বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৪:৩৬ পি.এম
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বৃহস্পতিবার নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন।
তিনি বলেছেন, 'অনেক দিন-অনেক রক্ত ঝরিয়ে, ব্যাপক আন্দোলনের ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে। সুতরাং পরাজিত শক্তির বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক শক্তিকে সচেতন থাকতে হবে।'
আজ বৃহস্পতিবার নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি রথযাত্রা উৎসব উপলক্ষে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের সহযোগিতা করতে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশও দেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, 'বর্তমান সরকার স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রহরী হিসেবে কাজ করছে এবং গণতন্ত্রের নিরাপত্তার প্রহরী হিসেবে কাজ করছে। সুতরাং এই সরকারের বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত আছে। পরাজিত নানা শক্তি চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র করতে পারে, ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার চেষ্টা করতে পারে। সেটা যাতে করতে না পারে, এই কারণে আমরা আগে থেকেই সবাইকে সচেতন করছি এবং আমাদের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দলের চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে তারা (নেতাকর্মীরা) যাতে একেবারে পাহারাদারের মতো কাজ করেন। হিন্দু ধর্মের ভাই-বোনদের সঙ্গে নেতাকর্মীরা একযোগে কাজ করবে। শুধু এইবারই নয়, গত দুর্গাপূজা, তার আগের দুর্গাপূজা, সব পূজাতে আমরা একইভাবে দলের নেতাদের দায়িত্ব দিয়েছিলাম।'
রিজভী আরও বলেন, 'হিন্দু ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের যে পূজা এবং তাদের উৎসবে দেশের নাগরিক হিসেবে পাশে থাকা, নিরাপত্তা বিধানের জন্য যে কাজগুলো আমরা করেছি, এবারও এই রথযাত্রা উৎসবে তাদের আয়োজনে বিএনপি একইভাবে পাশে থাকবে। কেউ যাতে কোনও উসকানি এবং এটিকে নিয়ে কোনও রাজনীতি করার সুযোগ সৃষ্টি করতে না পারে।'
তিনি যোগ করেন, 'আজ গোটা জাতি ঐক্যবদ্ধ, হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, অন্যান্য যেসব নৃগোষ্ঠী আছে, সবাই ঐক্যবদ্ধ। তারা বুঝতে পেরেছে, কারা বিভিন্ন সময়ে এই জাতির মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি চেষ্টা করেছে। গত নির্বাচন এবং নানা সম্প্রদায়ের যে পূজা-পার্বণ প্রত্যেকটিতে প্রত্যেক সম্প্রদায়ের মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করেছে, কোনও ধরনের অপশক্তি আর আমাদের এই জাতির মজবুত ঐক্যকে ভাঙতে পারবে না।'
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, 'দেশকে সামগ্রিক অগ্রগতির পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল একইভাবে কাজ করবে। অন্যান্য যেসব গণতান্ত্রিক শক্তি ও রাজনৈতিক দল আছে, তাদেরও আমরা আহ্বান জানাচ্ছি, তারাও যাতে একইভাবে কাজ করে।'
তিনি উল্লেখ করেন, 'সাধারণ মানুষ, একেবারে গরিব মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য কর্মসূচি নিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, পরবর্তীতে হেলথ কার্ড- এগুলোতে সরকার গঠনের পরের দুই-তিনদিন থেকেই প্রধানমন্ত্রী বাস্তবায়ন করে গেছেন। খাল কাটার মাধ্যমে আমাদের নদী-নালাকে আরও বেশি প্রাণবন্ত, আরও বেশি সজীব করে তোলা হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে বন্যার সময় খালে পানি জমবে এবং শুকনো মৌসুমে এটা দিয়ে সেচ কাজ করা হবে, মৎস্য চাষ করা হবে। এই কারণেই তিনি এই বৃহৎ কর্মসূচি, যেটা তাঁর বাবা নিয়েছিলেন, যেটা তাঁর মা নিয়েছিলেন- সেটিকে নিষ্পন্ন করার জন্য, তিনি দিন-রাত বাংলার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছেন।'
প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের খাবার কর্মসূচি প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, 'স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে প্রায় ১৫০ উপজেলায় ৩০ লাখ প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার্থীকে তাদের পুষ্টি এবং স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য টিফিন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।'
এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি তৌহিদুর রহমান আউয়াল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের কারণে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে আহত সিয়াম মুক্তার ভূঁইয়া (২০) নামে একজন যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।
এ ঘটনায় আরও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার (৮ জুলাই) রাত ৯টার দিকে উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের লস্করদী গ্রামের ছাপড়া মসজিদ এলাকার কাছে। নিহত সিয়াম ওই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, একই বংশের সদস্য মতিন (৫০) এবং দেলোয়ার (৪৮)-এর মধ্যে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
একটু আগে সালিস আহ্বান করা হলেও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। এর ফলস্বরূপ বুধবার রাতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং সংঘর্ষ শুরু হয়। ফলে সিয়াম, মতিন, দেলোয়ার, মামুনসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়ে পড়েন। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
সেখানে সিয়ামের অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে তার মৃত্যু ঘটে।
স্থানীয় সূত্র মতে, মতিন স্থানীয় ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হিসেবে পরিচিত। অপরপক্ষে, দেলোয়ার আওয়ামী লীগ সমর্থক হিসেবে পরিচিত। যদিও পুলিশ বলছে, সংঘর্ষের মূল কারণ হচ্ছে দীর্ঘদিনের জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধ।
আড়াইহাজার থানার ওসি (তদন্ত) রিপন কুমার বলেন, 'জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘর্ষে আহত এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। নিহতের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বান্দরবানে বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে কাজ করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ।
বান্দরবানে বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কাজ করছে ।
আজ বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিগত কয়েক দিনের টানা অতিবৃষ্টির ফলে বান্দরবান জেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসের সৃষ্টি হয়েছে। এই মানবিক দুর্যোগে বান্দরবান জেলা শহরের সঙ্গে বিভিন্ন উপজেলার বিশেষ করে রোয়াংছড়ি উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
এছাড়াও, এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে এবং ধ্বংসাবশেষ জমে মূল সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে, তার ফলে জনসাধারণ চরম দুর্ভোগে পড়ে।
এতে আরও বলা হয়, সংকট নিরসনে বিজিবি’র বান্দরবান সেক্টর সদর দপ্তরের সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। বিজিবি সদস্যরা নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে সড়কে উপড়ে পড়া গাছ ও ধ্বংসাবশেষ অপসারণ করে বান্দরবানের সঙ্গে আন্তঃযোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করেন। ফলে যান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
এছাড়াও গাছ ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি মেরামতের কাজেও বিজিবি সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত সহায়তা প্রদান করছেন। বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত সচল করার লক্ষ্যে এই যৌথ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বুশেহর প্রদেশে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এই প্রদেশে অবস্থিত দেশটির একমাত্র সচল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি রয়েছে।
বৃহস্পতিবার দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা।
তবে, বিস্ফোরণের শব্দের উৎস বা সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি বলে জানায় প্রতিবেদনে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধে বুশেহর পারমাণবিক স্থাপনাটি একাধিকবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল। এই হামলার ফলে সম্ভাব্য পারমাণবিক দুর্ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টানা ভারি বৃষ্টি এবং ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদিও অধিকাংশ নদীর পানি বিপদসীমার নিচে রয়েছে, তথাপি কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। এর ফলে সিলেট এবং সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে টানা বর্ষণে পাহাড় ও টিলা ধসের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সিলেট জেলা প্রশাসন ৫৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে। পাশাপাশি ১৬০টি ঝুঁকিপূর্ণ টিলা চিহ্নিত করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসন জানাচ্ছে, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় সকল উপজেলায় পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুত রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ টিলা ও পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের প্রয়োজন হলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও গ্রহণ করা হয়েছে।
বুধবার (০৮ জুলাই) বিকালে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, আগামী তিন থেকে চার দিন ভারতের মেঘালয় অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে পাহাড়ি ঢলের পানি সিলেটের নদী-নদীতে নেমে এসে পানির স্তর আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে সীমান্ত পার্শ্ববর্তী কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যা অথবা ফ্ল্যাশ ফ্লাড দেখা দিতে পারে।
পাউবো জানিয়েছেন, বর্তমানে অধিকাংশ নদীর পানি বিপদসীমার নিচে থাকলেও অমলশিদ ও কানাইঘাটসহ কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে। তবে উজানের পানি দ্রুত মেঘনা অববাহিকায় নেমে যাওয়ার কারণে সম্ভাব্য বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ঝুঁকি কম। সুতরাং, নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি দুই থেকে তিন দিনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন জানান, আগামী ৭২ ঘণ্টা সিলেট বিভাগের মধ্যে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) সিলেটের বিভাগীয় সমন্বয়ক শাহ সাহেদা আখতার জানিয়েছেন, সরকারি হিসাবে ঝুঁকিপূর্ণ টিলার সংখ্যা ১৬০টি হলেও বাস্তবে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি। ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্য উপস্থাপনা অনুযায়ী, প্রায় ৩৮৬টি পরিবার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করে।
তিনি বলেন, ‘২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সিলেটে টিলা ধসে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুধুমাত্র অতিবৃষ্টি নয়, নির্বিচারে টিলা কাটার কারণেই ধসের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং টিলা কাটা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ জানিয়েছেন, ‘আগামী তিন থেকে চার দিন মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে পাহাড়ি ঢল নেমে কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। তবে উজানের পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার কারণে পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা নেই।’
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, ‘সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সিটি কর্পোরেশন প্রস্তুত রয়েছে। বৃষ্টির মধ্যেও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা মাঠে কাজ করছেন। ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখতে নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে। নিচু এলাকায় পানি উঠলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে এবং আশ্রয়কেন্দ্র ও শুকনো খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।’
সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা জানিয়েছেন, ‘জেলার সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ টিলা এলাকায় বাসকারীদের সতর্ক করতে মাইকিং চলছে। প্রয়োজন হলে তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘জেলায় ১৬০টি ঝুঁকিপূর্ণ টিলা চিহ্নিত করা হয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য ৫৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হবে। পাশাপাশি সকল উপজেলায় পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুত রাখা হয়েছে এবং মাঠ প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ