০৪:৫৩ পি.এম
কাতারে আটক ইরানি পাইলটদের সঙ্গে সাক্ষাত করতে একটি বিশেষজ্ঞ দলের অনুমতি দিতে কাতার সম্মতি জানিয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের একজন সামরিক কর্মকর্তা। সাংবাদিকদের জানান, একই সঙ্গে তাদের অবস্থা নির্ণয় এবং দেশে ফিরিয়ে আনতে তেহরান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
শনিবার এই তথ্যে জানিয়েছেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের ‘মিসিং ইন অ্যাকশন সার্চ কমিটি’র কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ বাকেরজাদেহ। তিনি বলেন, কাতার ও কুয়েতে আটক ইরানি বন্দীদের বিষয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি)-কে দ্রুত কাতারে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন। বাকেরজাদেহের দাবি, আটক পাইলটরা গুরুতর আহত ও অসুস্থ। কাতার সরকারের সম্মতি এবং সহযোগিতার ওপরে তিনি স্বাগত জানান।
আরও পড়ুন: যশোরে ট্রেনে কাটা পড়ে ৪৫ বছর বয়সী নারীর মৃত্যু
অন্যান্য বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। বাকেরজাদেহ বলেন, পাইলটদের যেখানে রাখা হয়েছে, সেই স্থানটি উপযুক্ত নয়। তাদের দ্রুত স্থলভাগে নিয়ে একটি সুসজ্জিত হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য কাতার সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি কুয়েতে আটক অন্যান্য ইরানি নাগরিকদের সম্পর্কে বলেন, কুয়েত সরকার প্রথমে ওই বন্দীদের সঙ্গে রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাতের জন্য সম্মতি দিয়েছে। তার মতে, এটি তাদের দ্রুত মুক্তির বিষয়ে আশার আলো সৃষ্টি করেছে।
চারটি জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী চার ইরানি বন্দীর অধিকারসমূহের প্রতি সম্মান জানানোর আবেদনের পাশাপাশি পরিবারের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য তিনি কুয়েতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়াও তিনি আইসিআরসির প্রতি ভিডিও কলের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান।
বাকেরজাদেহ আশা প্রকাশ করেন যে, আইসিআরসি দ্রুত যোগাযোগের ব্যবস্থা করবে এবং মুক্তির জন্য জরুরি ভিত্তিতে কাজ করবে। আগে এ ধরনের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইরানি বন্দীদের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছতার অভাব, করপোরেট প্রতিবেদনে দুর্বলতা
আগে ইরান দাবি করেছে, গত ২ মার্চ কাতারে মার্কিন-পরিচালিত আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে অভিযানের পর তিন পাইলট নিখোঁজ হয়। গত ১৫ আগস্ট আইসিআরসির প্রেসিডেন্টের কাছে চিঠি দিয়ে তিনি নিখোঁজ পাইলটদের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান।
বাকেরজাদেহ দাবি করেন যে, ইরানের বিমানবাহিনীর দুটি যুদ্ধবিমান ওই অভিযানে অংশগ্রহণ করেছিল। যুদ্ধের সময় পাইলটরা বেরিয়ে আসতে বাধ্য হন। তিনি নিহত পাইলট এবং আটক পাইলটদের নাম উল্লেখ করেছেন এবং জানান যে কাতারি বাহিনী তাদের জীবিত অবস্থায় আটক করেছে।
তিনি বলেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পরও তেহরান তাদের সঙ্গে দেখা করতে কিংবা যোগাযোগ করতে পারেনি। যুদ্ধবন্দীদের অধিকার বিষয়ক তৃতীয় জেনেভা কনভেনশনের কথা উল্লেখ করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে দ্রুত এই যোগাযোগের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান তিনি।
এছাড়া ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, কাতারী সরকার তাদেরকে নিয়ে কোনো তথ্য নেই।
আরও পড়ুন: হেবরনে ইসরায়েলি অভিযানে বাস্তুচ্যুত ৩০০ ফিলিস্তিনি পরিবার
সূত্র: তাসনিম নিউজ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন