বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০২:১৩ এম
রাজশাহীতে ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় নগরীর আলুপট্টি এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে শহীদ সাকিব আনজুমের পরিবারের সঙ্গে বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির।
সাক্ষাৎকালে পুলিশ কমিশনার শহীদ সাকিবের বাবা-মায়ের বক্তব্য শোনেন এবং হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল-পরবর্তী সকল আইনগত প্রক্রিয়ায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন।
এছাড়াও পরিবারের বসতভিটা সংক্রান্ত প্রতিবেশীদের সঙ্গে চলমান বিরোধের বিষয়টি আইনগতভাবে নিষ্পত্তির জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতারও আশ্বাস প্রদান করেন কমিশনার।
এ ছাড়াও পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক পুলিশি নজরদারি অব্যাহত রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশনা প্রদান করেন।
এসময় শহীদ সাকিব আনজুমের পরিবারের সদস্যরা পুলিশ কমিশনারের আগমনে আন্তরিক সন্তোষ প্রকাশ করেন।
একই সঙ্গে হত্যা মামলার দ্রুত তদন্ত সম্পন্নকরণ, নিয়মিত খোঁজ-খবর গ্রহণ এবং সার্বিক সহযোগিতার জন্য রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) ও মুখপাত্র মো. গাজিউর রহমান, পিপিএম, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (বোয়ালিয়া) নাসিদ ফরহাদ, সহকারী পুলিশ কমিশনার (বোয়ালিয়া) মোসা. আরজিনা খাতুন, মিডিয়া সেলে কর্মরত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর নোমান প্রমুখ।
এদিকে, পুলিশ কমিশনারের শহীদ পরিবারের বাড়িতে এসে খোঁজ-খবর নেওয়া ও তাদের আশ্বস্ত করায় শহীদের এলাকা জুড়ে প্রশংসায় ভাসছেন আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত 'জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় প্রদর্শিত তথ্যচিত্রে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ ও অবদান যথাযথভাবে উপস্থাপিত না হওয়ায় যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, সে জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ দুঃখ প্রকাশ করা হয়।
রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে বিষয়টি উত্থাপিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী উপস্থিত অতিথিদের উদ্দেশে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন এবং তথ্যচিত্রে কোনো ধরনের ত্রুটি বা অসম্পূর্ণতা থেকে থাকলে তা দ্রুত সংশোধনের আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীরও এই অনিচ্ছাকৃত ত্রুটির জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পুনরায় জানানো হচ্ছে যে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাসের যথার্থতা ও পূর্ণাঙ্গতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার মতামতের ভিত্তিতে তথ্যচিত্রটি সংশোধন করে শিগগিরই পুনরায় জনসম্মুখে উন্মুক্ত করা হবে।
এতে বলা হয়, প্রদর্শিত তথ্যচিত্রে জুলাই আন্দোলনের ধারাবাহিকতার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, বিশেষ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ভূমিকা, ৯ দফা কর্মসূচি, ৩ আগস্ট ঘোষিত এক দফা এবং সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক ঘটনাবলির যথাযথ প্রতিফলন না হওয়া ছিল সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত।
কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা গণ-অভ্যুত্থানে অবদান রাখা কোনো পক্ষের ভূমিকা খাটো করা, উপেক্ষা করা বা ইতিহাসের কোনো অংশকে আড়াল করার কোনো উদ্দেশ্য মন্ত্রণালয়ের ছিল না এবং নেই।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাসকে নির্ভুল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও তথ্যভিত্তিকভাবে সংরক্ষণে অঙ্গীকারাবদ্ধ। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, গবেষক এবং আন্দোলনের প্রতিনিধিদের মতামত গ্রহণ করে তথ্যচিত্রটি প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জনের উদ্যোগ ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, সংশোধিত তথ্যচিত্র দ্রুত পুনরায় জনসমক্ষে উন্মুক্ত করা হবে, যাতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রকৃত ইতিহাস, ঘটনাপ্রবাহ, সংশ্লিষ্ট সবার গুরুত্বপূর্ণ অবদান, যথাযথ মর্যাদা ও ঐতিহাসিক সত্যতা নিষ্ঠার সঙ্গে উপস্থাপিত হয়।
এতে আরো বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ ঘটনায় সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য আবারও আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করছে এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণে সবার গঠনমূলক মতামত, সহযোগিতা ও সহমর্মিতা কামনা করছে। সত্যনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইতিহাস সংরক্ষণই মন্ত্রণালয়ের অঙ্গীকার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেন, জুলাই কারও একার নয়, জুলাই বাংলাদেশের সব মানুষের। যদি বিনা কারণে, বিনা অজুহাতে, বিনা ইস্যুতে দেশের অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে স্বৈরাচারের দোসর ও ফ্যাসিবাদের অনুসারীরা এর সুবিধা নিতে পারে।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, তারা আমাদের মধ্যে বিভক্তি দেখতে চায়। তাই আমাদের সকলের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং সতর্ক থাকতে হবে।
আজও স্বৈরাচারের দোসররা এই দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে। যারা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চান, তারা প্রকৃতপক্ষে ফ্যাসিবাদেরই সুবিধা করে দিচ্ছেন।
তাহলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সমস্ত গণতন্ত্রকামী এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
গত বুধবার (৫ আগস্ট) বিকালে টাঙ্গাইল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে জুলাই শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক (সানু), ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) টাঙ্গাইল জেলা শাখার আহ্বায়ক ডা. এমএ মতিনসহ অনেক সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা।
বিএনপির প্রচার সম্পাদক টুকু বলেন, বিএনপি কখনো গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে যায়নি। তিনি বলেন, ১৯৭১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে BNP নেতৃত্ব দিয়েছে। বিএনপি জনগণের দল, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পথ চলে।
এখন তিনি জানান, এই ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের দীর্ঘ ১৭ বছরে ইলিয়াস আলী থেকে শুরু করে অসংখ্য মানুষ গুম হয়েছেন। আর ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি শহীদ হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, জুলাইয়ের চেতনা ছিল একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা। আমাদের সকলের প্রত্যাশা হল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়া। সেই প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সরকারের কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাত্র সাড়ে পাঁচ মাস আগে একটি বিধ্বস্ত অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। বাজেট পাস হয়েছে, কাজ শুরু হয়েছে। জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে বিএনপিকে নির্বাচিত করেছে, ইনশাআল্লাহ প্রধানমন্ত্রী সেই প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবেন।
জুলাই যোদ্ধাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা কর্মসংস্থানের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। আমি আমার অবস্থান থেকে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব। আরও আমি টাঙ্গাইলের নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে বলতে চাই, সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কার্ডধারী প্রত্যেক জুলাই যোদ্ধার বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেব।
‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই চেতনাকে বুকে ধারণ করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব যাতে কোনোভাবে অন্যের হাতে ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
এর আগে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। আহত জুলাই যোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং উপস্থিত অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে জেলার ১২টি উপজেলায় ৩০ জন জুলাই যোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য রাখেন। পরে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
এর আগে সকালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে টাঙ্গাইলে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়। দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গত সপ্তাহে ঢামেকের আইসিইউর সামনে ছেলের শেষ অবস্থা দেখে মা মাতোয়ারা বেগম কাঁদছিলেন। সংগৃহীত ছবিতে দেখা যাচ্ছে তার দুঃখ।
পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মিজানুর রহমান মনির, যিনি মনির খান নামেও পরিচিত, মারা গেছেন। তার বয়স ছিল ৪৮ বছর। তিনি প্রায় দুই মাস ধরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পুরাতন বার্ন ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এর আগে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার হাতে হাতকড়া পরা একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সেটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
মিজানুর রহমান পটুয়াখালী সদর উপজেলার বহালগাছিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল খালেক খানের ছেলে ছিলেন। তিনি সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সদর উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জেলা যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অতিরিক্তভাবে, তিনি বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় ফেডারেশনের সহসভাপতি হিসেবেও দায়িত্বরত ছিলেন।
গত বছরের জুন মাসে গ্রেপ্তার হওয়ার পর মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে মোট ৮টি মামলা করা হয়েছিল। তার মৃত্যুর ৭ দিন আগে, ৩০ জুলাই তার জামিন মঞ্জুর হয় বলে পরিবারের সূত্র জানায়।
মিজানুর রহমানের ভাগনে সিরাজ মুন্সী বলেন, "২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে মিজানুর রহমান আত্মগোপনে ছিল।" গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর মিন্টু রোড থেকে তাকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।
তার বিরুদ্ধে ঢাকায় ছয়টি এবং পটুয়াখালী সদর উপজেলায় দুটিসহ মোট আটটি মামলা করা হয়। জামিন পেলেও পরে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। প্রায় ১১ মাস তিনি কারাগারে ছিলেন। যদিও বিভিন্ন মামলায় জামিন পেলেও অন্য মামলায় তাকে কারাগারে থাকতে হয়েছিল।
সিরাজ মুন্সী জানান, এরপর থেকে তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন। গত ৯ জুন কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত রোগে (স্ট্রোক) আক্রান্ত হন। এ কারণে কারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে কারারক্ষীরা তাকে ঢামেক হাসপাতালের পুরাতন বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে ভর্তি করেন। ৩০ জুলাই আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরও তার শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবস্থা হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছিল।
স্বজনরা জানান, আইসিইউতে থাকা অবস্থায় মিজানুর রহমানের হাতে হাতকড়া থাকার একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হলে তা নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। শরীরের প্রতিটি স্পন্দন যন্ত্রগুলোর মাধ্যমে পরিমাপ হচ্ছে, তখন শুধুমাত্র একটি হাতকড়া যেন চিকিৎসার ভাষাকেও অতিক্রম করেছিল, যা তার ডান হাতে ঝুলছিল। ছবিটি ভাইরাল হওয়ার পরে তার সব মামলায় জামিন হয়। তবে অতি শীঘ্র মুক্তি মেলেনি তার। মৃত্যুর পর, তার লাশ গ্রামে নিয়ে আসা হচ্ছে।
মিজানুর রহমানের স্ত্রী, সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সালমা জাহান জানিয়েছেন, স্বামী হাসপাতাল ভর্তি হওয়ার পরও প্রায় এক মাস হাতকড়া পরে ছিলেন। তিনি বলেছেন, "হাসপাতালে ভর্তির দুদিন পর আর কিছুই মনে করতে পারছিল না। আমাকেও চিনতে পারছিল না। তার পুরো শরীর প্যারালাইজড হয়ে গিয়েছিল। চিকিৎসকরা যখন জানিয়ে দেন, রোগীকে ফিরিয়ে আনা কঠিন, তখন দায়িত্বে থাকা পুলিশ হাতকড়াটি খুলে দেয়। কিন্তু তখন পর্যন্ত সে প্রায় মৃত। শেষ পর্যন্ত হাতের শিকল খুললেও তাকে ফিরিয়ে আনতে পারিনি।"
ছেলের সর্বশেষ অবস্থা দেখে গত সপ্তাহে ঢামেক হাসপাতালে ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন বিভাগের আইসিইউর সামনে মা মাতোয়ারা বেগম কাঁদছিলেন। তিনি তখন বলেছিলেন, “আমার ছেলে আমাকে চিনে না।”
মিজানুর রহমানের চাচা আবদুল কালাম আজাদ বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে তাকে নিজ বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ বৃহস্পতিবার রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের ৪২তম শাহাদাতবার্ষিকী। এবারও বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাঁর স্মরণে দোয়া ও মিলাদ, কোরআন খতম, এতিম ও দুস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার পরিবার এবং রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান স্মৃতি কমিটির তরফে সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু, শাহিনা খান জামান ও জুবাইদা রহমানের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব বিষয় জানানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের অবদান স্মরণে প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁকে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে তাঁর কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মসজিদে কোরআন খতম, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এবং বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন এতিমখানা, মাদরাসা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া এবং দুস্থ মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হবে।
এছাড়া ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এবং যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরেও তাঁর স্মরণে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এবং ধর্মীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়, সাবেক নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান ১৯৩৪ সালের ৩ নভেম্বর সিলেটের বিরাহিমপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি ঢাকা কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষে ১৯৫২ সালে পাকিস্তান নৌবাহিনীতে যোগদান করেন এবং যুক্তরাজ্যের রয়াল নেভাল কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। তাঁর বাবা আহমেদ আলী খান ছিলেন ভারত বর্ষের প্রথম মুসলিম ব্যারিস্টার।
কর্মজীবনে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদ অলংকৃত করেন। ১৯৭৯ সালের ৪ নভেম্বর তিনি বাংলাদেশের তৃতীয় নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ১৯৮০ সালে রিয়ার অ্যাডমিরাল পদে উন্নীত হন।
রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব পান। নৌবাহিনীর পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ সরকারের যোগাযোগমন্ত্রী (রেলপথ, সড়ক ও নৌপরিবহন) হিসেবেও অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এ ছাড়া তিনি সশস্ত্র বাহিনীর বেতন ও পেনশন কমিটির চেয়ারম্যান এবং প্রশাসনিক পুনর্গঠন জাতীয় বাস্তবায়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন।
১৯৮৪ সালের ৬ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর অসাধারণ কর্মজীবনকে তুলে ধরতে রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান মেমোরিয়াল মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
এ ছাড়া তাঁর জন্মভূমি সিলেটে হৃদরোগ প্রতিরোধ ও সচেতনতায় ইনস্টিটিউট অব প্রিভেন্টিভ কার্ডিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ এবং মাহবুব আলী খান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট স্থাপনের কাজ চলছে, যার মাধ্যমে দুস্থ ও অসহায় রোগীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ