞ্জন উঠলেও, ডোনাল্ড ট্রাম্প তা নাকচ করেছেন। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেবাননে ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান হামলার কারণে ইরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত করেছে।
ইরান মূলত গাজা ও লেবাননে ইসরাইলের সামরিক অভিযানের অবসান চায় এবং দাবি আদায় না হলে হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তবে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন যে ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সঙ্গে খুব দ্রুত গতিতে আলোচনা চলমান রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংঘাতের নিরসনে পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। গত সপ্তাহে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের নীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি এলব্রিজ কোলবি ইসরাইল ও লেবাননের সামরিক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
এছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেনের স্থলাভিষিক্ত হওয়া বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ওয়াশিংটনে ইসরাইল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতদের নিয়ে সরাসরি বৈঠক করেছেন, যা গত চার দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের মুখোমুখি আলোচনা। হিজবুল্লাহকে ওয়াশিংটন সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে গণ্য করলেও, লেবাননের প্রধান সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তাদের বাদ দিয়ে যেকোনো স্থায়ী সমাধান কঠিন, তা ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক ফোনালাপের দাবি থেকেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন: ‘বেহেশতের গ্যারান্টি দিতে পারব না, তবে উন্নয়নের গ্যারান্টি দিতে চাই’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন