০৯:৫০ পি.এম
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন গাইবান্ধা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে যান। হাসপাতালের নাজুক অবস্থা দেখে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনিয়ম, দুর্নীতি, ওষুধ সংকট ও সার্বিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও তিনি দিয়েছেন। এছাড়া, তিনি গাইবান্ধায় ১০১ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
গত রোববার (২ আগস্ট) দুপুরের পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী কোনো প্রটোকল ছাড়াই গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে পরিদর্শনে আসেন। তিনি হাসপাতালে জরুরি বিভাগ, বিভিন্ন ওয়ার্ড, ওষুধ ভাণ্ডার ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনের সময় রোগী ও তাদের স্বজনদের কাছ থেকে নার্সদের দায়িত্বে অবহেলা, প্রয়োজনীয় ওষুধ না পাওয়া, এবং চিকিৎসাসেবায় ভোগান্তির বিষয়গুলো শোনেন। এ সময় তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। রোগীদের অভিযোগ শোনার পর তিনি বলেন, "জনগণের সেবার জন্য এই হাসপাতাল। এখানে এমন অব্যবস্থাপনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।"
মন্ত্রী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা চালিয়ে বলেন, গাইবান্ধার চিকিৎসাসেবা আরও সহজ করতে সরকার উপজেলা পর্যায়ে ১০১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এতে সদর হাসপাতালের ওপর চাপ কমবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা, পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন, সংসদ সদস্য আব্দুল করিম, সিভিল সার্জন ডা. রফিকুজ্জামানসহ স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
আরও পড়ুন: বিএমপি কমিশনারের উদ্যোগে পুলিশ লাইন্সের পুকুরে মৎস্যপোনা অবমুক্ত, উৎপাদন বৃদ্ধি ও পুষ্টি চাহিদা পূরণের প্রত্যাশা
মন্ত্রী আরও জানান, এর আগে তিনি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। এ সময় হাসপাতালে ওষুধ থাকা সত্ত্বেও রোগীদের ওষুধ না দেওয়া এবং অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগে মেডিকেল অফিসার ডা. জিল্লুর রহমান ও উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হেদায়েতুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন।
যখন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনকালে কুকুরের কামড়ে আহত সামছুন নাহার নামে এক রোগীর স্বজনের সঙ্গে মন্ত্রীর দেখা হয়। তখন তিনি ওই রোগীর জন্য জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দেখতে পান এবং জানতে পারেন, ভ্যাকসিনটি কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। রোগীর স্বজন জানান, তারা ১ হাজার ৩০ টাকা দিয়ে বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনেছেন। রোগীর স্বজনরা বলেছিলেন, "সকালেই সামছুন নাহারকে কুকুর কামড় দেয়। পরে তিনি ভ্যাকসিন নিতে আসলে কর্তৃপক্ষ জানায়, হাসপাতালে ভ্যাকসিন নেই।" বাধ্য হয়ে তারা বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনে আনেন।
পরে মন্ত্রী বগুড়া আদালতে সাক্ষ্য দিতে যাওয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাসুদুর রহমান আকন্দের কাছে জানতে চান, সরকারি অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন হাসপাতালের মধ্যে থাকার পরও কেন তা সরবরাহ করা হয়নি। সে সময় মন্ত্রী মেডিকেল অফিসার ডা. জিল্লুর রহমান ও উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হেদায়েতুল ইসলামের ওপর ক্ষুব্ধ হন এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাসুদুর রহমান আকন্দ জানান, যাওয়ার সময় মন্ত্রী অভিযুক্ত চিকিৎসককে রোগীর ভ্যাকসিন বাবদ খরচ হওয়া ১ হাজার ৩০ টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেন, পরে ওই চিকিৎসক রোগীকে ওই অর্থ ফেরত দেন।
আরও পড়ুন: ৭নং জগদল ইউনিয়ন বিএনপির কর্মীসভা অনুষ্ঠিত, ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মীদের মূল্যায়নের দাবি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন