০৯:৪৪ পি.এম
ভৌগোলিক কারণে রাশিয়ার সহজ টার্গেটে পরিণত হয়েছে ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের ছোট্ট শহর নিকোপোল। শহরটি অবিরাম ড্রোন হামলার শিকার হয়ে অন্তত ৭০ জন বেসামরিক নাগরিকের প্রাণ হারিয়েছে। এর ফলে লাখখানেক জনসংখ্যার শহরটি এখন অর্ধেকে নেমে এসেছে। স্থানীয়রা বেঁচে থাকার তাগিদে আত্মরক্ষায় নানা কৌশল আবিষ্কার করেছেন।
দাতব্য সংস্থা পরিচালনাকারী কবি ওলেক্সান্ডার ভারিতসেভ বলেন, "আমরা আসলে এই বিপদের সাথে কিছুটা অভ্যস্ত হয়ে গেছি, যদিও ভয়ের অনুভূতিটা কখনই পুরোপুরি চলে যায় না।" তিনি আরও জানান, "এটি খুবই ভয়াবহ, এটা যদি আমার জন্যই এত ভীতিকর হয়, তবে আমাদের কেন্দ্রে আসা বয়স্ক পুরুষ ও নারীরা কেমন বোধ করেন তা আপনি সহজেই কল্পনা করতে পারেন।" ড্রোনের অবিরাম হুমকির কারণে মানুষ এখন আর খোলা জায়গায় দাঁড়াচ্ছে না।
নিকোপোলের আকাশ এখন ক্রমেই ড্রোন থেকে বাঁচতে জাল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, নাগরিকদের সতর্ক করতে ‘জ্যেলো’ অ্যাপ, ‘রেডিওনিকোপোল’ এবং ‘চুইকা’ নামক ডিভাইস ব্যবহার করা হচ্ছে। অধ্যাপক কারমাইন ক্লেমেন্টে জানান, "এটি একদম কিছু না থাকার চেয়ে ভালো। তবে এটি কোনো জাদুকরী সমাধান নয়। এটি আপনাকে হয়তো অন্তত কয়েক মিনিট সময় দেবে, যাতে আপনি বাস থেকে নেমে যথেষ্ট দূরে কোথাও গিয়ে লুকিয়ে পড়তে পারেন।" পরিবহন কোম্পানির মালিক মাইকোলা কোশেলিভ বলেন, "সতর্ক থাকা ছাড়া মানুষকে নিরাপদ রাখার আর কোনো উপায় আমাদের কাছে নেই।"
আরও পড়ুন: কংগ্রেসকে পরজীবী ও রাহুলকে ব্যর্থ পণ্য আখ্যা দিলেন নরেন্দ্র মোদি
ওলেকসি কিরিলভ বর্তমানে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। ভয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "কেবল বোকারাই ভয় পায় না।" পরিস্থিতি বিপজ্জনক হলেও তিনি শহর ছাড়তে নারাজ। তার দৃঢ় বক্তব্য হলো, "হয়তো আমরা একটি তহবিল সংগ্রহ করব এবং একটি ড্রোন ডিটেক্টর কিনব, যাতে হুমকির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এটি আমাদের ঘর। আমরা এটি ছেড়ে যাব না।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন