০৫:২০ পি.এম
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার নতুনপাড়ার বসুন্ধরা আবাসিক কলোনির একটি বাড়ির কারণে সৃষ্টি হয়েছে কোটি টাকার সম্পদ নিয়ে বিরোধ। অভিযোগ রয়েছে যে, দীর্ঘদিন ধরে মেক্সিকোতে বসবাসকারী এক প্রবাসী নারী তার বড় বোন ও ভগ্নিপতির প্রতি আস্থা রেখে বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছিলেন।
সে অর্থের মাধ্যমে জমি ক্রয়, বাড়ি নির্মাণ ও বিভিন্ন সম্পদ গড়ে উঠলেও দেশে ফিরে সাজেদা নিজের নামে থাকা বাড়িতে উঠতে পারছেন না।
ভুক্তভোগী সাজেদা আক্তারের বাড়ি উপজেলার সাচনা বাজার ইউনিয়নের দুর্লভপুর গ্রামে। তিনি দীর্ঘ বছর ধরেই মেক্সিকোতে বসবাস করেছেন, আর তার স্বামী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪
নিঃসন্তান হওয়ায় সাজেদা আপন বড় বোন রংমালা ও ভগ্নিপতি তৈয়বুর রহমানকে সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করতেন।
তিনি দাবি করেছেন, বিদেশে অবস্থানকালে তিনি বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক এবং পরিচিতজনদের হাত ধরে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশে পাঠান। সেই অর্থে নতুনপাড়া এলাকার বসুন্ধরা আবাসিক কলোনিতে ৬ শতাংশ জমি কিনে এবং একটি বসতবাড়ি নির্মাণ করা হয়। জমির দলিল, নামজারি ও বিদ্যুৎ সংযোগসহ বাড়ির সকল গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সাজেদা আক্তারের নামে রয়েছে।
কিন্তু এখন তার বড় বোন রংমালা, ভগ্নিপতি তৈয়বুর রহমান এবং তাদের সন্তানরা ওই বাড়িতে বসবাস করছেন। প্রায় দুই বছর আগে দেশে ফিরে সাজেদা নিজের পাঠানো অর্থ এবং বাড়িতে বাস করার অধিকার চাইলে তাকে সেখানে উঠতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন।
নিরুপায় হয়ে সাজেদা একাধিকবার পারিবারিক এবং সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছেন। কয়েক মাস আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগেও উভয় পক্ষকে নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়। তবে রংমালা ও তার স্বামী বিভিন্ন অজুহাত দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে
ফলে এখনো কোনো সমঝোতায় আসা সম্ভব হয়নি। বিচার চেয়ে বিভিন্ন মহলে গিয়ে প্রতিকার না পেয়ে সাজেদা আক্তার শেষ পর্যন্ত জামালগঞ্জের আমল গ্রহণকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, বিদেশে অবস্থানকালে বিভিন্ন সময়ে নগদ অর্থ, ব্যাংক থেকে প্রেরিত টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, জমি ক্রয়ের অর্থ, বাড়ি নির্মাণ ব্যয় এবং অন্যান্য সম্পদ তার বড় বোন রংমালার পরিবারের জিম্মায় রেখেছিলেন। কিন্তু দেশে ফিরে হিসাবের উপর তিনি প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ ২৫ হাজার টাকার অর্থ ও সম্পদ পাচ্ছেন না। এই অর্থ ও সম্পদ ফেরত পেতে তিনি আইনি লড়াই চালাতে থাকবেন বলে জানিয়েছেন। বর্তমানে মামলাটি আদালতের নির্দেশে সিআইডিতে তদন্তের অধীনে রয়েছে।
এ ব্যাপারে সিআইডি ইন্সপেক্টর রমা প্রসাদ জানিয়েছেন, মামলাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং শীঘ্রই তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত রংমালার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, বর্তমানে যে বাড়িতে তারা বসবাস করছেন, তার দলিল, নামজারি ও বিদ্যুৎ সংযোগ সাজেদা আক্তারের নামেই রয়েছে। রংমালার দাবি, ছোট বোন সাজেদার জন্য বাড়িটি কেনার সময় তিনি ব্যক্তিগতভাবে ১ লাখ টাকা দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, সাজেদার পাঠানো অর্থসংক্রান্ত সকল দাবি-দাওয়া এবং আমার পরিবারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হলে আমি বাড়িটি ছেড়ে দিতে রাজি আছি।
আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন