১০:৪১ এম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) মার্কেটিং বিভাগের নতুন সভাপতি হিসেবে অধ্যাপক ড. আব্দুস শহীদ মিয়াকে নিয়োগ দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেনএম মতিনুর রহমান। যদিও বিভাগটির বর্তমান সভাপতির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।
অবশ্য বিভাগটিতে একাধিক যোগ্য শিক্ষক রয়েছে, কিন্তু তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে সকাল ৯টা থেকে বিভাগের সভাপতি নিয়োগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন শুরু করেছে। তারা নিজেদের বিভাগের শিক্ষকদের মধ্যে থেকে সভাপতি নিয়োগের দাবি জানাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: সৌদি রুটে ১৪৪ ফ্লাইট স্থগিত, ২২ হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে
শিক্ষার্থীরা বলেছেন, তাদের কাছে একাধিক যোগ্য শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও অন্য বিভাগ থেকে সভাপতি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অতএব, এটি স্পষ্ট যে বিধিমালা লঙ্ঘন হয়েছে। মার্কেটিং বিভাগ থেকেই সভাপতি নিয়োগ দিতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি নিয়োগ বিষয়ক বিধিমালা অনুযায়ী— একটি বিভাগে সর্বোচ্চ ক্যাটাগরীতে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্য থেকে সবচেয়ে সিনিয়র শিক্ষককে সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর রোটেশন পদ্ধতির মাধ্যমে পরবর্তীতে নিয়োগ প্রদান করা হবে।
যদি বিভাগের সভাপতি হওয়ার যোগ্য কোনো শিক্ষক (নূন্যতম সহকারী অধ্যাপক পদে কর্মরত) না থাকে তাহলে বর্তমান সভাপতিকে পুনরায় পুনঃমেয়াদের জন্য নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে বর্তমান সভাপতি যদি অন্তবর্তীকাল ধরে সভাপতি হওয়ার জন্য সম্মত না হন, তাহলে সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডীনকে সেই দায়িত্ব দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুকে ঠেকাতে বিদেশ থেকে দেশে ফিরছেন হাজার হাজার ইসরাইলি
এদিকে, রেজিস্ট্রার দপ্তরের তথ্যানুযায়ী— মার্কেটিং বিভাগে বর্তমানে পাঁচজন শিক্ষক আছে। তারা সকলেই সহকারী অধ্যাপক। তাদের মধ্যে একজন শিক্ষক পূর্বে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন এবং অন্য একজন শিক্ষকের সভাপতির মেয়াদ আজ (১৭ আগস্ট) শেষ হয়েছে। বিধি অনুযায়ী বিভাগের অন্যান্য তিন শিক্ষক সভাপতি হওয়ার যোগ্য বলে বিবেচনা করা হয়েছে।
কিন্তু এই নিয়ম লঙ্ঘন করে বিভাগের নতুন সভাপতির পদে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুস শহীদ মিয়াকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিনি মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষকও নন। ফলে, বিভাগের যোগ্য শিক্ষকদের থাকার পরেও অন্য বিভাগ থেকে সভাপতি নিয়োগ দেওয়ায় বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিভাগটির ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শুভ মিয়া বলেন, আমাদের বিভাগটি অল্প শিক্ষক দিয়েই সেশনজটবিহীন সুন্দরভাবে এতদিন পরিচালিত হয়েছে। বিভাগের সভাপতি হওয়ার মতো সিনিয়র শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও অনুষদের ডিনকে নিয়োগ দেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত। আমরা এই বিষয়টি কোনভাবেই মেনে নিতে পারছি না। অন্য বিভাগ থেকে সভাপতি হলেই সেশনজট তৈরি হতে পারে, কারণ তারা বিভাগের প্রতি যত্নশীল থাকে না। আমরা চাই আমাদের বিভাগের শিক্ষকদেরই সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হোক।
এই বিষয়ে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক বলেন, নিয়মানুযায়ী বিভাগের পরবর্তী সিনিয়রকেই সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে এই বিষয়ে আমি স্পষ্ট কিছু বলতে পারবো না। উপাচার্য যেভাবে দিয়েছেন, আমি সেভাবেই চিঠি স্বাক্ষর করেছি।
আরও পড়ুন: শাহজালাল রুমিকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান হয়নি: রাশেদ খাঁন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন