প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হুমায়ুন কবির, নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, জানান, তাড়াহুড়া করে নয়, আলোচনায় অগ্রগতি এবং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে উপযুক্ত সময়েই ভারত সফর করা হবে।
শনিবার (২২ আগস্ট) সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পর, সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত বরাবরই বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক ও কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে, জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস করে কোনো দেশের সঙ্গেই সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া হবে না।
ভারত সফরের বিষয়ে তিনি বলেন, আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হোক। আলোচনা ও জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করেই উপযুক্ত সময়ে ভারত সফর করা হবে। এ নিয়ে কোনো তাড়াহুড়া নেই। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ইতিবাচক সম্পর্ক রাখা প্রয়োজন। কিন্তু, ভারতসহ কোনো দেশের সঙ্গেই জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।
ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির জানান, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হত্যাসহ বিভিন্ন মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চলছে। কয়েকটি মামলার ফলও এসেছে, আবার কিছু মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে। তাই শেখ হাসিনাসহ ভারতে অবস্থানরত অপরাধীদের ফিরিয়ে আনার বিষয়টি নতুন কোনো শর্ত বা নতুন ধরনের সম্পৃক্ততার বিষয় নয়; এটি চলমান প্রক্রিয়ার অংশ। ভারতে পালিয়ে থাকা শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য অপরাধীদের ফিরিয়ে আনা বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে জড়িত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, আরও অনেক অপরাধী ভারতে পালিয়ে রয়েছেন। তাদের ফিরিয়ে আনা বাংলাদেশের মানুষের স্বাভাবিক দাবি ও অনুভূতির বিষয়। এই প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দিয়েই ভারতের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে চায় বাংলাদেশ।
ভারত সফরে কোনো তাড়াহুড়া নেই উল্লেখ করে পরমাণু প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে যদি দ্রুত কোনো বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়, তাহলে দ্রুতই সফর হতে পারে। আবার প্রয়োজন হলে আরও সময় নিয়ে সফর করা হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের সফরের আগে প্রয়োজনীয় আলোচনা ও প্রস্তুতি দরকার। এ ধরনের সফর হুট করে করা যায় না। দুই দেশের সরকারপ্রধানের বৈঠকের আগে কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা ও ভিত্তি তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশ এখন সেই প্রস্তুতিই নিচ্ছে।
ভারতের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক মনোভাব ও সদিচ্ছার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতির বিষয়টি ভারতও লক্ষ্য করেছে। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর পলাতক শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে—ভারতও বিষয়টি স্বীকার করেছে।
এটিকে ভালো সূচনা হিসেবে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন আলোচনায় আরও অগ্রগতি হয় কি না, সেটিই দেখার বিষয়। আলোচনা ও বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় সময় উপযুক্ত হলেই ভারত সফর করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন