১২:৫০ পি.এম
নব্বই দশকের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী অলকা ইয়াগনিক বিরল রোগে ভুগছেন। সম্প্রতি, তিনি ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মভূষণ পুরস্কার গ্রহণ করেন। সেই অনুষ্ঠানে অলকা হুইলচেয়ারে উপস্থিত ছিলেন, যা জানার পর থেকে তার স্বাস্থ্য নিয়ে ভক্তরা গভীর উদ্বেগে রয়েছেন।
২৩ জুন দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে অলকা অংশ নেন। এখানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে ‘পদ্মভূষণ’ পুরস্কার গ্রহণ করেন এই কিংবদন্তি শিল্পী। কিন্তু গায়িকার এই গৌরবময় মুহূর্ত ভক্তদের মধ্যে হতাশা তৈরি করে।
কারণ, অলকাকে ওই অনুষ্ঠানে বেশ দুর্বল দেখাচ্ছিল এবং তিনি হাঁটতে পারছিলেন না। হুইলচেয়ারে করে আসা অলকা হাঁটার জন্য একজন স্বেচ্ছাসেবকের সাহায্য নেন। প্রিয় গায়িকার এমন শারীরিক অবস্থা দেখে তার কোটি কোটি ভক্ত-অনুরাগী চরম উদ্বেগে পড়েছেন।
আরও পড়ুন: ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলামের হত্যা: গুরুদাসপুরের ওসি প্রত্যাহার, এমপি ছেলেকে ত্যাজ্য ঘোষণা
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এরকম একটি মুহূর্তের ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার পর তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। মন্তব্যের ঘরে ভক্তরা উদ্বেগ প্রকাশ করতে শুরু করেন। ভক্তদের উদ্বেগের কথা জানার পর বুধবার (২৪ জুন) অলকা ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন পোস্ট দেন। তিনি লেখেন, “বিগত দুই বছর ধরে আমি লাইমলাইট, জনসমক্ষে থেকে দূরে রয়েছি। আপনারা অনেকেই জানেন যে, আমি এক কঠিন শারীরিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। বর্তমানে থেরাপির মাধ্যমে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছি। একটাই প্রার্থনা, কঠিন লড়াই জয় করে যেন খুব দ্রুত আবার গানের জগতে ফিরতে পারি।”
অলকা ‘পদ্মভূষণ’ পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে বলেন, “এ সম্মান অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। আজ আমি যখন এটি নিতে মঞ্চে পা রেখেছিলাম, আমার মন কৃতজ্ঞতায় ভরপুর ছিল। আমি ধীরে ধীরে সুস্থতার পথে ফিরছি। আজ এখানে আসা শুধু নিজের জন্য নয়, আমার সেসব শ্রোতার জন্য যারা চড়াই-উতরাইয়ের মাঝেও আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন।”
২০২৪ সালে অলকা প্রথমবার জানিয়েছিলেন, বিমান থেকে নামার পর তিনি আর কিছু শুনতে পারছেন না। চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করার পর জানতে পারেন বিরল স্নায়ুজনিত বধিরতা বা 'সেন্সোরিনিউরাল হিয়ারিং লস'-এ আক্রান্ত হয়েছেন। এই রোগে কান থেকে মস্তিষ্কে শব্দ সংকেত পৌঁছানোর প্রধান স্নায়টি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা শারীরিক জটিলতা তৈরি করতে পারে।
সংগীত জগতে অলকা ইয়াগনিক অসংখ্য কালজয়ী গান উপহার দিয়েছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কুছ কুছ হোতা হ্যায় সিনেমার টাইটেল সং, সাজন সিনেমার মেরা দিল ভি কিতনা পাগল হ্যায়, মোহরা সিনেমার টিপ টিপ বারসা পানি, ধাড়কান সিনেমার দিল নে ইয়ে কাহা হ্যায় দিল সে, তামাশা সিনেমার আগার তুম সাথ হো, ক্যায়ামত সে ক্যায়ামত তক সিনেমার অ্যায় মেরে হামসাফার।
আরও পড়ুন: ঘোষণা দিয়েও নিরাপত্তার কারণে ঢাকা-রিয়াদ সরাসরি ফ্লাইট চালু করতে পারল না সৌদি এয়ারলাইন্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন