প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
টানা ভারি বৃষ্টি এবং ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদিও অধিকাংশ নদীর পানি বিপদসীমার নিচে রয়েছে, তথাপি কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। এর ফলে সিলেট এবং সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে টানা বর্ষণে পাহাড় ও টিলা ধসের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সিলেট জেলা প্রশাসন ৫৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে। পাশাপাশি ১৬০টি ঝুঁকিপূর্ণ টিলা চিহ্নিত করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসন জানাচ্ছে, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় সকল উপজেলায় পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুত রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ টিলা ও পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের প্রয়োজন হলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও গ্রহণ করা হয়েছে।
বুধবার (০৮ জুলাই) বিকালে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, আগামী তিন থেকে চার দিন ভারতের মেঘালয় অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে পাহাড়ি ঢলের পানি সিলেটের নদী-নদীতে নেমে এসে পানির স্তর আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে সীমান্ত পার্শ্ববর্তী কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যা অথবা ফ্ল্যাশ ফ্লাড দেখা দিতে পারে।
পাউবো জানিয়েছেন, বর্তমানে অধিকাংশ নদীর পানি বিপদসীমার নিচে থাকলেও অমলশিদ ও কানাইঘাটসহ কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে। তবে উজানের পানি দ্রুত মেঘনা অববাহিকায় নেমে যাওয়ার কারণে সম্ভাব্য বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ঝুঁকি কম। সুতরাং, নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি দুই থেকে তিন দিনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন জানান, আগামী ৭২ ঘণ্টা সিলেট বিভাগের মধ্যে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) সিলেটের বিভাগীয় সমন্বয়ক শাহ সাহেদা আখতার জানিয়েছেন, সরকারি হিসাবে ঝুঁকিপূর্ণ টিলার সংখ্যা ১৬০টি হলেও বাস্তবে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি। ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্য উপস্থাপনা অনুযায়ী, প্রায় ৩৮৬টি পরিবার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করে।
তিনি বলেন, ‘২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সিলেটে টিলা ধসে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুধুমাত্র অতিবৃষ্টি নয়, নির্বিচারে টিলা কাটার কারণেই ধসের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং টিলা কাটা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ জানিয়েছেন, ‘আগামী তিন থেকে চার দিন মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে পাহাড়ি ঢল নেমে কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। তবে উজানের পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার কারণে পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা নেই।’
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, ‘সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সিটি কর্পোরেশন প্রস্তুত রয়েছে। বৃষ্টির মধ্যেও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা মাঠে কাজ করছেন। ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখতে নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে। নিচু এলাকায় পানি উঠলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে এবং আশ্রয়কেন্দ্র ও শুকনো খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।’
সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা জানিয়েছেন, ‘জেলার সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ টিলা এলাকায় বাসকারীদের সতর্ক করতে মাইকিং চলছে। প্রয়োজন হলে তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘জেলায় ১৬০টি ঝুঁকিপূর্ণ টিলা চিহ্নিত করা হয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য ৫৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হবে। পাশাপাশি সকল উপজেলায় পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুত রাখা হয়েছে এবং মাঠ প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন