প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার চিরাপাড়া-পারসাতুরিয়া ইউনিয়নের উত্তর নীলতি সমতট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান চলছে প্রায় ৫৭ বছর ধরে জরাজীর্ণ টিনশেড ভবনে। টিনের ছাদের অসংখ্য ছিদ্র, কাদামাটির মেঝে, ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষ এবং অনুপযোগী খেলার মাঠ নিয়ে শিক্ষাকাজ চলছে চরম দুর্ভোগে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের টিনের চালায় মরিচা ধরে অসংখ্য ছিদ্র তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি পড়লেই শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যাচ্ছে। মাটির মেঝেতে কাদা পড়ে থাকে, ফলে পাঠদান বিঘ্নিত হচ্ছে। একই সঙ্গে গরমের দিনে টিনশেড কক্ষে অসহনীয় তাপমাত্রা থাকায় শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কায় থাকে। আশেপাশের নিচু খেলার মাঠে বর্ষা মৌসুমে পানি জমে গিয়ে সেটিও এখন খেলাধুলার উপযোগী নেই।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানাচ্ছে, তারা অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতো আধুনিক পাকা ভবনে বসে স্বাভাবিক পরিবেশে পড়াশোনা করতে চায়। অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী চাঁদনী ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলভি রহমান বলেছেন, "বৃষ্টি হলেই টিনের ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়। গরমের দিনে টিনশেড কক্ষে ক্লাস করা খুবই কষ্টকর। আমরা দ্রুত একটি পাকা ভবন চাই।"
বিদ্যালয়ের সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৯ সালে শাহাবুদ্দিন তালুকদারের উদ্যোগে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮৫ সালে বিদ্যালয়টি এমপিভুক্ত হয়ে বর্তমানে জরাজীর্ণ সাতটি কক্ষে ১৭০ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সীমাবদ্ধতার মধ্যে স্কুলের শিক্ষার্থীরা পাবলিক পরীক্ষাসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে।
অভিভাবকরা বলছেন, দীর্ঘদিনেও বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত কোনো উন্নয়ন হয়নি। বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। তাই শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য দ্রুত একটি বহুতল একাডেমিক ভবন নির্মাণের প্রয়োজন রয়েছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাহানারা আক্তার মন্তব্য করেছেন, "আমরা জরাজীর্ণ টিনশেড ভবনে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে চরম ঝুঁকিতে আছি। বর্ষা কিংবা ঝড়ের সময় আতঙ্ক দেখা দেয়। নতুন ভবনের জন্য একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হলেও কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত একটি পাকা ভবন নির্মাণের প্রয়োজন।"
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেছেন, "উত্তর নীলতি সমতট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবনের বিষয়ে আমাদের জানা আছে। বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সমস্যার প্রয়োজনীয় তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। ভবিষ্যতে উন্নয়ন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হলে বিদ্যালয়ের জন্য নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।"
বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, "শিক্ষার্থীদের নিরাপদ এবং মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। উত্তর নীলতি সমতট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সমস্যা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় প্রস্তাব যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে এবং ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন