০৩:০১ পি.এম
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি বলেছেন, দেশের হতাশ তরুণ সমাজ যদি ঐক্যবদ্ধ হয়, তবে বিদ্যমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটাতে পারে। তিনি ভারতীয় তরুণদের আন্দোলনের উদাহরণ টেনে বলেন, তরুণদের ‘তেলাপোকা’ বলা হোক বা অন্য কিছুযদি তারা একত্রিত হয়, তবে ‘সব কিছু উল্টে দিতে পারে’।
বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান ইকোনমিক সামিটে বক্তব্য দেওয়ার সময়, নকভি দেশের শাসনব্যবস্থার নানা দুর্বলতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমানে পাকিস্তানের ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব নয়।
নকভি উল্লেখ করেন, ‘আমরা যে ব্যবস্থার অধীনে বসবাস করছি, তা ভেঙে পড়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করে যাওয়া সম্ভব নয়।’
আরও পড়ুন: নাহিদ ইসলামকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগের আহ্বান রাশেদ খাঁনের
তিনি আরও বলেন, সাধারণ পাকিস্তানিরা কোনো অনুদান চায় না। মানুষ এমন একটি ন্যায্য ব্যবস্থা চায়, যেখানে যোগ্যতার মূল্যায়ন হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।
নকভি বলেন, ‘সাধারণ মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো—আমরা যেন ন্যায়বিচার পাই, যোগ্যতার জয় হয় এবং আমাদের কাজের সুযোগ তৈরি হয়।’
পাকিস্তানে কাঠামোগত সংস্কারের জন্য আহ্বান জানিয়ে, নকভি নতুন প্রশাসনিক ইউনিট গঠন ও স্থানীয় সরকারগুলোকে আরও ক্ষমতাবান করার প্রস্তাব দেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি ব্যাপক সংস্কার না করা হয়, তবে আগামী এক দশক পরও পাকিস্তান একই সমস্যাগুলো নিয়েই আলোচনা করতে থাকবে।
হতাশ তরুণ সমাজের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে, নকভি ভারতের তরুণদের আন্দোলনের উদাহরণ দেন। তিনি এও বলেন, ‘আপনি সেই তরুণকে যুবক বলুন, তেলাপোকা বলুন বা অন্য যেকোনো কিছুই বলুন না কেন; এই তেলাপোকারা যদি ঐক্যবদ্ধ হয়, তবে তারা সবকিছু উল্টে দিতে পারে।’
আরও পড়ুন: কড়া নিরাপত্তা উপেক্ষা করে ফ্রান্সের রাজপথে লাখ লাখ বিক্ষোভকারী
পাকিস্তানে চলমান অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব, রাজনৈতিক বিভাজন, বেলুচিস্তান, পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর ও খাইবার পাখতুনখোয়ার সহিংস আন্দোলনের মধ্যেই নকভি এসব মন্তব্য করেছেন।
তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও বাংলাদেশে তরুণদের আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে। গত মাসে ভারতের তরুণদের আন্দোলনও দেশটির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠান শেষে নকভি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, পাকিস্তানের সমস্যাগুলো কেবল সামরিক নেতৃত্বের পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়। দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, ‘রাজনীতিবিদরা যতক্ষণ না দেশের ব্যবস্থা ঠিক করছেন, ততক্ষণ ফিল্ড মার্শালের কঠোর পরিশ্রম কোনো উপকারে আসবে না।’
নকভি আরো বলেন, আসিম মুনির সবসময় গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। পাশাপাশি সুশাসন নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তথ্যসূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া।
আরও পড়ুন: মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক আদালত এগিয়ে যাচ্ছে: ডেপুটি প্রসিকিউটর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন